| বঙ্গাব্দ

জামায়াতকে নির্মূল করার ডাক মির্জা ফখরুলের: বিএনপি-জামায়াত সংঘাত চূড়ান্ত

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 25-04-2026 ইং
  • 23243 বার পঠিত
জামায়াতকে নির্মূল করার ডাক মির্জা ফখরুলের: বিএনপি-জামায়াত সংঘাত চূড়ান্ত
ছবির ক্যাপশন: মির্জা ফখরুল

জামায়াতকে রাজনৈতিকভাবে নির্মূল করতে হবে’: আমিরের বক্তব্যে ফখরুলের নজিরবিহীন হুঁশিয়ারি

বিশেষ প্রতিবেদন: BDS Bulbul Ahmed

তারিখ: ২৫ এপ্রিল ২০২৬

বিভাগ: জাতীয় রাজনীতি

বাংলাদেশের রাজনৈতিক আকাশে নতুন করে বাজছে সংঘাতের দামামা। দীর্ঘদিনের মিত্র বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যকার সম্পর্ক এখন তলানিতে। নির্বাচনে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ করে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে—জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের এমন বিস্ফোরক বক্তব্যের পর পাল্টা আক্রমণে নেমেছে বিএনপি। দলটিকে রাজনৈতিকভাবে ‘নির্মূল’ করার কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

১. জামায়াতকে রাজনৈতিকভাবে নির্মূলের ডাক

শনিবার (২৫ এপ্রিল) নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল সরাসরি জামায়াতকে লক্ষ্য করে বলেন, “দেশকে আবার ভিন্নভাবে তারা স্বৈরাচারের দিকে নিতে চায় কি না—সেই চিন্তা আমাদের করতে হবে। তাদের যে অতীত ইতিহাস, আমরা সবাই জানি। দেশবাসী সচেতনভাবে তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। আগামীতে যেন রাজনৈতিকভাবে তাদের পুরোপুরি নির্মূল করা যায়, সেভাবে আমাদের কাজ করতে হবে।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপির কোনো শীর্ষ নেতার মুখ থেকে জামায়াতকে নিয়ে ‘নির্মূল’ করার মতো কঠোর শব্দ ব্যবহার ২০২৬ সালের রাজনীতিতে এক অভাবনীয় মোড়।

২. নির্বাচনের বৈধতা ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট

জামায়াত আমিরের ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ তত্ত্ব নাকচ করে দিয়ে মির্জা ফখরুল দাবি করেন, ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনটি ছিল ১৮ বছরের মধ্যে সবচেয়ে স্বচ্ছ। তিনি বলেন, “দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক ও আন্তর্জাতিক মহল যেখানে ২১৩টি আসন পাওয়া বিএনপি সরকারকে স্বীকৃতি দিয়েছে, সেখানে জামায়াত আমিরের এমন মন্তব্য সুস্থ চিন্তার পরিপন্থী এবং বিভেদ তৈরির অপচেষ্টা।”

৩. পেছনের কথা: কেন এই দূরত্ব?

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিএনপি ও জামায়াত একসঙ্গে সংস্কারের কথা বললেও, ২০২৬ সালের নির্বাচনের মনোনয়ন ও আসন বণ্টন নিয়ে দুই দলের মধ্যে ফাটল ধরে। জামায়াত চেয়েছিল বড় ধরনের অংশীদারিত্ব, কিন্তু একক জনপ্রিয়তায় ক্ষমতায় আসা বিএনপি এখন তাদের পুরনো মিত্রকে কোনো ছাড় দিতে রাজি নয়। এই ক্ষমতার দ্বন্দ্বই এখন প্রকাশ্য ‘বাকযুদ্ধে’ রূপ নিয়েছে।

৪. বিরোধী শিবিরের চাপ ও মে দিবসের শক্তি প্রদর্শন

একদিকে জামায়াত আমিরের সমালোচনা, অন্যদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের ‘সরকার অজনপ্রিয়’ হওয়ার দাবির মুখে কিছুটা চাপে রয়েছে বিএনপি। এই চাপ সামাল দিতেই ১ মে মহান মে দিবসে নয়াপল্টনে বড় ধরনের সমাবেশের ডাক দিয়েছে শ্রমিক দল, যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই সমাবেশকে মূলত জামায়াত ও অন্যান্য বিরোধী শক্তির সমালোচনার দাঁতভাঙ্গা জবাব হিসেবে দেখছে বিএনপি।


তথ্যসূত্র ও এনালাইসিস (References & Insights):

  • দলীয় বিবৃতি: বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে প্রদত্ত প্রেস নোট (২৫ এপ্রিল ২০২৬)।

  • ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ৫ আগস্ট পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কার্যকাল ও ২০২৬-এর জাতীয় নির্বাচনের ফলাফল।

  • বিগত সংবাদ: জামায়াত আমিরের সাম্প্রতিক বিভিন্ন সেমিনারে দেওয়া বক্তব্য এবং বিএনপির পাল্টা অবস্থান।

  • গুগল নিউজ ও পলিটিক্যাল ট্রেন্ড: দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে ইসলামপন্থী দল বনাম জাতীয়তাবাদী দলগুলোর ক্রমবর্ধমান দূরত্ব।


বিডিএস সম্পাদকীয় পর্যবেক্ষণ: ২০২৬ সালের এই প্রেক্ষাপটে দেখা যাচ্ছে, দীর্ঘদিনের ‘সুবিধা ও আদর্শের’ মিত্রতা এখন প্রকাশ্য শত্রুতায় পরিণত হয়েছে। জামায়াতকে ‘রাজনৈতিকভাবে নির্মূল’ করার যে ডাক মির্জা ফখরুল দিয়েছেন, তা রাজপথে বড় ধরনের অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে পারে। ১ মে-র সমাবেশে তারেক রহমানের উপস্থিতি এই সংঘাতের আগুনে ঘি ঢালবে না কি শান্তির বার্তা দেবে, তা-ই এখন দেখার বিষয়।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency