ইরানি জ্বালানি আমদানিতে ভারতের চমক: হরমুজ সংকট কাটিয়ে প্রথম এলপিজি কার্গো!
বিশেষ বিশ্লেষণে: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (সিনিয়র ডিজিটাল স্ট্র্যাটেজিস্ট)
দীর্ঘ সাত বছর পর ইরানের তেল ও পরিশোধিত জ্বালানির ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে প্রত্যাহারের সুফল পেতে শুরু করেছে দক্ষিণ এশিয়ার পরাশক্তি ভারত। ২০১৯ সালের পর এই প্রথম ইরান থেকে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (LPG) আমদানি করেছে দেশটি। বিশ্ব রাজনীতির এই নাটকীয় পরিবর্তন ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তায় এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, ইরানি এলপিজি বহনকারী নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত ট্যাঙ্কার 'অরোরা' খুব শিগগিরই ভারতের পশ্চিম উপকূলের ম্যাঙ্গালোর বন্দরে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই কার্গোটি ভারতের জ্বালানি খাতের তিন প্রধান রাষ্ট্রীয় তেল সংস্থা—ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশন (IOC), ভারত পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (BPCL) এবং হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (HPCL)-এর মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হবে।
২০১৯ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রশাসনের চাপের মুখে ভারত ইরান থেকে সব ধরনের জ্বালানি কেনা বন্ধ করে দিয়েছিল। এর ফলে ভারত তার অন্যতম প্রধান এবং সাশ্রয়ী জ্বালানি উৎস হারায়। তবে ২০২৬ সালের বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়ার পর ভারত দ্রুত তার পুরনো মিত্রের সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধারে মনোযোগ দিয়েছে।
ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরাইল যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
এই সংকটের ফলে ভারত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম।
প্রণালিটি দিয়ে বিশ্বের মোট জ্বালানির এক-তৃতীয়াংশ পরিবাহিত হয়, যা যুদ্ধের কারণে ঝুঁকির মুখে পড়েছিল।
হরমুজ প্রণালি পার হলেই ইরান বিপুল পরিমাণ টোল বা মাশুল আদায় করছে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখছে। ভারতের জন্য ইরানের সাথে এই সরাসরি এলপিজি চুক্তি একদিকে যেমন জ্বালানি খরচ কমাবে, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার মাঝে বিকল্প সরবরাহ নিশ্চিত করবে।
বিশেষ বিশ্লেষণ:
বাংলাদেশ থেকে হাজার কোটি টাকা পাচার: পি কে হালদার ও ওসি প্রদীপের নেপথ্য কাহিনী
ভারতের এই সাহসী পদক্ষেপ প্রমাণ করে যে আন্তর্জাতিক চাপের চেয়ে নিজের জ্বালানি নিরাপত্তাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে নয়াদিল্লি। ইরানি এলপিজি কার্গোর আগমন ভারতের সাধারণ মানুষের জন্য গ্যাসের দাম কমাতে সহায়ক হবে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |