| বঙ্গাব্দ

ইরান যুদ্ধের প্রকৃত উদ্দেশ্য কী? জোনাথন কুকের বিশেষ বিশ্লেষণ।

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 07-03-2026 ইং
  • 856736 বার পঠিত
ইরান যুদ্ধের প্রকৃত উদ্দেশ্য কী? জোনাথন কুকের বিশেষ বিশ্লেষণ।
ছবির ক্যাপশন: ইরান যুদ্ধের প্রকৃত উদ্দেশ্য

ইরান যুদ্ধ: পারমাণবিক জুজু নাকি নেতানিয়াহুর ৪০ বছরের লালিত স্বপ্ন?

মূল লেখক: জোনাথন কুক (মার্থা গেলহর্ন স্পেশাল প্রাইজ বিজয়ী বিশ্লেষক) অনুবাদ ও সম্পাদনা: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রকৃত উদ্দেশ্য কী? ওয়াশিংটন বা তেল আবিবের দেওয়া সরকারি ব্যাখ্যাগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সেগুলো স্ববিরোধী এবং বিভ্রান্তিকর। জোনাথন কুকের এই বিশ্লেষণে উঠে এসেছে এক ভয়াবহ সত্য—এই যুদ্ধ কোনো তাৎক্ষণিক সংকট নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র বদলে দেওয়ার এক দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা।

১. পারমাণবিক অজুহাত: একটি সাজানো নাটক?

যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এই হামলা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংসের জন্য। অথচ ট্রাম্প নিজেই কয়েক মাস আগে দাবি করেছিলেন যে, ইরানের সেই সক্ষমতা তিনি ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ করে দিয়েছেন। যদি ধ্বংসই হয়ে থাকে, তবে নতুন করে এই যুদ্ধের উসকানি কেন? মজার বিষয় হলো, ওমান যখন মধ্যস্থতা করে একটি সমঝোতার খুব কাছে পৌঁছে গিয়েছিল, ঠিক তখনই কোনো উসকানি ছাড়াই হামলা শুরু করে ওয়াশিংটন।

২. বেসামরিক হত্যা বনাম ‘মুক্ত করার’ বুলি

ইরানিদের ‘মুক্ত করার’ নাম করে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে প্রথম দিকেই একটি মেয়েদের স্কুলে হামলায় ১৬৫ জন শিশু ও বেসামরিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, শিশুদের রক্ত ঝরিয়ে কোন মুক্তি আনতে চায় পশ্চিমারা? এছাড়া ইরানের একমাত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র’ ত্যাগ করার যে শর্ত দেওয়া হচ্ছে, তা মূলত দেশটিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামনে সম্পূর্ণ ‘অরক্ষিত’ করার একটি সুপরিকল্পিত চাল।

৩. নেতানিয়াহুর ‘৪০ বছরের প্রতীক্ষা’

এই যুদ্ধের নীল নকশা হোয়াইট হাউসে নয়, বরং তৈরি হয়েছে তেল আবিবে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিজেই স্বীকার করেছেন যে, এই যৌথ অভিযানের জন্য তিনি ৪০ বছর ধরে অপেক্ষা করছেন। ১৯৮০-র দশক থেকেই তিনি দাবি করে আসছেন যে ইরান ‘কয়েক মাসের মধ্যে’ বোমা বানিয়ে ফেলবে। চার দশক পার হলেও সেই বোমার দেখা মেলেনি, কিন্তু এই অজুহাতে ইরানকে পঙ্গু করার চেষ্টা থেমে থাকেনি।

"এই যৌথ অভিযান আমাকে সেই লক্ষ্য অর্জনের সুযোগ দিয়েছে, যার জন্য আমি ৪০ বছর ধরে অপেক্ষা করছি। সেই লক্ষ্য হলো সন্ত্রাসী শাসনব্যবস্থাকে পুরোপুরি ধ্বংস করা।"বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু

৪. ইসরায়েলের ‘স্যামসন অপশন’ ও একাধিপত্য

ইসরায়েল নিজের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার গোপন রেখেও মধ্যপ্রাচ্যের অন্য কোনো রাষ্ট্রকে এই শক্তি অর্জন করতে দিতে নারাজ। তাদের ভয়, ইরান যদি উত্তর কোরিয়ার মতো সক্ষমতা অর্জন করে, তবে অঞ্চলে ইসরায়েলের সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব বা ‘সামরিক মুরুব্বিয়ানা’ শেষ হয়ে যাবে। ইরাক, লেবানন, সিরিয়া ও ইয়েমেনের ওপর প্রভাব বজায় রাখতে ইরানকে ধ্বংস করা তাদের জন্য অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।

৫. ইরাক যুদ্ধের পুনরাবৃত্তি: ইতিহাসের নিষ্ঠুর পরিহাস

২০০৩ সালে ইরাকে যেমন ‘গণবিধ্বংসী অস্ত্র’ (WMD)-এর মিথ্যা অজুহাতে হামলা চালানো হয়েছিল, ২০২৬ সালে ইরানের ক্ষেত্রেও একই চিত্রনাট্য মঞ্চস্থ হচ্ছে। ইরাকে কোনো অস্ত্র পাওয়া যায়নি, কিন্তু পুরো দেশটিকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করা হয়েছিল। ইরানের ক্ষেত্রেও আজ সেই একই ‘প্রসববেদনা’র তত্ত্ব হাজির করা হচ্ছে।

উপসংহার: প্রতিরোধের নতুন আগুন

ইরান গাজা বা লেবাননের মতো ছোট কোনো ভূখণ্ড নয়। এটি একটি বিশাল, শক্তিশালী এবং সমৃদ্ধ ইতিহাসের অধিকারী রাষ্ট্র। আয়াতুল্লাহ খামেনির মৃত্যু বা শীর্ষ নেতৃত্বের অপাসারণ হয়তো সাময়িক বিপর্যয় আনবে, কিন্তু এটি পুরো মধ্যপ্রাচ্যে প্রতিরোধের আগুনকে আরও উসকে দেবে। জোনাথন কুকের মতে, এই যুদ্ধের পরিকল্পনা তেল আবিবে হলেও এর পরিণতি কারও নিয়ন্ত্রণে থাকবে না।


তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট আই (Middle East Eye), মূল লেখক: জোনাথন কুক। অনুবাদ ও প্রকাশ: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (৮ মার্চ ২০২৬)।


প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency