ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (সিনিয়র ডিজিটাল স্ট্র্যাটেজিস্ট ও ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স স্পেশালিস্ট)
ঢাকা, ৬ এপ্রিল ২০২৬: পশ্চিম এশিয়ার বারুদ যখন যেকোনো মুহূর্তে বিস্ফোরিত হওয়ার অপেক্ষায়, ঠিক তখনই ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস. জয়শঙ্করের কাছে ফোন এলো তেহরান থেকে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগাচি বর্তমান উত্তপ্ত পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থা নিয়ে ভারতের সাথে আলোচনা করেছেন। ভারত এই মুহূর্তে কোনো পক্ষ না নিলেও তাদের বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল আমদানির পথ সচল রাখতে মরিয়া।
ভারতের বর্তমান পররাষ্ট্রনীতি মূলত তাদের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর ‘জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন’ (Non-Aligned Movement)-এর একটি আধুনিক ও বাস্তববাদী রূপ।
ঐতিহাসিক তুলনা: ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারত যেমন একদিকে সোভিয়েত ইউনিয়নের সাথে চুক্তি করেছিল, আবার অন্যদিকে বিশ্ব জনমত গঠনে কাজ করেছিল; আজ ২০২৬-এ ভারত তেমনি আমেরিকার ঘনিষ্ঠ মিত্র হয়েও ইরানের সাথে সরাসরি সংলাপ বজায় রাখছে। জয়শঙ্করের এই ‘ব্যালেন্সিং অ্যাক্ট’ প্রমাণ করে যে, ভারত তার নিজের ‘কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন’ (Strategic Autonomy) বিসর্জন দিতে রাজি নয়।
ভারতের মোট আমদানিকৃত তেলের একটি বিশাল অংশ আসে হরমুজ প্রণালি দিয়ে। এখানে অবরোধ মানেই ভারতের অর্থনীতিতে ধস।
প্রভাব বিশ্লেষণ: ভারত যদি এই সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে তার সরাসরি প্রভাব পড়বে বাংলাদেশের ওপর। আমাদের ‘এক পা এক পা’ করে এগোনোর পথে ভারত আমাদের অন্যতম বড় বাণিজ্যিক অংশীদার। ভারতের জ্বালানি সংকট মানেই বাংলাদেশে আমদানি করা পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়া। জয়শঙ্কর এই আলোচনায় নিশ্চয়ই হরমুজ প্রণালিতে ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজের নিরাপত্তার বিষয়টি তুলে ধরেছেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের মঙ্গলবারের ডেডলাইনের আগে ইরানের এই ফোনকল ইঙ্গিত দেয় যে, তেহরান হয়তো ভারতকে একটি ‘সেতুবন্ধন’ হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে।
ব্যক্তিত্বের তুলনা: এস. জয়শঙ্কর তাঁর তুখোড় কূটনৈতিক বুদ্ধির জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। তিনি জানেন, ইরানকে পুরোপুরি কোণঠাসা করলে তেলের দাম ১৫০ ডলার স্পর্শ করবে, যা ভারতের ক্রমবর্ধমান অর্থনীতির জন্য আত্মঘাতী হবে। তাই তিনি হয়তো পর্দার আড়ালে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি ‘ব্যাক-চ্যানেল’ ডিপ্লোম্যাসি বা নেপথ্য কূটনীতি চালাচ্ছেন।
ইরানের চাবাহার বন্দরে ভারতের বিশাল বিনিয়োগ রয়েছে। যুদ্ধের আগুনে এই বন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া মানে ভারতের কয়েক বিলিয়ন ডলারের স্বপ্ন ধূলিসাৎ হওয়া।
কৌশলগত প্রেক্ষাপট: পাকিস্তান ও চীন যেভাবে আফগানিস্তানকে নিয়ে ‘উরুমকি বৈঠকে’ ব্যস্ত (যেমনটি আমরা আগে দেখেছি), ভারত তখন ইরানের মাধ্যমে মধ্য এশিয়ায় ঢোকার পথটি সুরক্ষিত রাখতে চাইছে। আরাগাচির সাথে জয়শঙ্করের এই কথা বলা মূলত ভারতের সেই দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ রক্ষারও একটি চেষ্টা।
বিডিএস অ্যানালাইসিস: ভারত এখন খাদের কিনারে দাঁড়িয়ে আছে। একদিকে ট্রাম্পের ‘প্রস্তর যুগ’ হুমকি, অন্যদিকে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের হুঙ্কার। জয়শঙ্করের সংক্ষিপ্ত টুইট (X post) অনেক না বলা কথার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ভারত হয়তো এখন সেই ‘শান্তি দূত’ হতে চাইছে, যে যুদ্ধের আগুন নেভাতে না পারলেও অন্তত নিজের তেলের জাহাজগুলোকে নিরাপদে সরিয়ে আনতে পারবে। ২০২৬ সালের এই সংকট ভারতের কূটনৈতিক পরিপক্কতার সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।
| বিষয়ের ক্ষেত্র | গুরুত্ব ও প্রভাব |
| জ্বালানি নিরাপত্তা | হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরবচ্ছিন্ন তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা। |
| কৌশলগত অবস্থান | আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা। |
| অর্থনৈতিক ঝুঁকি | তেলের দাম ১১০ ডলার ছাড়ানোয় ভারতের মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ। |
| আঞ্চলিক নিরাপত্তা | পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়া রোধে ভারতের পর্যবেক্ষণ। |
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |