প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: যুগের পর যুগ ধরে চলে আসা সড়কের ‘স্লিপ বাণিজ্য’ ও চাঁদাবাজির অপসংস্কৃতি বন্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি জসীমউদ্দীন হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক ও সাবেক ডাকসু নির্বাচনে জিএস প্রার্থী শেখ তানভীর বারী হামিম স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা কিংবা শ্রমিক সংগঠনের নামে সড়কে টাকা তোলা স্পষ্ট চাঁদাবাজি। নতুন সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই অপসংস্কৃতি চিরতরে বন্ধ হবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
বাঙালির যাতায়াত ও বাণিজ্যিক ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ১৯০০ সালের ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমল থেকেই নদীপথ ও স্থলপথে বিভিন্ন নামে ‘নায়েব-গোমস্তাদের’ কর আদায়ের উপদ্রব ছিল। ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলন এবং ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল লক্ষ্যই ছিল সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি। তবে গত দেড় দশকে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে সড়কের মোড়ে মোড়ে স্লিপ দিয়ে টাকা তোলার যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল, তাকে একটি ‘প্রাতিষ্ঠানিক রূপ’ দেওয়া হয়েছিল।
২০২৪-এর ছাত্র-জনতার বিপ্লব পরবর্তী ২০২৬ সালের এই নতুন বাংলাদেশে যেখানে তারেক রহমানের নেতৃত্বে রাষ্ট্র সংস্কারের কাজ চলছে, সেখানে এ ধরনের চাঁদাবাজি নতুন বাংলাদেশের ভাবমূর্তির পরিপন্থী। ১৯০০ সালের সেই জোরপূর্বক খাজনা আদায়ের প্রথা যেমন মানুষ প্রত্যাখ্যান করেছিল, ২০২৬ সালের শিক্ষিত সমাজও এই স্লিপ বাণিজ্য বন্ধের দাবি তুলছে।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে শেখ তানভীর বারী হামিম লেখেন, “সারাদেশে স্লিপ দিয়ে সড়কে টাকা ওঠানো অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। বিশ্বের ৮টি উন্নত দেশ ঘুরেও আমি কোথাও এ ধরনের অপসংস্কৃতি দেখিনি। সেতু বা এক্সপ্রেসওয়ের টোল দেওয়া বৈধ বিষয়, কিন্তু শ্রমিক বা পৌরসভার নামে মাঝপথে টাকা আদায় চাঁদাবাজি ছাড়া আর কিছু নয়।”
তিনি প্রধানমন্ত্রীর মিতব্যয়িতা ও আধুনিক চিন্তাধারার উদাহরণ টেনে আরও লেখেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতোমধ্যে তার মুভমেন্টে ১৪টি গাড়ির পরিবর্তে মাত্র ৪টি গাড়ি ব্যবহার করছেন, ভিআইপি প্রটোকল বন্ধ করেছেন এবং রাস্তার দুই পাশে পুলিশের দাঁড়িয়ে থাকাও নিষিদ্ধ করেছেন। যে প্রধানমন্ত্রী নিজে এতো বড় পরিবর্তন এনেছেন, তার শাসনামলে সড়কে চাঁদাবাজি চলতে পারে না।”
হামিমের এই বক্তব্য ছাত্রদলের তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত একটি শক্তিশালী বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি বিশ্বাস করেন, পরিবর্তনের হাওয়া বইতে শুরু করেছে এবং ২০২৬ সালের এই সরকার ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’ বিনির্মাণে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়ন করবে। ঈদের আগেই ফ্যামিলি কার্ড চালুর সিদ্ধান্ত এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমানোর উদ্যোগগুলোই প্রমাণ করে যে, সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন।
সূত্র: ১. শেখ তানভীর বারী হামিমের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ (২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬)। ২. প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। ৩. ১৯০০-২০২৬: বাংলাদেশের পরিবহন খাতের বিবর্তন ও প্রশাসনিক সংস্কার দলিল। ৪. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাংগঠনিক প্রতিবেদন।
বিশ্লেষণ: ২০২৬ সালের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তারেক রহমান সরকারের বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো তৃণমূল পর্যায় থেকে চাঁদাবাজি নির্মূল করা। ১৯০০ সালের সেই সামন্ততান্ত্রিক শোষণ ব্যবস্থা থেকে ২০২৬ সালের এই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় উত্তরণের জন্য হামিমের মতো ছাত্রনেতাদের এই সোচ্চার অবস্থান অত্যন্ত জরুরি। এটি প্রমাণ করে যে, নতুন প্রজন্মের ছাত্রনেতারা কেবল ক্ষমতার অংশ হতে চায় না, বরং তারা রাষ্ট্র সংস্কারে পাহারাদারের ভূমিকা পালন করতে আগ্রহী।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |