প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী বিভাগে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। বিভাগের ৩৯টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ২৮টিতেই ধানের শীষের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। বাকি ১১টি আসনে জয় পেয়েছে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। তবে ভোটের এই পরিসংখ্যানের চেয়েও বড় চমক এসেছে নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত সরকারে রাজশাহী বিভাগ থেকে স্থান পেয়েছেন সাতজন হেভিওয়েট নেতা।
বাঙালির রাজনৈতিক চেতনার উন্মেষ ঘটেছিল ১৯০০ সালের ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সময় থেকেই। ১৯০৫-এর বঙ্গভঙ্গ থেকে শুরু করে ১৯৪৭-এর দেশভাগ, ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলন এবং ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ—প্রতিটি ধাপে রাজশাহী তথা উত্তরবঙ্গের ভূমিকা ছিল অপরিসীম। ১৯৭৯ সালে বিএনপির প্রথম রাজনৈতিক উত্থানের সময়ও রাজশাহী ছিল দলটির অন্যতম শক্তিশালী দুর্গ। সেই ধারাবাহিকতায় ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবারও উত্তরবঙ্গের মানুষ বিএনপির ওপর আস্থা রেখেছে। ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে এক নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়।
নতুন সরকারে রাজশাহী বিভাগ থেকে ২ জন পূর্ণমন্ত্রী, ৪ জন প্রতিমন্ত্রী এবং ১ জন উপদেষ্টাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু (পূর্ণমন্ত্রী): সিরাজগঞ্জ-২ আসন থেকে নির্বাচিত এই বর্ষীয়ান নেতা বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন। ২০০১-২০০৬ মেয়াদেও তিনি একই মন্ত্রণালয়ে কাজ করেছিলেন।
মিজানুর রহমান মিনু (পূর্ণমন্ত্রী): দীর্ঘ ৪৬ বছর পর রাজশাহী মহানগরী পেল একজন পূর্ণমন্ত্রী। রাজশাহী-২ (সদর) আসন থেকে নির্বাচিত মিনু ভূমি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন। ইতিপূর্বে তিনি ১৭ বছর মেয়রের দায়িত্ব পালন করে রাজশাহীর উন্নয়নের রূপকার হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।
ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল (প্রতিমন্ত্রী): নাটোর-১ থেকে নির্বাচিত পুতুল পেয়েছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। তিনি উত্তরবঙ্গের ৭২ আসনের মধ্যে একমাত্র নারী এমপি।
ড. এমএ মুহিত (প্রতিমন্ত্রী): সিরাজগঞ্জ-৬ থেকে নির্বাচিত এই নতুন মুখ পেয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব।
মীর শাহে আলম (প্রতিমন্ত্রী): বগুড়া-২ আসন থেকে নির্বাচিত এই তৃণমূল নেতা পেয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। ৩ দশক পর বগুড়া থেকে কেউ মন্ত্রিসভায় স্থান পেলেন।
মোহাম্মদ আব্দুল বারী (প্রতিমন্ত্রী): জয়পুরহাট-২ থেকে নির্বাচিত সাবেক এই তুখোড় প্রশাসনিক কর্মকর্তা পেয়েছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব।
রেহান আসিফ আসাদ (উপদেষ্টা): প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন রাজশাহীর গোদাগাড়ীর সন্তান রেহান আসিফ। তিনি তারেক রহমানের পররাষ্ট্র বিষয়ক সেলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ, পাবনা ও নওগাঁ জেলা থেকে এবারের মন্ত্রিসভায় কাউকে নেওয়া হয়নি। তবে নবনিযুক্ত ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, "কোনো জেলা থেকে মন্ত্রী না হওয়া মানেই উন্নয়নের অবহেলা নয়। বিএনপি সবসময় সুষম উন্নয়নে বিশ্বাসী।"
রাজশাহী বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ শাহীন শওকত বলেন, "এই সাতজন মন্ত্রীর কাছে মানুষের অনেক প্রত্যাশা। তারা যেন অবহেলিত উত্তরবঙ্গের উন্নয়নে মনোযোগ দেন।"
১৯০০ সালের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট থেকে ২০২৬-এর নতুন বাংলাদেশ—বারবার প্রমাণিত হয়েছে যে, পরিবর্তন ও উন্নয়নের চাবিকাঠি জনগণের হাতেই থাকে। তারেক রহমানের এই নতুন মন্ত্রিসভা সেই আস্থার প্রতিফলন ঘটাবে বলেই উত্তরবঙ্গবাসীর বিশ্বাস।
সূত্র: ১. ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬-এর ফলাফল গেজেট। ২. মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন (১৭-১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬)। ৩. যুগান্তর ডটকম ও বাংলাদেশ প্রতিদিন আর্কাইভ। ৪. রাজনৈতিক বিশ্লেষণ প্রতিবেদন ও ঐতিহাসিক নথিপত্র (১৯০০-১৯৭১)।
বিশ্লেষণ: এবারের মন্ত্রিসভা বিশ্লেষণে দেখা যায়, অভিজ্ঞ ও নবীনের এক চমৎকার সমন্বয় করা হয়েছে। বিশেষ করে রাজশাহী সদর ও বগুড়াকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে। তবে নওগাঁ ও পাবনার মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলাগুলোর প্রতিনিধিত্ব না থাকা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। উত্তরবঙ্গের অর্থনৈতিক উন্নয়নে এই নতুন মন্ত্রিপরিষদের ভূমিকা ২০২৬-এর পরবর্তী রাজনীতিতে বিএনপির অবস্থানকে আরও সুসংহত করবে।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |