প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনীতির মাঠ এখন সরগরম। এরই ধারাবাহিকতায় নিজেদের নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই ইশতেহার পাঠ করেন দলের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম (পীর সাহেব চরমোনাই)।
ইসলামী আন্দোলনের এবারের ইশতেহারকে প্রধানত তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে: রাষ্ট্র গঠনে নীতিগত অবস্থান, রাষ্ট্র সংস্কার পরিকল্পনা এবং খাতভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা। ইশতেহারে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি ক্ষেত্রে ইসলামের মৌলিক নীতিমালা তথা শরীয়াহর অনুসরণ করা হবে। পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, "আদালত, ইনসাফ, নাগরিকের স্বার্থের প্রতি সংবেদনশীলতা এবং আইনের শাসনই হবে আমাদের শাসনের মূল ভিত্তি।"
দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ইশতেহারে ২৮টি খাতভিত্তিক পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। মুফতি রেজাউল করীম বলেন, "আমাদের অর্থনীতি বর্তমানে আমদানিনির্ভর ও রেমিট্যান্সের ওপর নির্ভরশীল। যেকোনো দেশের নিষেধাজ্ঞায় এই অর্থনীতি ধসে পড়তে পারে। আমরা ক্ষমতায় গেলে রপ্তানিকে বহুমুখী ও প্রযুক্তিনির্ভর করব।" তিনি আরও প্রতিশ্রুতি দেন:
ব্যাংকসহ আর্থিক খাতের দুর্নীতি ও টাকা পাচার পুরোপুরি বন্ধ করা হবে।
বৈদেশিক ঋণ ব্যবস্থাপনায় পেশাদারত্ব আনা হবে এবং কঠিন শর্তে ঋণ গ্রহণ পুনর্বিবেচনা করা হবে।
মূলধনী পণ্য আমদানির বদলে দেশেই উৎপাদনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইসলামী আন্দোলন তাদের ইশতেহারে নাগরিক অধিকারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়, ধর্ম বা জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে ‘সংখ্যাগুরু’ বা ‘সংখ্যালঘু’ হিসেবে বিভাজন করা হবে না। সকল ধর্মাবলম্বী ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর অধিকার ও মর্যাদা রক্ষার নিশ্চয়তা দিয়েছে দলটি।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে ধর্মীয় মূল্যবোধ ও রাজনৈতিক বিবর্তনের একটি দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে:
১৯০৫-১৯৪৭: ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন ও খেলাফত আন্দোলনের মাধ্যমে এই অঞ্চলে ইসলামী রাজনীতির চেতনার উন্মেষ ঘটে। ১৯০৬ সালে মুসলিম লীগের জন্ম এবং পরবর্তীতে ধর্মীয় স্বাতন্ত্র্যের ভিত্তিতে দেশভাগ এই অঞ্চলের মানুষের মনস্তত্ত্বে গভীর প্রভাব ফেলে।
১৯৫২-১৯৭১: ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলন এবং ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে আপামর জনতা সাম্য ও মানবিক মর্যাদার জন্য লড়াই করেছে। স্বাধীনতার পর ১৯৭২-এর সংবিধান ও পরবর্তী রাজনৈতিক পরিক্রমায় ইসলামী দলগুলো বিভিন্ন চড়াই-উতরাই পার করেছে।
১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থান: নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে ইসলামী দলগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণ সংসদীয় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ভূমিকা রাখে।
২০২৪-২০২৬: ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটে। এই বিপ্লবের মূল চেতনা ছিল ‘ইনসাফ ও বৈষম্যহীনতা’, যা ইসলামী আন্দোলন তাদের ২০২৬-এর নির্বাচনী ইশতেহারে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের জনপ্রত্যাশা’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছে।
ইশতেহারে প্রতিবেশী দেশ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার ভিত্তিতে বৈদেশিক সম্পর্ক গড়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেছে দলটি।
সূত্র: ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি, যুগান্তর, বাংলাদেশ প্রতিদিন আর্কাইভ এবং ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর মাঠ পর্যায়ের নির্বাচনী আপডেট।
বিশ্লেষণ: ইসলামী আন্দোলনের এই ইশতেহার ধর্মপ্রাণ ভোটারদের পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকেও আকৃষ্ট করার চেষ্টা করেছে। বিশেষ করে অর্থনীতি ও রাষ্ট্র সংস্কারের পরিকল্পনাগুলো দলটিকে কেবল একটি ধর্মীয় প্ল্যাটফর্ম থেকে বের করে একটি বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করছে।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |