| বঙ্গাব্দ

২০২৬ নির্বাচন: উত্তরার জনসভায় তারেক রহমানের পরিবর্তনের ডাক ও উন্নয়ন অঙ্গীকার

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 28-01-2026 ইং
  • 1413158 বার পঠিত
২০২৬ নির্বাচন: উত্তরার জনসভায় তারেক রহমানের পরিবর্তনের ডাক ও উন্নয়ন অঙ্গীকার
ছবির ক্যাপশন: তারেক রহমান

১৭ বছর শুধু গল্প শুনেছি, এবার পরিবর্তনের পালা': উত্তরায় তারেক রহমান

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

বাংলাদেশের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু এখন ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচন। এই নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশজুড়ে বইছে পরিবর্তনের হাওয়া। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে রাজধানীর উত্তরায় এক বিশাল নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশবাসীকে এক নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখিয়েছেন। দীর্ঘ ১৭ বছরের রাজনৈতিক অচলায়তন ভেঙে জনগণের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনার এই লড়াইকে তিনি 'চূড়ান্ত সংস্কারের লড়াই' হিসেবে অভিহিত করেছেন।

১৭ বছরের বঞ্চনা ও গ্যাস সংকটের সমাধান

রাত দেড়টায় কানায় কানায় পূর্ণ উত্তরার আজমপুর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে উপস্থিত জনসমুদ্রের উদ্দেশ্যে তারেক রহমান বলেন, "বিগত ১৭ বছর আমরা শুধু বড় বড় গল্প শুনেছি, কিন্তু মানুষের মৌলিক সমস্যার কোনো সমাধান দেখিনি। জনগণ প্রতি মাসে নিয়মিত গ্যাস বিল দিলেও চুলায় গ্যাস পায় না।" তিনি অভিযোগ করেন, গত দেড় দশকে পরিকল্পিতভাবে নতুন গ্যাসকূপ খনন করতে দেওয়া হয়নি, যাতে একটি বিশেষ গোষ্ঠী লাভবান হতে পারে। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের নতুন রূপকল্প

বাংলাদেশের সামনে থাকা চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় তারেক রহমান শিল্পায়নের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, "আমাদের নতুন নতুন মিল, ফ্যাক্টরি ও কলকারখানা তৈরি করতে হবে। বেকারত্বের অভিশাপ থেকে যুবসমাজকে মুক্ত করাই আমাদের লক্ষ্য।" তিনি আরও যোগ করেন, "করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ"—এই স্লোগানকে ধারণ করেই ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যেতে হবে।

২৪-এর জুলাই বিপ্লব ও উত্তরার বীরত্ব

বক্তব্যে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে উত্তরার মানুষের আত্মত্যাগের কথা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, "চব্বিশের জুলাই আন্দোলনে উত্তরার মানুষদের অবদান বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। আপনাদের এই রক্ত বৃথা যেতে দেব না।"

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯০০ থেকে ২০২৬

বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাস মূলত বঞ্চনার বিরুদ্ধে সংগ্রামের ইতিহাস। ১৯০৫-এর বঙ্গভঙ্গ থেকে শুরু করে ১৯৪০-এর লাহোর প্রস্তাব, ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলন এবং ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ—প্রতিটি মাইলফলকই ছিল জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার। ১৯৭৫ পরবর্তী সময়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে শিল্পায়ন ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের সূচনা করেছিলেন, ২০২৬ সালের এই নির্বাচনে তারেক রহমান সেই ধারাকেই আধুনিক রূপ দিতে চাচ্ছেন।

১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্রের যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা ২০০৭-এর ওয়ান-ইলেভেন এবং পরবর্তী ১৭ বছরের শাসনামলে বাধাগ্রস্ত হয়। ২০২৪-এর 'দ্বিতীয় স্বাধীনতা'র পর ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে দেখা হচ্ছে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের শেষ সুযোগ হিসেবে। তারেক রহমান তাই আহ্বান জানিয়েছেন, ১২ তারিখের ভোটকে কেবল একটি রায় নয়, বরং 'শক্তির প্রতীকে' রূপান্তরিত করতে হবে।

বিশ্লেষণ ও উপসংহার

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের এই বক্তব্য কেবল নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি নয়, বরং এটি রাষ্ট্রের কাঠামোগত পরিবর্তনের একটি 'ভিশন'। উত্তরার এই জনসভায় তাঁর সাথে সহধর্মিনী ডা. জুবাইদা রহমান এবং দলের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতি নেতা-কর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে। ধানের শীষকে জয়ী করার মাধ্যমে তারেক রহমান একটি সমৃদ্ধ ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার যে ডাক দিয়েছেন, তা ২০২৬-এর নির্বাচনি বৈতরণী পার হতে বড় ভূমিকা রাখবে।


সূত্র: সরাসরি নির্বাচনি জনসভা (২৮ জানুয়ারি, ২০২৬), বাংলাদেশ প্রতিদিন আর্কাইভ, বাসস (BSS), এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় মিডিয়া সেল।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency