প্রতিবেদক: BDS Bulbul Ahmed
তারিখ: ২৮ এপ্রিল ২০২৬
বিভাগ: রাজনীতি / বাণিজ্য
উৎস: (টকশো ‘খালেদ মহিউদ্দিনের ঠিকানা’ ও এনবিআর সূত্র)
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বহুল আলোচিত অ্যাগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড (ART) চুক্তি স্বাক্ষরের পর দেশীয় পণ্যের ওপর আরোপিত পালটা শুল্কহার ২০ শতাংশ থেকে কমে ১৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। তবে এই চুক্তিটি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। বিশেষ করে ৯ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের এই সিদ্ধান্ত এবং প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর 'সম্মতি' ছিল কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
সম্প্রতি সাংবাদিক খালেদ মহিউদ্দিনের টকশোতে সাবেক প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান যে, যেকোনো আন্তর্জাতিক চুক্তি স্বাক্ষরের আগে তা ক্যাবিনেটে (মন্ত্রিসভায়) অনুমোদন হতে হয়। তিনি বলেন, “এআরটি চুক্তিটি যেহেতু গুরুত্বপূর্ণ, এটি ক্যাবিনেটে ডিসকাশন হওয়ার এবং অ্যাপ্রুভ হওয়ারই কথা। এটাই আন্তর্জাতিক প্রটোকল।”
সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান দাবি করেছিলেন যে, নির্বাচনের আগে বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতাদের এই চুক্তির বিষয়ে জানানো হয়েছিল এবং তাঁরা সম্মতি দিয়েছিলেন। তবে শফিকুল আলম জানান, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার বিষয়টি তাঁর সরাসরি জানা নেই। তিনি বলেন, “খলিলুর রহমান যেহেতু লিড নেগোশিয়েটর ছিলেন, তিনি বললে তা সত্য হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তবে ক্যাবিনেটে দলগুলোর নাম নিয়ে আলোচনা হয়েছে কি না, তা আমার জানা নেই।”
বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের একটি বক্তব্য। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, এই চুক্তি নিয়ে তাঁদের সঙ্গে কোনো কথা বলা হয়নি। খালেদ মহিউদ্দিনের প্রশ্নে শফিকুল আলম সরাসরি কোনো মন্তব্য না করে বলেন, “কার বক্তব্য সঠিক তা যাচাই করতে খলিল সাহেবের সঙ্গেই কথা বলা উচিত।”
এদিকে এআরটি বাতিলের দাবিতে সরব হয়েছে সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোট। গত ২১ এপ্রিল বরিশালের বিভিন্ন স্থানে পথসভায় বক্তারা বলেন, নির্বাচনের আগে তাড়াহুড়ো করে করা এই চুক্তি দেশের অর্থনীতি, নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্য ক্ষতিকর। তাদের মতে, এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব আরও শক্তিশালী হবে।
| ঘটনার ক্রম | বিস্তারিত |
| ২ এপ্রিল ২০২৫ | যুক্তরাষ্ট্র প্রায় সব দেশের ওপর পালটা শুল্ক (RT) আরোপ করে। |
| ৩০ আগস্ট ২০২৫ | আলোচনার পর বাংলাদেশের জন্য ২০% শুল্ক হার নির্ধারিত হয়। |
| ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | নির্বাচনের ঠিক আগে বাংলাদেশের সঙ্গে এআরটি (ART) চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। |
| বর্তমান হার | চুক্তির ফলে পালটা শুল্ক হার ২০% থেকে কমে ১৯% এ দাঁড়িয়েছে। |
এআরটি চুক্তির মাধ্যমে শুল্ক ১ শতাংশ কমলেও এর রাজনৈতিক মূল্য অনেক বেশি হতে পারে। যদি বড় দুই রাজনৈতিক দল (বিএনপি ও জামায়াত) সত্যিই অন্ধকারে থাকে, তবে এটি ক্ষমতার ট্রানজিশন পিরিয়ডে একটি বড় নৈতিক প্রশ্ন তুলবে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে এই চুক্তির বিকল্প ছিল কি না, তা নিয়েও অর্থনীতিবিদদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।
পাঠকদের জন্য প্রশ্ন: ১ শতাংশ শুল্ক কমানোর জন্য এই ধরনের দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি কি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ? আপনার মতামত জানান।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |