প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
লন্ডন/ঢাকা, ২২ মার্চ ২০২৬: টেনিসের মক্কা খ্যাত উইম্বলডন তার দীর্ঘ দেড়শ বছরের ঐতিহ্যের সাথে আধুনিক প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয় ঘটাতে যাচ্ছে। আগামী ২৯ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া ২০২৬ উইম্বলডন আসরে চালু হচ্ছে এক বৈপ্লবিক নিয়ম। এখন থেকে চেয়ার আম্পায়ারের নির্দিষ্ট কিছু সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে খেলোয়াড়রা যতবার খুশি ততবার 'ভিডিও রিভিউ' নিতে পারবেন।
ঐতিহ্যবাহী সাদা পোশাক আর ঘাসের কোর্টের এই টুর্নামেন্টে গত বছরই যুক্ত হয়েছিল 'ইলেকট্রনিক লাইন কলিং সিস্টেম'। এবার সেই প্রযুক্তির পাইপলাইনকে আরও শক্তিশালী করতে যুক্ত হচ্ছে ভিডিও চ্যালেঞ্জের এক নতুন দিগন্ত।
বিংশ শতাব্দীর শুরুতে উইম্বলডন ছিল সম্পূর্ণ প্রথাগত। ১৯০০ থেকে ১৯৭০-এর দশক পর্যন্ত আম্পায়ার এবং লাইন জাজদের চোখের সিদ্ধান্তই ছিল চূড়ান্ত। প্রযুক্তির কোনো ছোঁয়া ছিল না বললেই চলে। ১৯০৫ সালে মে ডগলাস সাটন যখন প্রথম আমেরিকান হিসেবে শিরোপা জেতেন বা ১৯২০-এর দশকে সুজান লেংলেনের আধিপত্যের সময়—সবকিছুই চলত মানবিক সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করে। মাঝে মাঝে ভুল সিদ্ধান্তের কারণে তৈরি হতো বিতর্ক, যা টেনিসের ইতিহাসের অংশ হয়ে আছে।
১৯৭০-এর দশকের পর টেনিসে প্রযুক্তির প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হতে থাকে। আশির দশকে 'সাইক্লোপস' এবং পরবর্তীতে ২০০৬ সালে 'হক-আই' (Hawk-Eye) প্রযুক্তির অন্তর্ভুক্তি টেনিসের স্বচ্ছতা বাড়িয়ে দেয়। ২০২৫ সালে উইম্বলডন যখন পূর্ণাঙ্গভাবে 'ইলেকট্রনিক লাইন কলিং সিস্টেম' চালু করে, তখন থেকেই বোঝা যাচ্ছিল যে ২০২৬ সাল হবে আরও বড় কোনো পরিবর্তনের বছর।
গতকাল শনিবার 'অল ইংল্যান্ড লন টেনিস অ্যান্ড ক্রোকে ক্লাব' এক ঐতিহাসিক ঘোষণায় জানিয়েছে, এখন থেকে আম্পায়ারের কিছু সিদ্ধান্ত পছন্দ না হলে খেলোয়াড়রা ভিডিও রিভিউ নিতে পারবেন।
নতুন নিয়মের মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ:
সীমাহীন আবেদন: সাধারণত সেটে ২টি রিভিউ থাকলেও, এই নতুন ভিডিও রিভিউ সিস্টেমে খেলোয়াড়রা যতবার ইচ্ছা আবেদন করতে পারবেন।
কি কি চ্যালেঞ্জ করা যাবে: বল মারার আগে দুইবার ড্রপ খেয়েছে কি না (Not-up), বল শরীরে লেগেছে কি না (Touch), অথবা কোনো ফাউল শট হয়েছে কি না।
কখন নেওয়া যাবে: পয়েন্ট চলাকালীন খেলা থামিয়ে অথবা পয়েন্ট শেষ হওয়ার সাথে সাথেই রিভিউ চাওয়া যাবে।
প্রাথমিক পর্যায়: শুরুতে সেন্টার কোর্ট ও কোর্ট ওয়ানসহ মোট ৬টি কোর্টে এই সুবিধা থাকবে, যা পরবর্তীতে প্রতিটি কোর্টে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।
গুগল এনালাইসিস এবং ২০২৬ সালের স্পোর্টস টেকনোলজি ট্রেন্ড অনুযায়ী, খেলায় স্বচ্ছতা আনতে প্রযুক্তির ব্যবহার এখন অপরিহার্য। ১৯০০ সালের সেই আম্পায়ার-নির্ভর টেনিস থেকে ২০২৬ সালের এই হাই-টেক এআই চালিত রিভিউ সিস্টেম প্রমাণ করে যে, বিশ্ব এখন নির্ভুলতার (Precision) দিকে ধাবিত হচ্ছে। যেমনটি আমরা ডিজিটাল মার্কেটিং বা এসইও-এর ক্ষেত্রে ডেটা-ড্রিভেন সিদ্ধান্ত নিই, উইম্বলডনও এখন ডেটার মাধ্যমেই জয়-পরাজয় নির্ধারণ করছে।
উপসংহার: উইম্বলডনের এই পরিবর্তন প্রমাণ করে যে, সময়ের সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়াই হলো প্রকৃত স্মার্টনেস। গাধার মতো পরিশ্রম বা বিতর্ক না করে প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার বা 'সিস্টেম' তৈরি করাই আধুনিক যুগের সার্থকতা। ২৯ জুনের সেই বিশেষ মুহূর্তের দিকে তাকিয়ে এখন সারা বিশ্ব।
সূত্র: অল ইংল্যান্ড লন টেনিস অ্যান্ড ক্রোকে ক্লাব (AELTC) অফিশিয়াল স্টেটমেন্ট, বিবিসি স্পোর্টস ২০২৬ আর্কাইভ, যুগান্তর স্পোর্টস ডেস্ক, প্রথম আলো এবং ২০২৬ সালের গুগল রিয়েল-টাইম স্পোর্টস অ্যানালাইসিস।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |