রাজনীতিতে নারীর নিরাপত্তা ও ‘কোড অব কন্ডাক্ট’ জরুরি: ব্যারিস্টার জাইমা রহমান
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: রাজনীতিতে সক্রিয় নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রতিটি রাজনৈতিক দলের নিজস্ব আচরণবিধি বা ‘কোড অব কন্ডাক্ট’ থাকা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। তিনি বলেন, নারীরা কোনো হয়রানির শিকার হলে তার দায় সংশ্লিষ্ট দলকেই নিতে হবে। পাশাপাশি নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে ছাত্র নেতৃত্ব থেকে স্থানীয় সরকার পর্যন্ত একটি শক্তিশালী ‘পাইপলাইন’ বা ধারাবাহিকতা তৈরির আহ্বান জানান তিনি।
আজ রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দুপুরে রাজধানীর বিআইএসএস সম্মেলন কক্ষে উইমেন ইন ডেমোক্রোসি (উইনড) আয়োজিত ‘গণতন্ত্রের সংগ্রামে নারী: অবদান, দায় ও দায়িত্ব’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে নারীদের অবদান চিরস্মরণীয়। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, মাতঙ্গিনী হাজরাদের আত্মত্যাগ ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনকে বেগবান করেছিল। ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলনে নারীদের অংশগ্রহণ এবং ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধে বীরঙ্গনা ও সম্মুখ সমরে নারী যোদ্ধাদের অবদান স্বাধীন বাংলাদেশের ভিত্তি গড়ে দিয়েছে। ১৯৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে নারীরা রাজপথে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছে। ১৯০০ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত এই ১২৬ বছরের পথপরিক্রমায় নারীরা বারবার নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণ করলেও রাজনীতিতে তাদের নিরাপত্তা ও আর্থিক বৈষম্য আজও এক বড় চ্যালেঞ্জ। ২০২৬ সালের এই নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের এই আহ্বান মূলত একবিংশ শতাব্দীর নারীর ক্ষমতায়নের নতুন দাবি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ব্যারিস্টার জাইমা রহমান তার বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন, রাজনীতিতে অর্থনৈতিক বিষয় একটি বড় বাধা। নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়াতে বিশেষ আর্থিক ও সামাজিক সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, "সেফটির দিক থেকে যদি কোনো নারী নেত্রী বা স্টুডেন্ট লিডারের কিছু হয়, তাহলে দলগুলো লিগ্যাল কোড অব কনডাক্টের মাধ্যমে প্রটেক্ট করবে। অর্থাৎ নারীর কিছু হলে দল দায়িত্বটা নেবে যে আমরা উনাকে প্রটেক্ট করব।" তিনি আরও যোগ করেন, সুস্থ শিশু মায়েদের কর্মক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। তাই প্রতিটি ডে-কেয়ার সেন্টারে শিশু বিশেষজ্ঞ ও আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা জরুরি। জাইমা রহমানের মতে, তরুণদের মেধা কাজে লাগিয়ে সবার অংশগ্রহণে একটি 'নতুন বাংলাদেশ' গড়া সম্ভব।
গোলটেবিলে অংশ নিয়ে অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের ফারাহ কবির বলেন, কিছু রাজনৈতিক দল বলছে নারীরা গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকতে পারবে না—এমন সংকীর্ণ চিন্তার অবসান ঘটাতে হবে। সিনিয়র অ্যাডভোকেট ব্যারিস্টার সারা হোসেন বলেন, জুলাই সনদ ও গণভোটে বৈষম্য নিরসনের কথা থাকলেও তা পরিষ্কার নয়। স্বৈরাচারের দোহাই দিয়ে বিদ্যমান ইতিবাচক আইনগুলোকে মুছে না ফেলার বিষয়ে তিনি সতর্ক করেন।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক উমামা ফাতেমা অভিযোগ করেন, ৫ই আগস্টের পর অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া নারীদের অনেক ক্ষেত্রে বাদ দেওয়া হয়েছে এবং সাইবার বুলিংয়ের শিকার করা হচ্ছে। ডাকসুর কার্যকরী সদস্য হেমা চাকমা আক্ষেপ করে বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পরও নারীদের অবস্থার পরিবর্তন হয়নি।
আজকের দিনটি ছিল বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য অত্যন্ত ব্যস্ততম:
বিকেল ৫:০০: বিটিভিতে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন চরমোনাই পীর মুফতি রেজাউল করীম।
বিকেল ৫:৫৬: ঠাকুরগাঁওয়ে ভ্যানে চড়ে আমজনতার দুয়ারে নির্বাচনি প্রচারণা চালান মির্জা ফখরুল।
সন্ধ্যা ৭:০০: বিটিভিতে এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের সংস্কারমুখী ভাষণ সম্প্রচারিত হয়।
বিকেল ৪:১৮: কুমিল্লা-৭ আসনে রেদোয়ান ও শাওনের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস।
বিশেষ সংবাদ: বায়তুল মোকাররমে বাবুনগরী স্মৃতি সংসদের বিক্ষোভে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপস্থিতি ও নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা।
বিশ্লেষণ: রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের এই বক্তব্য নারী ভোটারদের মধ্যে বিশেষ প্রভাব ফেলবে। ১৯০০ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিস্তৃত রাজনৈতিক সংস্কৃতির যে ‘নোংরা’ দিকের কথা আলোচকরা তুলে ধরেছেন, তা থেকে উত্তরণের জন্য জাইমা রহমানের প্রস্তাবিত ‘লিগ্যাল প্রটেকশন’ ও ‘মেন্টরশিপ’ অত্যন্ত সময়োপযোগী। নতুন বাংলাদেশে নারী নেতৃত্বের বিকাশই হবে আগামীর স্থিতিশীল রাজনীতির মূল চাবিকাঠি।
সূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস), বিএনপি মিডিয়া সেল, উইনড প্রেস বিজ্ঞপ্তি এবং নির্বাচনি মাঠ পর্যায়ের প্রতিবেদন ২০২৬।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |