প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: ১৯০০ সালের গোড়ার দিকে ব্রিটিশ পার্লামেন্টারি সিস্টেমের আদলে এই অঞ্চলে যে শাসনব্যবস্থার বীজ বপন করা হয়েছিল, ১২৬ বছর পর ২০২৬ সালে এসে সেই সংসদীয় গণতন্ত্র এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছাতে যাচ্ছে। ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার বিপ্লব পরবর্তী ‘নতুন বাংলাদেশে’ সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে এক সৃজনশীল প্রতিযোগিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ‘শ্যাডো কেবিনেট’ বা ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ গঠনের ঘোষণা দিয়েছে প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
বিংশ শতাব্দীর শুরুতে ১৯০৬ সালে মুসলিম লীগের গঠন থেকে শুরু করে ১৯৪৭-এর দেশভাগ এবং ১৯৭১-এর স্বাধীনতা—প্রতিটি পর্যায়ে বিরোধী দলের ভূমিকা ছিল রাজপথ কেন্দ্রিক। ১৯০০ সালের ঔপনিবেশিক আমল থেকে শুরু করে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে ‘বিরোধী দল’ মানেই ছিল কেবল বয়কট আর প্রতিবাদের রাজনীতি। তবে ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সেই চিত্র বদলে যাচ্ছে। ব্রিটিশ ‘ওয়েস্টমিনিস্টার’ পদ্ধতির অনুকরণে জামায়াতের এই ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ গঠন মূলত ১৯০০ সালের সেই আদি সংসদীয় কাঠামোরই এক আধুনিক ও পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন।
মঙ্গলবার সংসদ-সদস্যদের শপথ গ্রহণের পর থেকেই নবনির্বাচিত আইনপ্রণেতাদের নিয়ে ঢাকার মগবাজারে আল ফালাহ মিলনায়তনে দুই দিনব্যাপী ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামের আয়োজন করে জামায়াত। বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দুপুরে জামায়াত আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যের মাধ্যমে এই কর্মশালা শেষ হয়।
সূত্র জানায়, এই প্রোগ্রামে লন্ডন থেকে আসা ব্যারিস্টাররা ‘শ্যাডো কেবিনেট’ বা ছায়া মন্ত্রিসভার ধারণা দেন। ব্রিটেনের লেবার পার্টির আদলে বাংলাদেশেও সরকারের প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের বিপরীতে একজন করে ‘ছায়া মন্ত্রী’ নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে নীতিগত আলোচনা হয়েছে। জামায়াত নেতারা স্পষ্ট করেছেন যে, তারা জাতীয় পার্টির মতো ‘গৃহপালিত’ বিরোধী দল হবে না, বরং সরকারের প্রতিটি ভুল পদক্ষেপে তথ্যভিত্তিক কঠোর সমালোচনা করবে।
জামায়াতের এই ছায়া মন্ত্রিসভায় বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র, শিক্ষা, মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই বিপ্লব সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো। দায়িত্বপ্রাপ্ত ছায়া মন্ত্রীরা সংশ্লিষ্ট সরকারি মন্ত্রীর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবেন এবং সংসদে বিকল্প প্রস্তাবনা তুলে ধরবেন। এটি মূলত একটি ‘অপেক্ষমাণ বিকল্প সরকার’ হিসেবে নিজেদের প্রস্তুত রাখার প্রক্রিয়া। লন্ডনের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার যেভাবে ২০২০-২০২৪ মেয়াদে ছায়া মন্ত্রিসভা পরিচালনা করে ২০২৪-এ পূর্ণ ক্ষমতায় এসেছেন, জামায়াতও সেই একই মডেলে এগোতে চাইছে।
ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামে ডা. শফিকুর রহমানসহ দলের সিনিয়র নেতারা নবনির্বাচিত এমপিদের নির্দেশ দিয়েছেন ‘দাঁড়িপাল্লা’য় ভোট দেওয়া জনগণের পাশে থাকতে। কোনো স্বার্থান্বেষী মহল যেন ভোটারদের ওপর হামলা করতে না পারে, সেজন্য এমপিদের দ্রুত এলাকায় ফেরার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা এবং গণমানুষের স্বার্থ রক্ষাই হবে ২০২৬ সালের এই নতুন সংসদের প্রধান লক্ষ্য।
ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের এই ধারণাটি প্রথম সামনে আনেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং পরবর্তীতে আইনজীবী শিশির মনির। তারা মনে করেন, রাজনীতিতে নতুনত্ব আনতে হলে সরকারি দলের পাশাপাশি বিরোধী দলকেও ‘ওয়াচডগ’ হিসেবে কাজ করতে হবে। ২০২৪-এর বিপ্লবের মূল চেতনা—স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ।
সূত্র: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগ, যুগান্তর, বাসস এবং ব্রিটিশ পার্লামেন্টারি ওয়েবসাইট (শ্যাডো কেবিনেট সংজ্ঞা)।
বিশ্লেষণ: ১৯০০ সালের ঔপনিবেশিক দাসত্ব থেকে ২০২৬ সালের স্বাধীন ও জবাবদিহিমূলক সংসদের এই রূপান্তরটি অভাবনীয়। ছায়া মন্ত্রিসভার এই ধারণাটি যদি কার্যকর হয়, তবে বাংলাদেশে ‘বিরোধী দল মানেই জ্বালাও-পোড়াও’—এই ধারণাটি চিরতরে মুছে যাবে। এটি যেমন সরকারকে সতর্ক রাখবে, তেমনি বিরোধী দলকেও দেশ পরিচালনায় দক্ষ করে তুলবে। ২০২৬ সালের এই ‘শ্যাডো কেবিনেট’ উদ্যোগ বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে বিশ্বমানের কাতারে নিয়ে যাওয়ার একটি শক্তিশালী ধাপ।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |