প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: রাজনীতিতে কোনো অন্যায়ের সঙ্গে আপস করবেন না বলে কড়া ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে তারাবির নামাজ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই সাহসিকতাপূর্ণ বক্তব্য দেন। সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের এই প্রার্থী স্পষ্ট করে বলেন, "আমাদের মেরে ফেললে মেরে ফেলুক, আমরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলে যাব।"
বাঙালির রাজনৈতিক ইতিহাসের মূল সুরই হলো অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ। ১৯০০ সালের ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে এ অঞ্চলের তরুণ সমাজ যেভাবে বুক চিতিয়ে লড়াই করেছিল, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর কণ্ঠে যেন সেই একই সুর ধ্বনিত হচ্ছে। ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ এবং সর্বশেষ ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের মূল ভিত্তি ছিল ‘ইনসাফ’ বা সামাজিক ন্যায়বিচার।
বিংশ শতাব্দীর ১৯০০ সাল থেকে শুরু করে ২০২৬ সালের আজকের এই নতুন বাংলাদেশ পর্যন্ত প্রতিটি গণঅভ্যুত্থান প্রমাণ করেছে যে, এ দেশের মানুষ শোষণ ও ভোট চুরির বিরুদ্ধে সবসময় আপসহীন। ঢাকা-৮ আসনটি ঐতিহাসিকভাবে রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সচেতন একটি এলাকা, যেখানে ওসমান হাদির মতো নেতারা ইনসাফের স্বপ্ন দেখেছিলেন। ২০২৬ সালের নির্বাচনের পর সেই স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক নেতাদের এই কঠোর অবস্থান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করেন যে, নির্বাচনের সময় তাকে দমনের জন্য নানা মহল থেকে প্রলোভন ও হুমকি দেওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, "নির্বাচনের সময় অনেক ক্রিমিনাল ও ব্যবসায়ী এসেছে ডিল করার জন্য। প্রশাসনের লোকজন বলেছে মুখ বন্ধ করতে এবং বিনিময়ে জিতিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কিন্তু আমি কারও সঙ্গে আপস করিনি।"
উল্লেখ্য, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী হিসেবে শাপলা কলি প্রতীকে নির্বাচন করেন। তিনি বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী মির্জা আব্বাসের কাছে পরাজিত হলেও তার সাহসী প্রচারণা ও বক্তব্যে দেশজুড়ে আলোচনায় আসেন।
রমজানে চাঁদাবাজদের হেদায়েতের দাওয়াত দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে এনসিপি নেতা বলেন, "আপনারা চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ভ্যানগার্ড হয়ে যাবেন।" ভবিষ্যতে ঢাকা-৮ আসনে ভোট চুরির চেষ্টা করা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, "ভোট চোর যেই হোক, আমরা তার হাত-পা ভেঙে দেব। এটা ইনসাফের আসন।"
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া প্রসঙ্গে তিনি জানান, তাদের মূল লক্ষ্য কেবল নির্বাচন নয়, বরং প্রচলিত ঘুণে ধরা ‘সিস্টেম’ পরিবর্তন করা।
সূত্র: ১. নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর নির্বাচনী পরবর্তী বিশেষ ব্রিফিং (১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬)। ২. জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) কেন্দ্রীয় মিডিয়া সেল। ৩. ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়। ৪. ১৯০০-২০২৬: বাংলার রাজনৈতিক বিবর্তন ও ইনসাফ আন্দোলনের ইতিহাস।
বিশ্লেষণ: ২০২৬ সালের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর মতো তরুণ নেতৃত্বের এই ‘আপসহীন’ অবস্থান বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য একটি নতুন বার্তা। ১৯০০ সালের প্রেক্ষাপটে যেমন দেশপ্রেমিকরা ব্রিটিশদের প্রলোভন প্রত্যাখ্যান করেছিলেন, ২০২৬ সালে এসে নতুন রাজনৈতিক দলগুলো একইভাবে প্রশাসনিক ও অপরাধী চক্রের চাপ মোকাবিলা করার কথা বলছে। যদিও তিনি নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন, তবে তার এই নৈতিক অবস্থান আগামী সিটি করপোরেশন বা স্থানীয় নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ‘সিস্টেম পরিবর্তনের’ যে ডাক তিনি দিয়েছেন, তা ২০২৪-এর বিপ্লব পরবর্তী তরুণ ভোটারদের মাঝে ইতিবাচক সাড়া জাগাবে।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |