বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্তরা ভারতের পশ্চিমবঙ্গে গ্রেফতার হওয়ার পর দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন এক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সংগঠনের অন্যতম সংগঠক ও ডাকসু নেত্রী ফাতিমা তাসনিম জুমার সঙ্গে ঘাতক ফয়সাল করিম মাসুদের একটি ‘সেলফি’ ভাইরাল হয়েছে। তবে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এক চমকপ্রদ তথ্য—ছবিটি সম্পূর্ণ ভুয়া এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI (Artificial Intelligence) দিয়ে তৈরি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিটি নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হলে ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিষ্ঠান রিউমার স্ক্যানার (Rumor Scanner) বিষয়টি নিয়ে গভীর অনুসন্ধান চালায়। তাদের প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে:
এআই কারসাজি: ফয়সাল করিম মাসুদের সঙ্গে ফাতিমা তাসনিম জুমার আলোচিত ছবিটি কোনো বাস্তব ছবি নয়। এটি এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি করে প্রচার করা হচ্ছে।
তথ্যসূত্রের অভাব: রিউমার স্ক্যানার বিভিন্ন প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড দিয়ে সার্চ করেও এমন কোনো আসল ছবির অস্তিত্ব বা নির্ভরযোগ্য কোনো প্রমাণ খুঁজে পায়নি। এটি মূলত ইনকিলাব মঞ্চ ও এর নেতৃত্বকে বিতর্কিত করার একটি অপচেষ্টা।
ভাইরাল হওয়া এই ছবি এবং তাকে জড়িয়ে ওঠা বিতর্ক নিয়ে একটি বেসরকারি টেলিভিশনের সঙ্গে কথা বলেছেন ফাতিমা তাসনিম জুমা। তিনি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে প্রশাসনের প্রতি কয়েকটি দাবি জানিয়েছেন:
গ্রেফতার ও তদন্তের আহ্বান: জুমা বলেন, "আমার যদি কোনো দোষ থাকে, তবে প্রশাসন আমাকে গ্রেফতার করুক এবং রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করুক।" তিনি মনে করেন, সত্য কখনোই গোপন থাকে না এবং ইন্টারোগেশনের মাধ্যমেই প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।
বিচার বন্ধের ষড়যন্ত্র: তার মতে, শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করতেই তাকে বা জাবের ভাইকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "জুমা বা জাবেরকে দমিয়ে এই বিচার বন্ধ করা যাবে না, কারণ সারা দেশের মানুষ এই হত্যার বিচার চায়।"
জুলাই বিপ্লব পরবর্তী ২০২৬ সালের বাংলাদেশে প্রযুক্তির অপব্যবহার করে রাজনৈতিক নেতাদের চরিত্রহনন বা ফাঁসানোর প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। জুমার মতে, যেদিন ওসমান হাদিকে গুলি করা হয়, সেদিন থেকেই এই ষড়যন্ত্রের শুরু। যারা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে পরোক্ষভাবে জড়িত, তারাই মূলত বিচার প্রক্রিয়াকে ধামাচাপা দিতে এ ধরনের ‘ডিপফেক’ বা ‘এআই জেনারেটেড’ কন্টেন্ট ছড়িয়ে দিচ্ছে।
প্রযুক্তির যুগে ‘ফেসবুক ট্রায়াল’ অনেক সময় নিরপরাধ মানুষকে অপরাধী বানিয়ে দেয়। ফাতিমা তাসনিম জুমার ক্ষেত্রে এআই-এর ব্যবহার এটিই প্রমাণ করে যে, প্রতিপক্ষ এখন কতটা মরিয়া। রিউমার স্ক্যানারের এই তথ্য প্রকাশ পাওয়ায় অপপ্রচারকারীদের পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়েছে। তবে রাষ্ট্র ও প্রশাসনের উচিত—কারা এই ভুয়া ছবি তৈরি করে ছড়িয়েছে, তাদের খুঁজে বের করা। ওসমান হাদি হত্যার বিচার কেবল ইনকিলাব মঞ্চের দাবি নয়, এটি ২০২৬ সালের নতুন বাংলাদেশের ন্যায়বিচারের মানদণ্ড। কোনো গুজব যেন এই বিচার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে না পারে, সেদিকে সজাগ থাকতে হবে।
তথ্যসূত্র: রিউমার স্ক্যানার ফ্যাক্ট-চেক রিপোর্ট (১০ মার্চ ২০২৬), বেসরকারি টেলিভিশন সাক্ষাৎকার ও ইনকিলাব মঞ্চ মিডিয়া সেল।
বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
গুজব প্রতিরোধ ও রাজনৈতিক অপরাধ বিষয়ক সঠিক আপডেট পেতে নিয়মিত চোখ রাখুন:বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |