| বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশে জঙ্গি আছে, তবে ভয় পাওয়ার কিছু নেই’: তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 28-04-2026 ইং
  • 15124 বার পঠিত
বাংলাদেশে জঙ্গি আছে, তবে ভয় পাওয়ার কিছু নেই’: তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান
ছবির ক্যাপশন: তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান

বাংলাদেশে জঙ্গি আছে, অস্বীকার করা ভুল’: তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান

প্রতিবেদক: BDS Bulbul Ahmed

তারিখ: ২৮ এপ্রিল ২০২৬

বিভাগ: জাতীয় / রাজনীতি

উৎস:(সচিবালয় রিপোর্ট)

বাংলাদেশে জঙ্গি তৎপরতা বিদ্যমান রয়েছে এবং সরকার একে শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

১. জঙ্গি নিয়ে ‘চরমপন্থী’ দুই ভাষ্যই ভুল

জঙ্গিবাদ নিয়ে ডা. জাহেদ উর রহমান পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকার এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার কিছু আলোচনার সমালোচনা করেন। তিনি বলেন:

  • আওয়ামী লীগ সরকারের সময়: জঙ্গি সমস্যাকে অতিরঞ্জিত করে একে ক্ষমতায় থাকার ‘ন্যারেটিভ’ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল।

  • অন্তর্বর্তী সরকারের সময়: কেউ কেউ দাবি করার চেষ্টা করেছেন যে দেশে কোনো জঙ্গি নেই।

    উপদেষ্টার মতে, এই দুটি ভাষ্যই ভুল। বাংলাদেশে একটি পর্যায়ে জঙ্গিবাদ ছিল এবং এখনও আছে, যা মোকাবিলা করা প্রয়োজন।

২. হঠাৎ কেন এই সতর্কতা ও বিমানবন্দর নিরাপত্তা?

সাম্প্রতিক সময়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও বিমানবন্দরে নিরাপত্তা জোরদার করার বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, গত দেড় বছরে এই প্রবণতার মানুষদের সংগঠিত হওয়ার একটি সুযোগ তৈরি হয়েছিল। সরকার সেই ঝুঁকিটি ফ্যাক্ট হিসেবে দেখছে এবং জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা যদি রোগ স্বীকার না করি, তবে তার চিকিৎসা হবে না।”

৩. জামিনে থাকা ও জেল থেকে পালানো জঙ্গিদের নিয়ে অবস্থান

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট অনেক জঙ্গি কারাগার থেকে বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে উপদেষ্টা জানান, সরকার তাদের কর্মকাণ্ডের ওপর নজর রাখছে। তিনি সতর্ক করে বলেন:

  • বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া গেলে জামিন বাতিলের জন্য সরকার আদালতে কঠোর আপিল করবে।

  • তবে ‘জঙ্গি’ শব্দটিকে যেন জেনারেলাইজ (গণহারে ব্যবহার) করে ক্রসফায়ার বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের স্টোরি সাজানো না হয়, সেদিকেও সতর্ক থাকতে হবে।

৪. গণতান্ত্রিক পথ ও উগ্রপন্থার সংঘাত

গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, কারো কারো স্বপ্ন ছিল বিশেষ শরিয়াহভিত্তিক রাষ্ট্র কায়েম করার। কিন্তু বাংলাদেশ যেহেতু উদার গণতান্ত্রিক পথে হাঁটা শুরু করেছে, সেটি অনেকের অপছন্দ হতে পারে। দেশের অভ্যন্তরে এবং বাইরেও এদের মদদদাতা থাকতে পারে বলে তিনি বিশ্লেষণ করেন।


জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় সরকারের প্রধান ৩টি পয়েন্ট

পয়েন্টসরকারের পদক্ষেপ
স্বীকারোক্তিজঙ্গি আছে—এই বাস্তবতাকে স্বীকার করে চিকিৎসা বা নির্মূল প্রক্রিয়া শুরু।
আদালত ও আইনজামিনপ্রাপ্তদের সন্দেহজনক আচরণে জামিন বাতিলের জোরালো আবেদন।
নিরাপত্তাবিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আগাম সতর্কতা ও গোয়েন্দা নজরদারি।

বিডিএস পলিটিক্যাল অ্যানালাইসিস (Editorial Insight)

ডা. জাহেদ উর রহমানের এই বক্তব্য সরকারের একটি স্বচ্ছ ও দায়িত্বশীল অবস্থান প্রকাশ করে। অতীতের মতো "জঙ্গি জুজু" দেখিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা তোলা কিংবা সমস্যাকে পুরোপুরি অস্বীকার করা—কোনোটিই দেশের নিরাপত্তার জন্য ভালো নয়। বর্তমান সরকার ঝুঁকি স্বীকার করে তা দমনের যে আধুনিক ও গণতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি দেখাচ্ছে, তা আন্তর্জাতিক মহলেও প্রশংসিত হতে পারে।


পাঠকদের জন্য প্রশ্ন: আপনি কি মনে করেন জঙ্গি দমনে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের চেয়ে আইনি প্রক্রিয়া ও জনসচেতনতা বেশি কার্যকর? কমেন্টে আপনার মতামত জানান।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency