আরপিও’র মারপ্যাঁচে জামায়াত জোটের প্রার্থী: মনিরা শারমিনের আসন কি হাতছাড়া হচ্ছে?
সংসদ প্রতিবেদক: [BDS Bulbul Ahmed]
তারিখ: ২২ এপ্রিল ২০২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার উৎসবমুখর পরিবেশের মাঝেই জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটে বিষাদের সুর বেজেছে। আইনি জটিলতার কারণে জোটের মনোনীত প্রার্থী ও এনসিপি নেত্রী মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র বাতিলের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) ১২ অনুচ্ছেদের ৩ বছর মেয়াদি বিধিনিষেধই এখন তাঁর সংসদ সদস্য হওয়ার পথে প্রধান অন্তরায়।
নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি সরকারি বা সংবিধিবদ্ধ সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে পদত্যাগ বা অবসরের তিন বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন না। মনিরা শারমিন রাষ্ট্রায়ত্ত কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা ছিলেন এবং গত বছরের ডিসেম্বরে তিনি পদত্যাগ করেছেন। আইন অনুযায়ী, পদত্যাগের পর অন্তত ৩৬ মাস (৩ বছর) অতিবাহিত না হলে তিনি জনপ্রতিনিধি হওয়ার যোগ্যতা হারাবেন।
আজ বুধবার (২২ এপ্রিল) মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের দিনে মনিরা শারমিনের প্রার্থিতা নিয়ে দীর্ঘ শুনানি হয়। নির্বাচন কমিশন তাঁর প্রয়োজনীয় তথ্যাদি যাচাইয়ের জন্য প্রার্থিতা আগামীকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত স্থগিত রেখেছে। এই সময়ের মধ্যে তাঁকে পদত্যাগ সংক্রান্ত অকাট্য প্রমাণাদি দাখিল করতে হবে। তবে যেহেতু তাঁর পদত্যাগ এক বছরও পূর্ণ হয়নি, তাই কারিগরিভাবে তাঁর মনোনয়নপত্র টিকে থাকা প্রায় অসম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আনুপাতিক হারে ১১ দলীয় জোটের জন্য নির্ধারিত ১৩টি আসনের মধ্যে জামায়াত ৮টি এবং এনসিপিসহ বাকি শরিকরা ৫টি আসন পেয়েছিল। মনিরা শারমিনের আসনটি এনসিপির জন্য বরাদ্দ ছিল। যদি তাঁর প্রার্থিতা চূড়ান্তভাবে বাতিল হয়, তবে জামায়াত জোটের ওই আসনটি ‘উন্মুক্ত’ হয়ে যেতে পারে, যা জোটের শক্তির ভারসাম্যে বড় আঘাত।
এই পরিস্থিতিতে জামায়াত বা এনসিপি বিকল্প কোনো প্রার্থীর নাম প্রস্তাব করতে পারবে কি না, তা নিয়ে আইনি বিতর্ক রয়েছে। কারণ মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময়সীমা গতকালই শেষ হয়ে গেছে। কোনো দলের প্রার্থী না থাকলে সেই আসনটি অন্য যোগ্য প্রার্থীদের জন্য উন্মুক্ত হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
বিডিএস পর্যবেক্ষণ (Editorial Insight): আরপিও’র ১২ অনুচ্ছেদের এই ‘৩ বছর বিধি’ নিয়ে উচ্চ আদালতে অতীতে অনেক রিট হলেও বিধানটি এখনও বহাল আছে। রাজনৈতিক দলগুলোর মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রার্থীর ব্যাকগ্রাউন্ড চেক করার ক্ষেত্রে যে গাফিলতি ছিল, মনিরা শারমিনের ঘটনাটি তার একটি বড় প্রমাণ। জামায়াতের মতো সুশৃঙ্খল জোটের জন্য এটি একটি বড় শিক্ষণীয় ঘটনা।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |