প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ভাষা শহীদদের প্রতি জামায়াতে ইসলামীর শ্রদ্ধা নিবেদনকে সাধুবাদ জানানোর পাশাপাশি একটি বিশেষ বার্তা দিয়েছেন। তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন যে, জামায়াতের এই ইতিবাচক রাজনীতি যেন কেবল ‘লোক দেখানো’ না হয়ে দীর্ঘস্থায়ী হয়।
বাঙালির রাজনৈতিক ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ১৯০০ সালের গোড়ার দিকে ব্রিটিশ শাসনের শৃঙ্খল ভাঙার যে শপথ এই জনপদ নিয়েছিল, তারই ধারাবাহিকতায় ১৯৪৭-এর দেশভাগ এবং ১৯৫২-র ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলন। ১৯৫২ সালে সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারের রক্তে ভেজা রাজপথই ছিল ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল ভিত্তি। দীর্ঘ এক শতাব্দী পেরিয়ে ২০২৬ সালের এই নতুন বাংলাদেশে আমরা এক ভিন্ন রাজনৈতিক পরিস্থিতির সাক্ষী হচ্ছি।
২০২৪-এর ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর ২০২৬ সালের এই প্রথম ২১শে ফেব্রুয়ারি এক বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। যেখানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে। ১৯০০ সালের সেই সংগ্রামী চেতনা আজ ২০২৬ সালে এসে বহুদলীয় গণতন্ত্র ও পরমতসহিষ্ণুতার এক নতুন সংজ্ঞায় রূপ নিচ্ছে।
দীর্ঘ সময় পর জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বেশ আলোচনা চলছে। এ প্রসঙ্গে ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, "১৯৭১ সালে জামায়াতে ইসলামীর যে ভূমিকা ছিল, সেটি অবশ্যই জাতিগতভাবে আমরা ধিক্কার ও নিন্দা জানাই। জাতির সংকটে তারা বিরোধী অবস্থানে ছিলেন। কিন্তু তারা সেখান থেকে সংশোধন হচ্ছেন। সংশোধিত হয়ে আজ তারা শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। আমরা এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই।"
তিনি আরও বলেন, অতীতে 'পালিত বিরোধী দল' সংস্কৃতি থাকলেও আজ প্রকৃত গণতান্ত্রিক পরিবেশে বিরোধী দলগুলো সম্মানিত বোধ করছে। শহীদ মিনারে এই সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ যেন সারা বছর এবং শিক্ষাঙ্গনগুলোতেও বজায় থাকে, সেই আহ্বান জানান তিনি।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) রাত ১২টা ১ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রথমে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তার পরপরই শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর মন্ত্রিসভার সদস্য এবং ছাত্রদলসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সাথে মন্ত্রিসভার জ্যেষ্ঠ সদস্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: ১. কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ছাত্রদল সভাপতির প্রেস ব্রিফিং (২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬)। ২. মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও জাতীয় সংবাদ সংস্থা (বাসস)। ৩. ১৯০০-২০২৬: বাংলাদেশের ছাত্র রাজনীতি ও ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস। ৪. সমসাময়িক রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও আরটিভি নিউজ।
বিশ্লেষণ: ২০২৬ সালের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ছাত্রদল সভাপতির এই বক্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ১৯০০ সালের প্রেক্ষাপট থেকে আজ পর্যন্ত বাঙালির রাজনীতিতে আদর্শিক দ্বন্দ্ব বিদ্যমান থাকলেও, মহান ভাষা দিবসকে কেন্দ্র করে সব দলের অংশগ্রহণ জাতীয় ঐক্যের ইঙ্গিত দেয়। বিশেষ করে জামায়াতের এই পরিবর্তন এবং ছাত্রদলের তাকে ‘সংশোধিত হওয়া’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া—বাংলাদেশের রাজনৈতিক মেরুকরণে এক বড় ধরনের গুণগত পরিবর্তনের আভাস দিচ্ছে।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |