প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: ১৯০০ সালের গোড়ার দিকের রাজনৈতিক ইতিহাসে কোনো সংগঠনে একটানা শীর্ষ পদে থাকার নজির যেমন আছে, তেমনি বারবার নেতৃত্ব বদলের ঘটনাও বিরল নয়। তবে ২০২৬ সালের আধুনিক বাংলাদেশে এসে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের অভ্যন্তরীণ সাংগঠনিক সংহতির এক অনন্য উদাহরণ তৈরি করল। ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের জন্য আবারও সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে শপথ নিয়েছেন সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার। ২০২০ সাল থেকে শুরু করে ২০২৮ পর্যন্ত টানা আট বছর এই পদে থেকে তিনি এক নতুন ‘হ্যাটট্রিক’ রেকর্ড গড়লেন।
বিংশ শতাব্দীর শুরুতে ১৯০০-এর দশকে যখন রাজনৈতিক দলগুলোর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হচ্ছিল, তখন নেতৃত্ব ছিল অনেকটা ব্যক্তি-কেন্দ্রিক। কিন্তু ১২৬ বছর পর ২০২৬ সালে জামায়াতে ইসলামী আজ একটি শক্তিশালী ‘ক্যাডর-বেইজড’ এবং সংসদীয় দলে রূপান্তরিত হয়েছে। ডা. শফিকুর রহমান আমীর হিসেবে পুনরায় নির্বাচিত হওয়ার পর সেক্রেটারি জেনারেল পদে পরিবর্তন না আনা প্রমাণ করে যে, ২০২৪-এর বিপ্লব পরবর্তী কঠিন সময়ে মিয়া গোলাম পরওয়ারের সাংগঠনিক দক্ষতার ওপর দলটির পূর্ণ আস্থা রয়েছে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার ২০২০ সালে প্রথমবার সেক্রেটারি জেনারেলের দায়িত্ব পান। এরপর ২০২৩-২০২৫ মেয়াদেও তিনি সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের জন্য তাঁর পুনরায় আসীন হওয়া বিশ্লেষণ করলে তিনটি মূল কারণ বেরিয়ে আসে:
সাংগঠনিক দক্ষতা: গত কয়েক বছরের রাজনৈতিক সংকটের সময় দলের শৃঙ্খলা বজায় রাখা।
সংসদীয় সমন্বয়: বর্তমানে জামায়াত জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দল, এই প্রেক্ষাপটে অভিজ্ঞ পার্লামেন্টারিয়ান গোলাম পরওয়ারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আমীর-সেক্রেটারি কেমিস্ট্রি: আমীর ডা. শফিকুর রহমানের সাথে তাঁর দীর্ঘদিনের কাজের সমন্বয় দলের অভ্যন্তরীণ ঐক্যকে শক্তিশালী করেছে।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকালে আমিরে জামায়াতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার ভার্চুয়ালি বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। ১৯০০ সালের সেই যোগাযোগহীন অন্ধকার যুগের বিপরীতে ২০২৬ সালের এই হাই-টেক যুগে ভার্চুয়ালি কমিটি গঠন ও শপথ পরিচালনা করা ডিজিটাল বাংলাদেশের এক সফল প্রতিফলন। শীর্ষ নেতাদের সশরীরে উপস্থিতি এবং শূরার সদস্যদের ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ দলটির আধুনিক রাজনৈতিক মনস্তত্বের পরিচয় দেয়।
২০২৬ থেকে ২০২৮ সালের এই সময়টি বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের সাথে ভারসাম্য রক্ষা এবং শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে যে ‘পজিটিভ রাজনীতি’র সূচনা হয়েছে, তা তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়াই হবে মিয়া গোলাম পরওয়ারের প্রধান চ্যালেঞ্জ। ১৯০০ সালের সেই গোঁড়ামি থেকে ২০২৬ সালের ‘জাতীয় ঐক্য’—এই রূপান্তরে তাঁর ভূমিকা এখন দেখার বিষয়।
বিশ্লেষণ: মিয়া গোলাম পরওয়ারের পুনরায় সেক্রেটারি জেনারেল হওয়া জামায়াতের জন্য একটি ‘সেফ প্লে’। ২০২৮ সালের পরবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে দলটি কোনো নতুন পরীক্ষায় না গিয়ে পরীক্ষিত নেতৃত্বের ওপরই ভরসা রাখল। এটি প্রমাণ করে যে, ২০২৬ সালের এই নতুন বাংলাদেশে জামায়াত তাদের সাংগঠনিক কাঠামোর ‘কন্টিনিউটি’ বা ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সবচেয়ে বেশি আগ্রহী।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |