প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা, ২২ মার্চ ২০২৬: বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার ২০২৬ বিশ্বকাপ যাত্রার প্রস্তুতিতে নাটকীয় পরিবর্তন এসেছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং ফিফার প্রশাসনিক জটিলতায় স্পেন ও গুয়াতেমালার বিপক্ষে ম্যাচ বাতিল হওয়ার পর, লিওনেল স্কালোনির দল এখন ঘরের মাঠে দুই আফ্রিকান প্রতিপক্ষ—মৌরিতানিয়া ও জাম্বিয়া-র মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। বুয়েন্স আয়ার্সের ঐতিহাসিক 'লা বোম্বোনেরা' স্টেডিয়ামে এই ম্যাচ দুটিই হবে বিশ্বকাপের আগে নিজেদের দর্শকদের সামনে লিওনেল মেসির শেষবারের মতো মাঠে নামা।
আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) নিশ্চিত করেছে যে, ২৭ মার্চ মৌরিতানিয়া এবং ৩১ মার্চ জাম্বিয়ার বিপক্ষে এই প্রীতি ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে। গত নভেম্বরে অ্যাঙ্গোলার বিপক্ষে খেলার পর, এটি হতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনার টানা তৃতীয় ম্যাচ কোনো আফ্রিকান দেশের বিরুদ্ধে।
বিংশ শতাব্দীর শুরুতে ফুটবল যখন কেবল একটি শখ ছিল, তখন ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা রানার্সআপ হয়ে নিজেদের সামর্থ্যের জানান দিয়েছিল। ১৯০০ সাল থেকে ১৯৭৮-এর প্রথম শিরোপা জয়, এরপর ১৯৮৬-তে ম্যারাডোনার জাদু এবং ২০২২-এ মেসির হাতে সোনালী ট্রফি—বাঙালির ফুটবল আবেগের সাথে আর্জেন্টিনার এই বিবর্তন এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। ২০২৬ সালের এই হাই-টেক ফুটবল যুগে আর্জেন্টিনা এখন কেবল একটি দল নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের এক অপরাজেয় 'পাইপলাইন' বা সিস্টেম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
আসন্ন এই দুই ম্যাচের জন্য লিওনেল স্কালোনি ২৮ সদস্যের শক্তিশালী স্কোয়াড ঘোষণা করেছেন। তবে ইনজুরির কারণে দলে নেই লাউতারো মার্টিনেজ, লিসান্দ্রো মার্টিনেজ এবং জিওভান্নি লো সেলসো।
স্কোয়াডের বিশেষ দিকসমূহ:
নতুন মুখ: প্রথমবারের মতো জাতীয় দলে ডাক পেয়েছেন টমাস প্যালাসিওস ও গ্যাব্রিয়েল রোহাস।
তরুণ তুর্কি: দলে যুক্ত হয়েছেন ফ্রাঙ্কো মাস্তান্তুয়োনো এবং জোয়াকিন পানিচেলি।
বিতর্ক ও প্রত্যাবর্তন: রিয়াল মাদ্রিদের ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের সাথে বিতর্কে জড়ানো জিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ানিকে দলে ডেকে চমক দিয়েছেন স্কালোনি। এছাড়াও মার্কাস আকুনা দলে ফিরেছেন।
অভিজ্ঞ নেতৃত্ব: যথারীতি দলের নেতৃত্বে থাকছেন ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসি। সাথে আছেন এমিলিয়ানো মার্টিনেজ, ডি পল এবং এনজো ফার্নান্দেজের মতো পরীক্ষিত তারকারা।
গুগল এনালাইসিস এবং ২০২৬ সালের স্পোর্টস ফোরকাস্ট অনুযায়ী, বিশ্বকাপের আগে আফ্রিকান দলগুলোর বিপক্ষে খেলা আর্জেন্টিনার জন্য একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত। আফ্রিকান দলগুলোর শারীরিক শক্তি এবং গতি ২০২৬ বিশ্বকাপে মেসিদের কন্ডিশনের সাথে মানিয়ে নিতে সাহায্য করবে। ১৯০০ সালের সেই ধীরগতির ফুটবল থেকে ২০২৬ সালের এই পাওয়ার-ফুটবল—আর্জেন্টিনা প্রমাণ করেছে যে পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়াই হলো শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখার চাবিকাঠি।
উপসংহার: ঘরের মাঠে দর্শকদের ভালোবাসা নিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপে নিজেদের শিরোপা ধরে রাখার মিশনে নামবে আলবিসেলেস্তেরা। এই দুই ম্যাচ কেবল প্রস্তুতি নয়, বরং এক কিংবদন্তি প্রজন্মের বিদায়ী আমেজও বটে। সাফল্যের এই 'পাইপলাইন' ধরে রেখে আর্জেন্টিনা কি পারবে আবারও বিশ্বজয় করতে? উত্তর মিলবে বিশ্বকাপের মাঠেই।
সূত্র: আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (AFA) অফিসিয়াল রিপোর্ট, ফিফা ইন্টারন্যাশনাল ক্যালেন্ডার ২০২৬, ইএসপিএন স্পোর্টস, দৈনিক প্রথম আলো স্পোর্টস এবং ২০২৬ সালের গুগল গ্লোবাল ফুটবল ইনসাইট।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |