প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সন্ধ্যায় রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনে এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই ইশতেহার উন্মোচন করা হয়। ‘জনতার ইশতেহার’ নামের এই দলিলে রাষ্ট্র সংস্কার, সুশাসন এবং আত্মনির্ভরশীল ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার করেছে দলটি।
পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও ইশতেহারের ভিজ্যুয়াল প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি জানান, সরকার পরিচালনায় জামায়াতের ২৬টি অগ্রাধিকার থাকবে, যার প্রধান লক্ষ্য হলো জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন।
ইশতেহারের উল্লেখযোগ্য দিকগুলো হলো:
রাজনৈতিক সংস্কার: সমানুপাতিক (পিআর) পদ্ধতির নির্বাচন ব্যবস্থা প্রবর্তন এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা।
দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র: প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়ে তোলা।
অর্থনৈতিক উন্নয়ন: ব্যাংক খাতের আমূল সংস্কার, গ্যাস-বিদ্যুতের দাম আগামী ৩ বছর স্থির রাখা এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি।
কৃষি ও খাদ্য: ২০৩০ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ ভেজালমুক্ত খাদ্য নিশ্চিত করা এবং কৃষকদের জন্য বিশেষ ‘স্মার্ট কার্ড’ ও ভর্তুকি প্রদান।
শিক্ষা ও প্রযুক্তি: মেধাভিত্তিক নিয়োগ, শিক্ষা ঋণের ব্যবস্থা এবং বড় কলেজগুলোকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর।
নারী ও শিশু: নারীদের জন্য নিরাপদ ও অংশগ্রহণমূলক রাষ্ট্র গঠন এবং সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
বাংলাদেশের নির্বাচনি ইশতেহারের ইতিহাস এবং জামায়াতের অবস্থানের বিবর্তন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ:
১৯০৫-১৯৪৭: ব্রিটিশ আমল থেকেই এই অঞ্চলের রাজনীতি ছিল অধিকার আদায়ের। ১৯০৬ সালে মুসলিম লীগের জন্ম এবং পরবর্তীতে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক স্বতন্ত্র চেতনা এই জনপদে দানা বাঁধে।
১৯৫২-১৯৭১: ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলনের চেতনা এবং ১৯৭১-এর স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াতে ইসলামীর বিতর্কিত ভূমিকা ও পাকিস্তানের পক্ষাবলম্বন ছিল ইতিহাসের এক কালো অধ্যায়। পরবর্তীতে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ফিরে আসার দীর্ঘ লড়াই করেছে দলটি।
১৯৯০ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার: ১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থানের পর ১৯৯১ সালে জামায়াতের সমর্থন নিয়ে বিএনপি সরকার গঠন করে এবং ১৯৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার আন্দোলনে জামায়াত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
২০২৪-২০২৬: ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর ১৫ বছরের আওয়ামী শাসনের পতন ঘটে। এই বিপ্লব পরবর্তী প্রথম সাধারণ নির্বাচন হিসেবে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনটি দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাঁক। জামায়াতের এবারের ‘জনতার ইশতেহার’ সেই বিপ্লবের রক্তে রঞ্জিত ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের অঙ্গীকারনামা।
ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে কেবল রাজনৈতিক নেতারাই নন, বরং উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা। কূটনীতিকদের উপস্থিতিতে জামায়াত আমির স্পষ্ট করেন যে, তারা ‘সবার সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে বৈরিতা নয়’—এই পররাষ্ট্রনীতিতে বিশ্বাসী।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াতের এবারের ইশতেহার কেবল রাজনৈতিক নয়, বরং প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির একটি ব্লু-প্রিন্ট। বিশেষ করে তরুণ সমাজ ও নারী ভোটারদের আকৃষ্ট করতে দলটি ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে। ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটে এই ‘জনতার ইশতেহার’ কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে এখন চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
সূত্র: যুগান্তর, বাংলাদেশ প্রতিদিন আর্কাইভ, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগ এবং ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর মাঠ পর্যায়ের সংবাদ
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |