প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আগামী ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো এবং কানাডায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ফুটবল বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে ইরান ফুটবল ফেডারেশন (এফএফআইআরআই)। বর্তমান সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধাবস্থার কারণে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে যে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, এই ঘোষণার মাধ্যমে তার অবসান ঘটল। তবে বিশ্বমঞ্চে যোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে আয়োজক দেশগুলোর কাছে বেশ কিছু কঠোর শর্ত জুড়ে দিয়েছে তেহরান।
ইরান ফুটবল ফেডারেশন তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে জানিয়েছে যে, তারা তাদের আদর্শ, সংস্কৃতি এবং বিশ্বাস বজায় রেখে এই বিশ্ব আসরে অংশ নিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। গত ফেব্রুয়ারি থেকে মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়া যুদ্ধের প্রভাবে এই অংশগ্রহণ ঝুঁকির মুখে ছিল। বিশেষ করে গত মাসে ফিফা কংগ্রেসের আগে আইআরজিসি-র (ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস) সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে ইরানি ফেডারেশন প্রধানের কানাডায় প্রবেশাধিকার প্রত্যাখ্যান করার ঘটনাটি বিদ্যমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
ইরানি ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট মেহেদি তাজ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান যে, মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রেখে বিশ্বকাপে অংশ নিতে তারা ১০টি সুনির্দিষ্ট শর্ত দিয়েছেন। শর্তগুলোর উল্লেখযোগ্য দিকসমূহ হলো:
ভিসা নিশ্চিতকরণ: দলের সকল কর্মকর্তা ও খেলোয়াড়দের জন্য আয়োজক দেশগুলোর নিরবচ্ছিন্ন ভিসা সুবিধা নিশ্চিত করা।
জাতীয় সম্মান: টুর্নামেন্ট চলাকালীন ইরানের জাতীয় পতাকা ও জাতীয় সংগীতের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা: বিমানবন্দর, হোটেল এবং স্টেডিয়ামে যাতায়াতের পথে দলের জন্য সর্বোচ্চ স্তরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
বিশ্ব রাজনীতির এই অস্থিরতা ও ক্রীড়াক্ষেত্রে তার প্রভাব বাংলাদেশের শতবর্ষী সংগ্রামের ইতিহাসের সাথে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। ১৯০০ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত এদেশের রাজনীতিতেও বারবার বহিঃশক্তির প্রভাব ও জাতীয় আত্মমর্যাদার লড়াই দেখা গেছে।
বিংশ শতাব্দীর শুরু ও ব্রিটিশ আমল (১৯০০-১৯৪৭): ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ থেকে শুরু করে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের সময় থেকেই এ অঞ্চলের মানুষ তাদের নিজস্ব পরিচয় ও অধিকারের জন্য লড়াই করেছে। খেলাধুলা তখন থেকেই ছিল জাতীয়তাবোধ জাগরণের অন্যতম মাধ্যম।
স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব (১৯৭১): ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সেই ঐতিহাসিক ভাষণ ছিল মূলত শোষণ থেকে মুক্তির অঙ্গীকার। স্বাধীন বাংলাদেশের জন্মের পর ক্রীড়াক্ষেত্রেও দেশ তার নিজস্ব পতাকা ও সংগীতের মর্যাদা রক্ষার প্রশ্নে সবসময় আপসহীন থেকেছে।
গণতন্ত্র ও ২০২৪-এর বিপ্লব: ১৯৯০ সালের স্বৈরাচার পতনের পর বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক যাত্রায় বৈশ্বিক ক্রীড়াঙ্গনে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লব বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে যে নতুন সচেতনতা তৈরি করেছে, তা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যে কোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতে শেখায়।
২০২৬-এর বর্তমান প্রেক্ষাপট: ২০২৬ সালে এসে বাংলাদেশ এখন এক নতুন রাষ্ট্র সংস্কারের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধাবস্থা এবং ইরানের মতো একটি ফুটবল শক্তির বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের শর্তাবলী বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পাঠ। ১৯০০ সালের পরাধীন আমল থেকে ২০২৬ সালের স্বাধীন বাংলাদেশ—আমাদের মূল শিক্ষা হলো সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজ দেশের মর্যাদা সমুন্নত রাখা।
ইতিহাস সাক্ষী, যুদ্ধ বা রাজনৈতিক সংঘাত কখনোই ক্রীড়াপ্রেমী মানুষের আবেগকে দমাতে পারেনি। ১৯০০ সালের ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন হোক কিংবা ২০২৬ সালের বর্তমান করপোরেট ও যুদ্ধের দাপট—মর্যাদার লড়াই সবসময় বিদ্যমান। ইরানের এই শর্তসাপেক্ষ অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে, বৈশ্বিক আসরে কেবল খেলাই মুখ্য নয়, বরং জাতীয় মর্যাদা ও রাজনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও অপরিহার্য। ২০২৬ সালের এই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে বিশ্ববাসী এখন দেখার অপেক্ষায় আছে কীভাবে ফিফা ও আয়োজক দেশগুলো এই কূটনৈতিক ও ক্রীড়া চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে।
সূত্র: ১. আল-জাজিরা ও ইরান ফুটবল ফেডারেশন (এফএফআইআরআই) অফিসিয়াল ওয়েবসাইট। ২. ঐতিহাসিক দলিল: বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও বৈশ্বিক কূটনীতির বিবর্তন (১৯৭১-২০২৬)। ৩. আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংবাদ মাধ্যম (মে, ২০২৬)।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ সিনিয়র এসইও কনসালট্যান্ট ও ডিজিটাল পাবলিশার
ওয়েবসাইট:
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |