বিশ্লেষণে: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনীতিতে অন্যতম বড় চমক ছিল বিভিন্ন দলের শীর্ষ নেতাদের বিএনপিতে যোগদান। তারেক রহমানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে নিজ দল বিলুপ্ত করে কিংবা দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক পরিচয় ত্যাগ করে ধানের শীষের পতাকাতলে এসেছিলেন ড. রেজা কিবরিয়া, ববি হাজ্জাজ ও রাশেদ খানের মতো প্রভাবশালী নেতারা। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দামামা শেষ হওয়ার এক মাস পেরিয়ে গেলেও, এই ‘নতুন’ বিএনপি নেতারা এখন এক ধরনের পরিচয় সংকটে ভুগছেন। দলের গুরুত্বপূর্ণ পদ বা দায়িত্ব না পাওয়ায় তাদের ভবিষ্যৎ অবস্থান নিয়ে শুরু হয়েছে নানা গুঞ্জন।
চলতি বছর জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপিতে যোগ দেওয়া সাতজন নেতার মধ্যে তিনজন সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন:
ড. রেজা কিবরিয়া (হবিগঞ্জ-১): সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়ার ছেলে রেজা কিবরিয়া ১ লাখ ১১ হাজার ৯৯৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার জয় ছিল অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ।
শাহাদাত হোসেন সেলিম (লক্ষ্মীপুর-১): এলডিপির সাবেক এই নেতা ৮৫ হাজার ৪৫৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন।
ববি হাজ্জাজ (ঢাকা-১৩): বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মামুনুল হককে হারিয়ে চমক সৃষ্টি করেছেন ববি হাজ্জাজ। তিনি ইতোমধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পেয়েছেন।
অন্যদিকে রাশেদ খান ও ড. রেদোয়ান আহমদের মতো নেতারা নির্বাচনে অংশ নিলেও জয়ী হতে পারেননি। ড. রেদোয়ান আহমদ ২০০১ সালের বিএনপি সরকারের সাবেক প্রতিমন্ত্রী হলেও বর্তমানে দলে তার সুনির্দিষ্ট পদ নেই।
বিএনপিতে যোগ দেওয়া নেতারা বলছেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে তারা রাজপথে সক্রিয় ছিলেন। অনেকে নিজ দল (যেমন: এলডিপি-একাংশ, এনডিএম, বাংলাদেশ জাতীয় দল) বিলুপ্ত করে বিএনপিতে এসেছেন। কিন্তু বর্তমানে তারা দলে সাধারণ সদস্য ছাড়া অন্য কোনো পরিচয়ে নেই।
এনডিপি থেকে আসা ববি হাজ্জাজ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেলেও দলীয় কোনো পদ পাননি। ড. রেজা কিবরিয়াকে ঘিরে মন্ত্রিসভায় থাকার গুঞ্জন থাকলেও শেষ পর্যন্ত তাকে দেখা যায়নি। গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান জানিয়েছেন, তিনি দলেই থাকতে চান, তবে যথাযথ মূল্যায়ন প্রত্যাশা করেন।
বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের (স্থায়ী কমিটি) সূত্র মতে, নির্বাচনের ব্যস্ততার কারণে নতুন যোগ দেওয়া নেতাদের পদায়ন নিয়ে আলোচনা হয়নি। বিষয়টি পুরোপুরি বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। ধারণা করা হচ্ছে, আগামীতে বিএনপির যে জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে, সেখানে এই হেভিওয়েট নেতাদের দলের সম্পাদকীয় পদ বা গুরুত্বপূর্ণ কোনো দায়িত্বে রাখা হতে পারে।
বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে ১৯০০ সালের মুসলিম লীগ বা পরবর্তীকালে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মতো বড় দলগুলোতে ছোট দলের একীভূত হওয়ার ঘটনা নতুন নয়। তবে আদর্শিক কারণে দল পরিবর্তন এবং নির্বাচনের আগে ‘ধানের শীষ’ প্রতীক বেছে নেওয়া এই নেতাদের জন্য ২০২৬ সালটি ছিল বড় এক চ্যালেঞ্জ। তারা বিএনপির দুঃসময়ে সাথে থেকে নিজেদের আনুগত্য প্রমাণ করেছেন। এখন বিএনপির চ্যালেঞ্জ হলো—এসব হেভিওয়েট নেতাকে যথাযথ মর্যাদা দিয়ে দলের ‘ব্রেইন ট্রাস্ট’ হিসেবে ব্যবহার করা, যাতে তারা পরিচয় সংকটে ভুগে নিষ্ক্রিয় হয়ে না পড়েন।
বড় দল হিসেবে বিএনপিতে পদের সংকট নেই, তবে পদের জন্য দীর্ঘদিনের ত্যাগী নেতাদের সাথে এই নতুনদের সমন্বয় করা তারেক রহমানের জন্য একটি সাংগঠনিক পরীক্ষা। ড. রেজা কিবরিয়া বা শাহাদাত হোসেন সেলিমের মতো অভিজ্ঞ নেতাদের রাজনৈতিক মর্যাদা দেওয়া না হলে তা জোটে বা নতুনদের যোগদানের ক্ষেত্রে নেতিবাচক বার্তা দিতে পারে। আপাতত সবাই তাকিয়ে আছেন বিএনপির পরবর্তী কাউন্সিলের দিকে।
তথ্যসূত্র: বিএনপি মিডিয়া সেল, সংসদ সচিবালয় রেকর্ড (২০২৬) এবং সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতাদের সাক্ষাৎকার।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |