| বঙ্গাব্দ

চন্দনাইশে অলির পতন: ১৩শ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির জসিম উদ্দীনের জয়।

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 16-02-2026 ইং
  • 1160161 বার পঠিত
চন্দনাইশে অলির পতন: ১৩শ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির জসিম উদ্দীনের জয়।
ছবির ক্যাপশন: চন্দনাইশে অলির পতন

চন্দনাইশে অলির ‘সাম্রাজ্যের’ পতন: ৫ দশকের আধিপত্য ভেঙে ধানের শীষের চমক

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম | দক্ষিণ চট্টগ্রামের রাজনীতির ‘চাণক্য’ হিসেবে পরিচিত কর্নেল (অব.) অলি আহমদের ৫ দশকের একচ্ছত্র আধিপত্যের অবসান ঘটল। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ) আসনে নিজের গড়া দুর্গে পরাজিত হয়েছেন তাঁর ছেলে ও এলডিপি প্রার্থী ওমর ফারুক। দীর্ঘ প্রায় ৫০ বছর পর এই আসনটি পুনরুদ্ধার করে চমক দেখিয়েছে বিএনপি।

ভোটের সমীকরণ: সামান্য ব্যবধানে পরাজয়

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিএনপির প্রার্থী জসিম উদ্দীন আহমেদ পেয়েছেন ৭৬ হাজার ৪৯৩ ভোট। অন্যদিকে, ছাতা প্রতীক নিয়ে এলডিপি প্রার্থী ওমর ফারুক পেয়েছেন ৭৫ হাজার ৪৬৭ ভোট। মাত্র ১ হাজার ২৬ ভোটের ব্যবধানে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার হাতছাড়া হলো অলির পরিবারের।

১৯০০ থেকে ২০২৬: চন্দনাইশের রাজনৈতিক বিবর্তন

চন্দনাইশের রাজনীতির ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ব্রিটিশ আমল (১৯০০ পরবর্তী) থেকে এই অঞ্চলটি ছিল অত্যন্ত সচেতন। তবে আধুনিক চন্দনাইশের রূপকার হিসেবে অলি আহমদ ১৯৮১ সালের উপ-নির্বাচন থেকে দৃশ্যপটে আসেন।

  • ১৯৮১-২০০১: বিএনপির টিকিটে টানা ৬ বার এমপি নির্বাচিত হন অলি। ১৯৯১ সালে যোগাযোগ মন্ত্রী থাকাকালীন তিনি এই অঞ্চলে ব্যাপক উন্নয়ন করেন।

  • ২০০৬: বিএনপির সঙ্গে দীর্ঘ সম্পর্ক ছিন্ন করে তিনি গঠন করেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)।

  • ২০১৪-২০২৪: ২০১৪ সালের ভোটারবিহীন নির্বাচন এবং পরবর্তী রাজনৈতিক ডামাডোলে আসনটি আওয়ামী লীগের কবজায় চলে যায়।

  • ২০২৬: দীর্ঘ ২ যুগ পর বিএনপি তাদের এক সময়ের শক্ত ঘাঁটিটি পুনরায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে সক্ষম হলো।

কেন এই পতন? বিশ্লেষকদের চোখে ‘ভুল রাজনীতি’

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কর্নেল অলির এই পরাজয় বা তাঁর ভাষায় ছেলেকে ‘বলি’ দেওয়ার পেছনে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট কারণ রয়েছে:

১. আদর্শিক বৈপরীত্য: অলি আহমদ সারা জীবন যে জামায়াতে ইসলামীর তীব্র বিরোধিতা করেছেন, শেষ বয়সে এসে সেই জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটে যোগ দেওয়াকে সাধারণ ভোটাররা সহজভাবে গ্রহণ করেনি।

২. ইতিহাস বিকৃতি ও বিতর্ক: শহীদ জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিতে তিনি নিজেই উদ্বুদ্ধ করেছেন—এমন দাবি করে বিএনপির তৃণমূল কর্মীদের বিরাগভাজন হন তিনি।

৩. বিদ্রোহী প্রার্থী: বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মিজানুল হক চৌধুরীর উপস্থিতি ভোটের সমীকরণ এলডিপির প্রতিকূলে নিয়ে যায়।

৪. টাকার কুমির বনাম জনবল: বিএনপির প্রার্থী জসিম উদ্দীন আহমেদকে ‘টাকার কুমির’ হিসেবে অভিহিত করা হলেও, তাঁর কৌশলগত প্রচারণার কাছে হার মানতে হয়েছে অলি-পুত্রকে।

অলির বর্ণাঢ্য সংসদীয় ক্যারিয়ার একনজরে

সালনির্বাচনদলফলাফল
১৯৮১উপ-নির্বাচনবিএনপিবিজয়ী
১৯৮৬৩য় সংসদবিএনপিবিজয়ী
১৯৮৮৪র্থ সংসদস্বতন্ত্র/অন্যান্যবিজয়ী
১৯৯১৫ম সংসদবিএনপিবিজয়ী
১৯৯৬৬ষ্ঠ ও ৭ম সংসদবিএনপিবিজয়ী
২০০১৮ম সংসদবিএনপিবিজয়ী
২০০৮৯এম সংসদএলডিপিবিজয়ী
২০২৬১৩শ সংসদএলডিপিপরাজিত (পুত্র প্রার্থী)

ভবিষ্যৎ প্রেক্ষাপট

৮৭ বছর বয়সে এসে কর্নেল অলি আহমদ কার্যত ‘একূল-ওকূল’ দুই কূলই হারালেন। ২০২৬ সালের এই নির্বাচনের পর চন্দনাইশের রাজনীতিতে এক নতুন মেরুকরণ শুরু হলো। যেখানে দীর্ঘদিনের ব্যক্তি-নির্ভর রাজনীতির বদলে দলীয় প্রতীকের প্রাধান্য ফুটে উঠেছে। রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বয়স এবং বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় অলির পক্ষে আর ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন হতে পারে।


সূত্র: বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সচিবালয়, স্থানীয় রাজনৈতিক তথ্যভাণ্ডার এবং চন্দনাইশ প্রতিনিধি থেকে প্রাপ্ত তথ্য।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency