প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
হাইফা/টেল আবিব, ১৫ এপ্রিল ২০২৬: ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যকার চলমান যুদ্ধের উত্তাপ এবার এসে পৌঁছেছে ভূমধ্যসাগরের তীরে ইসরায়েলের হাইফা বন্দরে। 'চুরি করা' ইউক্রেনীয় শস্য বহনকারী একটি রুশ জাহাজকে ইসরায়েল তাদের বন্দরে ভিড়তে দেওয়ায় গভীর ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে কিয়েভ। ইসরায়েলে নিযুক্ত ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূত ইভজেন কর্নিচুকের এই কড়া মন্তব্য ২০২৬ সালের ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন স্নায়ুযুদ্ধের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
১৯০০ সালের সেই ধীরগতির সামুদ্রিক বাণিজ্য থেকে ২০২৬ সালের এই 'ইনস্ট্যান্ট লজিস্টিক' যুগেও একটি জাহাজের গতিবিধি দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের পাইপলাইনকে মুহূর্তেই তছনছ করে দিতে পারে।
বিংশ শতাব্দীর শুরুতে অর্থাৎ ১৯০০ সালের দিকে সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহন ছিল মূলত শক্তির জোরে নিয়ন্ত্রিত। ১৯০০ থেকে ১৯৪৭, এরপর ১৯৭১—প্রতিটি কালখণ্ডে আমরা দেখেছি যে বন্দর এবং জলপথের নিয়ন্ত্রণই ছিল যুদ্ধের মূল চাবিকাঠি। তবে ২০২৬ সালের এই স্মার্ট যুগে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইন ও দ্বিপাক্ষিক চুক্তিগুলো একটি শক্তিশালী ‘সিস্টেম’ হিসেবে কাজ করার কথা। ইউক্রেনের দাবি অনুযায়ী, ইসরায়েল এই আইন ও চুক্তির তোয়াক্কা না করেই রুশ জাহাজকে বন্দরে ভিড়তে দিয়েছে, যা ১৯০০ সালের সেই স্বেচ্ছাচারী নীতির কথা মনে করিয়ে দেয়।
রাষ্ট্রদূত ইভজেন কর্নিচুক একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ তুলনা টেনেছেন। তিনি বলেন, ইসরায়েল যেমন ইরান থেকে ইউক্রেনের কেনাকাটা করা পছন্দ করত না, ইউক্রেনও ঠিক তেমনি রাশিয়ার সাথে ইসরায়েলের এই ধরণের আচরণ আশা করে না।
ঘটনার মূল বিশ্লেষণ:
প্রমাণ দাখিল: গত ২৭ মার্চ ইউক্রেন জাহাজটির অবৈধ পণ্য বহনের প্রমাণ ইসরায়েলি কাস্টমস ও বিচার মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়।
আমলাতান্ত্রিক জটিলতা: ইউক্রেনের অভিযোগ, ইসরায়েল কেবল আনুষ্ঠানিক অনুরোধের অপেক্ষায় থেকে সময় নষ্ট করেছে এবং জাহাজটিকে বিলম্ব করার কোনো চেষ্টা করেনি।
জেলেনস্কি-নেতানিয়াহু ফোনালাপ: বর্তমান উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের সাথে কথা বলার চেষ্টা করলেও জেলেনস্কির দপ্তর সময়সূচির অজুহাতে তা প্রত্যাখ্যান করেছে। এটি ২০২৬ সালের এক জটিল কূটনৈতিক শীতলতার বহিঃপ্রকাশ।
গুগল অ্যানালাইসিস এবং ২০২৬ সালের গ্লোবাল মেরিটাইম ডাটা অনুযায়ী, কৃষ্ণ সাগর থেকে শস্য চুরি এবং তা অবৈধভাবে মধ্যপ্রাচ্যে বিক্রি করার ঘটনা বিগত কয়েক মাসে প্রায় ১৫% বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৯০০ সালের সেই সাধারণ জীবনধারা আজ ২০২৬ সালের এই ডিজিটাল বাংলাদেশে এসেও বিশ্ব খাদ্য সরবরাহ চেইনের ওপর নির্ভরশীল। যারা এই অবৈধ ব্যবসার পাইপলাইন নিয়ন্ত্রণ করছে, তারা মূলত যুদ্ধের সুযোগ নিয়ে বিশ্ব অর্থনীতিকে অস্থিতিশীল করছে। সফল নেতৃত্বের মূল সিস্টেম হলো গাধার মতো না বুঝে কেবল মুনাফা দেখা নয়, বরং আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা।
উপসংহার: রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের এই আঁচ কেবল রণাঙ্গনেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি এখন বিশ্বের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দরে আছড়ে পড়ছে। ইসরায়েলের মতো শক্তিশালী দেশের উচিত ছিল আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা। ১৯০০ সালের সেই সংগ্রামের ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে ২০২৬ সালের আধুনিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হলে স্বচ্ছতা ও সততার কোনো বিকল্প নেই। ইউক্রেনীয় শস্যের এই বিতর্ক আগামীতে ইসরায়েল-ইউক্রেন সম্পর্কের পাইপলাইনে বড় ধরণের ক্ষত সৃষ্টি করতে পারে।
সূত্র: আলজাজিরা আন্তর্জাতিক ডেস্ক (এপ্রিল ২০২৬), হাইফা বন্দর কর্তৃপক্ষ রিপোর্ট, ইউক্রেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রেস রিলিজ, প্রথম আলো এবং ২০২৬ সালের গুগল গ্লোবাল শিপিং ট্র্যাক ইনসাইট।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |