আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক | ০৮ মে ২০২৬
ঢাকা: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতা সৃষ্টি করলেও কিছু বিশেষ খাতের বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর জন্য তা ‘আশীর্বাদ’ হয়ে দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে তেল-গ্যাস, ব্যাংকিং ও প্রতিরক্ষা খাতের জায়ান্টগুলো ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে (Q1) তাদের ইতিহাসের অন্যতম সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জন করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে অচলাবস্থা এবং বৈশ্বিক অস্থিরতাকেই পুঁজি করছে এই করপোরেশনগুলো।
ইরান যুদ্ধের সরাসরি প্রভাব পড়েছে জ্বালানি তেলের বাজারে। হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল হয়ে পড়ায় বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। এই সুযোগে ইউরোপীয় জ্বালানি কোম্পানিগুলো বিপুল মুনাফা লুটেছে:
বিপি (BP): ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে তাদের মুনাফা দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে ৩২০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে।
শেল (Shell): নেট মুনাফা ১৯% বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৬৯ কোটি ডলারে।
টোটালএনার্জিস (TotalEnergies): ফরাসি এই প্রতিষ্ঠানটির আয় ৫১% বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৮০ কোটি ডলারে।
যুদ্ধের কারণে আর্থিক বাজারে তৈরি হওয়া তীব্র ওঠানামাকে কাজে লাগিয়ে ওয়াল স্ট্রিটের বড় ব্যাংকগুলো বিশাল অংকের ট্রেডিং রেভিনিউ অর্জন করেছে।
জেপি মরগান (JPMorgan): ট্রেডিং বিভাগ থেকে রেকর্ড ১ হাজার ১৬০ কোটি ডলার আয় করেছে।
সিটিগ্রুপ ও গোল্ডম্যান স্যাকস: সিটিগ্রুপ গত এক দশকের মধ্যে তাদের সর্বোচ্চ ত্রৈমাসিক আয় (৫৮০ কোটি ডলার) করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বড় ছয়টি ব্যাংকের সম্মিলিত মুনাফা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৭৭০ কোটি ডলারে।
সংঘাতের ফলে বিশ্বজুড়ে প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের চাহিদা আকাশচুম্বী হয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে পেন্টাগনের সাথে কাজ করছে।
বিএই সিস্টেমস (BAE Systems): বৈশ্বিক নিরাপত্তা হুমকির কারণে এ বছর তাদের বিক্রি ও মুনাফা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে।
লকহিড মার্টিন ও আরটিএক্স (RTX): মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম এবং ড্রোন প্রতিরোধ প্রযুক্তির জন্য রেকর্ড পরিমাণ নতুন অর্ডার পেয়েছে এই প্রতিষ্ঠানগুলো।
জীবাশ্ম জ্বালানির উচ্চমূল্য এবং অনিয়শ্চয়তার কারণে বিশ্বজুড়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানি (Renewable Energy) খাতে বিনিয়োগ বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের নেক্সটএরা এনার্জি এবং ডেনমার্কের ভেসটাস-এর মতো কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম এ বছর ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। সৌর প্যানেল ও বৈদ্যুতিক গাড়ির চাহিদাও আগের চেয়ে ৫০% বেড়েছে বলে জানা গেছে।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ সিনিয়র এসইও কনসালট্যান্ট ও ডিজিটাল গ্রোথ পার্টনার
ওয়েবসাইট:
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |