আপনার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এবং ১৯৫০ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের বিচারিক ও রাজনৈতিক বিবর্তন বিশ্লেষণ করে 'বাংলাদেশ প্রতিদিন' ওয়েবসাইটের উপযোগী একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন নিচে দেওয়া হলো:
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: দীর্ঘ আট বছরের বিভীষিকাময় গুমজীবন শেষে ‘আয়নাঘর’ থেকে ফিরে আসা ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাশেম আরমানের দ্বিতীয় দিনের জেরা আজ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (টিএফআই) সেলে গুম ও নির্যাতনের মাধ্যমে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে চলমান এই মামলায় আজ মঙ্গলবার (১০ মার্চ, ২০২৬) জেরা শুরু হবে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এই জেরা অনুষ্ঠিত হবে। এদিন ঢাকা সেনানিবাসের বিশেষ কারাগার থেকে গ্রেফতার ১০ উচ্চপদস্থ সামরিক ও র্যাব কর্মকর্তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। এদের মধ্যে রয়েছেন র্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম ও কর্নেল কেএম আজাদসহ ১০ জন। পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।
গত ৮ মার্চ প্রথম দিনের জেরায় বিবাদী পক্ষের আইনজীবী আমিনুল গণি টিটো দাবি করেছিলেন যে, ব্যারিস্টার আরমানকে কোনো বাহিনী গুম করেনি, বরং তিনি আট বছর ‘আত্মগোপনে’ ছিলেন। আরমানের লেখা বই ‘আয়নাঘরের সাক্ষী, গুমজীবনের আট বছর’-এর তথ্যকেও তারা মিথ্যা বলে অভিহিত করেন। তবে সাক্ষী আরমান দৃঢ়তার সঙ্গে এসব দাবি প্রত্যাখ্যান করে তার জবানবন্দিতে অনড় রয়েছেন। আজ লেফটেন্যান্ট কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেমসহ সাত আসামির পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী তাবারক হোসেন জেরা পরিচালনা করবেন।
বাংলাদেশের আইনি ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ১৯৫০-এর দশকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে রাজনৈতিক কর্মীদের ওপর নির্যাতন ও বিনা বিচারে আটকে রাখা ছিল নিয়মিত চিত্র। ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলনের সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ বহু ছাত্রনেতাকে দীর্ঘ সময় জেলে কাটাতে হয়েছে। ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে ১৯৭৩ সালে প্রথম আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন প্রণয়ন করা হয়।
নব্বইয়ের দশকের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের পর দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার দাবি জোরালো হয়। তবে ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ১৫ বছরে ‘গুম’ সংস্কৃতি বাংলাদেশের মানবাধিকারের ইতিহাসে এক কালো অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লব পরবর্তী ‘নতুন বাংলাদেশে’ এই প্রথম উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের ট্রায়াল শুরু হয়েছে। ১৯৫০ সালে যা ছিল রাজবন্দীদের অধিকারের লড়াই, ২০২৬ সালে তা রূপ নিয়েছে ‘গুম’ হওয়া ব্যক্তিদের বিচার পাওয়ার চূড়ান্ত লড়াইয়ে।
ব্যারিস্টার আরমান ২০১৬ সালে গুম হন এবং ২০২৪ সালের আগস্ট বিপ্লবের পর দীর্ঘ ৮ বছর পর মুক্তি পান। তার সাক্ষ্য অনুযায়ী, ডিজিএফআই-এর নিয়ন্ত্রণাধীন গোপন বন্দিশালায় তাকে অমানুষিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছিল। ভুক্তভোগীদের মতে, এই বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশের বিচারিক ইতিহাসে অন্ধকার অধ্যায়ের অবসান ঘটবে।
সূত্র: ১. আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (ICT) কজলিস্ট ও দৈনিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি।
২. ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাশেম আরমানের জবানবন্দি ও প্রকাশিত গ্রন্থ।
৩. জাতীয় আর্কাইভস: বাংলাদেশে মানবাধিকার ও গুমের ইতিহাসের বিবর্তন (১৯৫০-২০২৬)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |