সংসদ প্রতিবেদক: [BDS Bulbul Ahmed]
তারিখ: ২৩ এপ্রিল ২০২৬
একটি মাত্র শব্দ—‘গুপ্ত’। আর এই শব্দকে কেন্দ্র করেই বুধবার জাতীয় সংসদের অধিবেশন রূপ নিল রণক্ষেত্রে। চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজে ছাত্রদলের ওপর হামলা এবং ওই স্লোগানে ব্যবহৃত শব্দ নিয়ে সরকারদলীয় সংসদ সদস্য আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া এবং বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ ও পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারিতে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সংসদ কক্ষ।
রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া সরাসরি বিরোধী দলকে আক্রমণ করেন। চট্টগ্রাম সিটি কলেজের ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “ছাত্রদলের অপরাধ কী ছিল? তারা শুধু ‘গুপ্ত’ শব্দটি লিখেছিল। এই একটি শব্দের জন্য তাদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়েছে। এটি কেবল হামলা নয়, বরং গণতন্ত্রের ওপর আঘাত।”
তিনি আরও বলেন, “যারা স্বাধীনতা ও উন্নয়ন মেনে নিতে পারেনি, তারাই আজ সরকারকে নাজেহাল করতে চক্রান্ত করছে। আমাদের ভোটাররা আঙুল চুষবে না, চক্রান্ত হলে রাজপথেই তার দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে।”
সরকারদলীয় সংসদ সদস্যের এমন বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানান বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়ার বক্তব্যকে ‘অসংসদীয়’ আখ্যা দিয়ে তা কার্যবিবরণী থেকে বাদ (এক্সপাঞ্জ) দেওয়ার দাবি জানান।
শফিকুর রহমান বলেন, “একজন সংসদ সদস্য যেভাবে হুমকির ভাষায় কথা বললেন, তাতে আমরা স্তম্ভিত। ‘জনগণ বসে থাকবে না’ বলে তিনি কি দেশে গৃহযুদ্ধের উসকানি দিচ্ছেন? বিরোধী দলের কণ্ঠরোধ করার এই চেষ্টা সুস্থ গণতন্ত্রের পরিপন্থী।” তিনি স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, এ ধরনের মারমুখী বক্তব্য সংসদীয় আচরণকে কলঙ্কিত করছে।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রামের সরকারি সিটি কলেজে ছাত্রদলের একটি দেয়াল লিখনকে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত। সেখানে ‘গুপ্ত’ শব্দটি ব্যবহার করে একটি স্লোগান লেখা হয়েছিল, যা ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রচণ্ড ক্ষোভের সৃষ্টি করে। স্থানীয় রাজনীতিতে এই শব্দটি নিয়ে বিভিন্ন গুঞ্জন ও বিতর্ক থাকলেও সংসদে এর আলোচনা নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
বিডিএস পর্যবেক্ষণ (Editorial Insight): সংসদীয় গণতন্ত্রে গঠনমূলক বিতর্ক কাম্য হলেও, বর্তমানে ‘হুমকি-ধমকি’র সংস্কৃতি জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম সিটি কলেজের মতো একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংসদের ভেতরে ‘রাজপথের লড়াইয়ের’ হুমকি দেওয়া সংসদীয় শিষ্টাচারের পরিপন্থী। ‘গুপ্ত’ শব্দের আড়ালে কোনো গোপন রাজনৈতিক এজেন্ডা আছে কি না, তা নিয়ে জনমনে কৌতূহল এখন তুঙ্গে।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |