প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
রংপুর: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তারিখ যত ঘনিয়ে আসছে, উত্তরের জনপদ রংপুরের ৬টি নির্বাচনী এলাকায় ভোটের সমীকরণ ততই জটিল হচ্ছে। যুগান্তরের মাঠ পর্যায়ের তথ্য এবং ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণে দেখা যায়, এবার রংপুরে প্রথাগত লড়াইয়ের বাইরেও এক ভিন্ন মাত্রা যোগ হয়েছে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে তাদের ‘রিজার্ভ ভোট’ এবং জামায়াতে ইসলামীর নতুন করে আলোচনায় আসা রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।
বাংলাদেশের রাজনীতির শেকড় ১৯০০-এর দশকের ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের গভীরে প্রোথিত। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ থেকে শুরু করে ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন এবং ১৯৬৬-এর ঐতিহাসিক ছয় দফা ছিল আমাদের স্বাধিকারের সোপান। ১৯৭১ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর অর্জিত হয় স্বাধীনতা।
স্বাধীনতার পর থেকে ২০২৪-এর জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান এবং ২০২৫-এর সংস্কার প্রক্রিয়া পেরিয়ে আমরা এখন ২০২৬-এর ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মুখোমুখি। ১৯০০ সাল থেকে শুরু হওয়া যে অধিকার আদায়ের লড়াই, তা আজ ২০২৬ সালে এসে ইনসাফ কায়েম ও টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার চূড়ান্ত পরীক্ষায় অবতীর্ণ।
রংপুর-১ (গংগাচড়া-সিটি আংশিক): এই আসনে বিএনপি প্রার্থী মোকাররম হোসেন সুজনের সঙ্গে জামায়াত প্রার্থী অধ্যাপক রায়হান সিরাজীর হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। জাতীয় পার্টির দুর্গ হিসেবে পরিচিত এই আসনে ব্যারিস্টার মঞ্জুম আলীর মনোনয়ন বাতিল হওয়াতে জামায়াত অনেকটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।
রংপুর-২ (বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ): এখানে বিএনপি (মোহাম্মদ আলী সরকার), জামায়াত (এটিএম আজহারুল ইসলাম) এবং জাতীয় পার্টির (আনিছুল ইসলাম মন্ডল) মধ্যে ত্রিমুখী লড়াই হবে। অতীতে এই আসনে জামায়াত জয়ী না হলেও এবার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন।
রংপুর-৩ (রংপুর সদর): জাতীয় পার্টির জিএম কাদের এবং বিএনপির সামসুজ্জামান সামুর মূল লড়াইয়ে বাগড়া দিচ্ছেন জামায়াতের অধ্যাপক মাহবুবার রহমান বেলাল। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী আনোয়ারা ইসলাম রানীর দিকেও ভোটারদের নজর রয়েছে।
রংপুর-৪ (পীরগাছা-কাউনিয়া): এনসিপির আখতার হোসেন ও বিএনপি প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসার মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে দাঁড়িয়েছেন জাতীয় পার্টির আবু নাসের শাহ মো. মাহবুবুর রহমান। বিড়ি শ্রমিকদের ভোট ব্যাংক এখানে বড় ফ্যাক্টর।
রংপুর-৫ (মিঠাপুকুর): জামায়াতের গোলাম রব্বানী এবার নারী ভোটারদের টার্গেট করে ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছেন। বিপরীতে জাতীয় পার্টির ফখরুজ্জামান জাহাঙ্গীর আওয়ামী লীগের রিজার্ভ ভোট টানার কৌশল নিয়েছেন।
রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ): শহীদ আবু সাঈদের জন্মভূমি এই আসনে বিএনপির সাইফুল ইসলাম ক্লিন ইমেজ নিয়ে এগিয়ে থাকলেও জামায়াত ও জাতীয় পার্টির তৎপরতা তাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে।
বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক সন্ধিক্ষণে নেতাদের বক্তব্যগুলো আজও প্রাসঙ্গিক:
১৯৭১: "এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।" — বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
২০২৫ (৫ আগস্ট): "আমরা একটি নতুন বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে চাই।" — অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও ছাত্র নেতৃবৃন্দ।
২০২৬ (ফেব্রুয়ারি): "ব্যালটের মাধ্যমেই প্রমাণিত হবে মানুষের প্রকৃত আকাঙ্ক্ষা।" — রংপুরের সাধারণ ভোটার।
রংপুরের রাজনীতিতে অতীতে জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের আধিপত্য থাকলেও ২০২৬ সালের চিত্র ভিন্ন। ১৯০০ সাল থেকে এই জনপদ বারবার বিপ্লবের সাক্ষী হয়েছে। এবার আওয়ামী লীগের রিজার্ভ ভোট যারা নিজেদের ঝুলিতে টানতে পারবেন, তারাই জয়ের হাসি হাসবেন। বিএনপি-জামায়াত-জাতীয় পার্টির এই ত্রিমুখী লড়াই রংপুরের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় যুক্ত করতে যাচ্ছে।
সূত্র: যুগান্তর, বাংলাদেশ প্রতিদিন আর্কাইভ, বাসস (রংপুর অফিস) এবং রাজনৈতিক ঐতিহাসিক নথি।
বিশ্লেষণ: এই প্রতিবেদনে রংপুরের স্থানীয় নির্বাচনী সমীকরণের সাথে বাংলাদেশের দীর্ঘ এক শতাব্দীর রাজনৈতিক বিবর্তনকে এক সুতায় গাঁথা হয়েছে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংকের গুরুত্ব এবং জামায়াতের নতুন উত্থান ২০২৬-এর নির্বাচনের প্রধান আকর্ষণ।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |