প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
রংপুর: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে উত্তরের জনপদ রংপুরে। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী জিএম কাদের বলেছেন, রংপুরের মানুষের কাছে অত্যন্ত ভালো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। রংপুর বিভাগের সব জায়গায় লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থীদের অবস্থান অত্যন্ত মজবুত। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, "বিগত দিনে অন্যায়-অত্যাচারের কারণে আমরা পার্টির ঐতিহ্য হয়তো পুরোপুরি ধরে রাখতে পারিনি, তবে এবার সুষ্ঠুভাবে ভোট ও গণনা হলে জাতীয় পার্টি অনেক বেশি আসন পাবে।"
রোববার দুপুরে রংপুর নগরীর সুপার মার্কেট এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণার সময় সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। রংপুর-৩ (সদর-সিটি আংশিক) আসনের এই প্রার্থী বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ থেকে শুরু করে ১৯৪৭-এর দেশভাগ—প্রতিটি পর্যায়েই এই জনপদ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে গেছে। ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলন, ৬৬-র ছয় দফা এবং ৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশে রাজনৈতিক পালাবদল হয়েছে বহুবার। ১৯৭৫-এর ট্র্যাজেডি, ৯০-এর এরশাদ বিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থান প্রমাণ করে যে, এ দেশের মানুষ স্বৈরতন্ত্রের বদলে গণতন্ত্রকেই বেছে নিয়েছে। ২০২৬ সালের এই আসন্ন নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক হতে যাচ্ছে, যেখানে ভোটাররা একটি বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার লক্ষ্যে ভোটাধিকার প্রয়োগের অপেক্ষা করছেন।
প্রচারণার সময় জিএম কাদের একটি বিশেষ গোষ্ঠীর সমালোচনা করে বলেন, "একটি গোষ্ঠী সাম্প্রদায়িক, সন্ত্রাসী ও উগ্রপন্থি দেশ গড়তে চায়। এই অবস্থা থেকে দেশ রক্ষার জন্য গণভোটে ‘না’ চিহ্নে ভোট দিতে হবে।" তিনি বর্তমান প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, সরকার সারা দেশকে কারাগারে পরিণত করেছে। চিহ্নিত খুনিদের ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে, আর নিরীহ মানুষকে কাল্পনিক মামলায় জেলে ঢোকানো হচ্ছে।
নারীদের কর্মসংস্থান ও অধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন,
"একদল বলছে নারীদের চাকরি করা যাবে না। তারা নারীদের বাক্সবন্দি করে রাখতে চায়। এটি কোনো সভ্য সমাজে হতে পারে না। যেই পরিবারে একমাত্র মেয়ে রয়েছে, নারীরা যদি কাজে না যায় তবে সেই পরিবার কীভাবে চলবে? তারা দাবি করছে নারীরা কাজ করলে সমাজ নষ্ট হবে, অথচ ইসলামে তো এমন কথা নেই। নারী-পুরুষ একসঙ্গে কাজ করাই স্বাভাবিক।"
গণসংযোগের সময় জিএম কাদেরের সঙ্গে স্থানীয় নেতাকর্মীদের ঢল নামে। উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক, জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক আজমল হোসেন লেবুসহ অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতারা। রংপুরের এই আসনটি বরাবরই জাতীয় পার্টির দুর্গ হিসেবে পরিচিত। তবে ২০২৬-এর নির্বাচনে এই ঐতিহ্য ধরে রাখা এবং কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে দলের প্রভাব বিস্তারের লক্ষ্যেই কোমর বেঁধে নেমেছেন নেতাকর্মীরা।
বিশ্লেষকদের মতে, ১৯০০ সালের গোড়ার দিকের সেই ব্রিটিশ বিরোধী চেতনা এবং ২০২৪-এর জুলাই বিপ্লবের উত্তরসূরিরা এবার নির্বাচনে বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াবে। জিএম কাদেরের এই নারী অধিকার ও উগ্রপন্থা বিরোধী অবস্থান তরুণ ও নারী ভোটারদের মনে কতটা জায়গা করে নিতে পারে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
সূত্র: যুগান্তর, বাংলাদেশ প্রতিদিন আর্কাইভ, স্থানীয় প্রতিনিধি প্রতিবেদন এবং উইকিপিডিয়া (বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |