| বঙ্গাব্দ

ভারত মহাসাগরে ইরানের ৩টি সুপারট্যাংকার জব্দ করল মার্কিন বাহিনী

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 23-04-2026 ইং
  • 60850 বার পঠিত
ভারত মহাসাগরে ইরানের ৩টি সুপারট্যাংকার জব্দ করল মার্কিন বাহিনী
ছবির ক্যাপশন: সুপারট্যাংকা

ভারত মহাসাগরে ইরানের ৩টি তেলবাহী সুপারট্যাংকার জব্দ করল যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: [BDS Bulbul Ahmed]

তারিখ: ২৩ এপ্রিল ২০২৬

ইরানের ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধের অংশ হিসেবে এবার ভারত মহাসাগরে অভিযান চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল কর্তৃপক্ষ এবং রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের তিনটি বিশালাকার ট্যাংকার জাহাজ— ডিপ সি (Deep Sea), সেভিন (Sevin) এবং দোরেনা (Dorena)— জব্দ করেছে মার্কিন সেন্টকোম। জাহাজগুলোতে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ছিল বলে জানা গেছে।

১. কোথায় এবং কীভাবে জব্দ করা হলো?

মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জাহাজগুলো জব্দের সঠিক স্থান প্রকাশ না করলেও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘মেরিন ট্রাফিক’ জানিয়েছে, ভারত মহাসাগরের এমন এক অঞ্চল থেকে এগুলো আটক করা হয়েছে যা ভারত, মালয়েশিয়া এবং শ্রীলঙ্কার ভূখণ্ডের কাছাকাছি।

  • ডিপ সি: এটি একটি সুপারট্যাংকার, যা জব্দের সময় আংশিক তেলপূর্ণ ছিল। গত সপ্তাহে এটিকে মালয়েশিয়া উপকূলে দেখা গিয়েছিল।

  • সেভিন: ১০ লাখ ব্যারেল তেলসহ (ধারণক্ষমতার ৬৫%) আটক করা হয় এই জাহাজটিকে। এক মাস আগে এটি মালয়েশিয়া উপকূলে অবস্থান করছিল।

  • দোরেনা: এটি সম্পূর্ণ লোডেড অবস্থায় ছিল। জব্দের পর জাহাজটিতে ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পাওয়া গেছে। তিন দিন আগে এটি ভারতীয় উপকূলে দেখা গিয়েছিল।

২. ব্যর্থ সংলাপ ও ট্রাম্পের অবরোধের প্রভাব

গত ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে অনুষ্ঠিত সংলাপ ব্যর্থ হওয়ার পর ১২ এপ্রিল থেকে ইরানি বন্দরগুলোতে অবরোধ জারির ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেন্টকোমের তথ্যমতে, ট্রাম্পের ঘোষণার পর থেকে এ পর্যন্ত ইরানি বন্দর থেকে ছেড়ে যাওয়া ২৯টি জাহাজ ও নৌযানকে জোরপূর্বক বন্দরে ফেরত পাঠিয়েছে মার্কিন বাহিনী।

৩. জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার শঙ্কা

ইরানি তেলবাহী বড় তিনটি জাহাজ জব্দের এই ঘটনা বৈশ্বিক বাজারে তেলের সরবরাহ এবং দামের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে ভারত মহাসাগরের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য পথে মার্কিন বাহিনীর এই সক্রিয়তা এশিয়ার দেশগুলোর জন্য জ্বালানি আমদানিতে বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে।


বিডিএস পর্যবেক্ষণ (Editorial Insight): ট্রাম্পের এই ‘ম্যাক্সিমাম প্রেসার’ পলিসি বা সর্বোচ্চ চাপ দেওয়ার নীতি ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করার একটি শেষ চেষ্টা। তবে ভারত মহাসাগরে এই ধরনের অভিযান আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনের লঙ্ঘন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। ইরানের পক্ষ থেকে এর পাল্টাপাল্টি কোনো পদক্ষেপ— যেমন পারস্য উপসাগরে বিদেশি জাহাজ আটক— পরিস্থিতিকে একটি ভয়াবহ সামরিক সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency