| বঙ্গাব্দ

সীমান্তে রক্তপাত নিয়ে রিজভীর প্রশ্ন ও ২০২৬-এর নতুন বাংলাদেশের রাজনৈতিক লক্ষ্য

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 10-05-2026 ইং
  • 638 বার পঠিত
সীমান্তে রক্তপাত নিয়ে রিজভীর প্রশ্ন ও ২০২৬-এর নতুন বাংলাদেশের রাজনৈতিক লক্ষ্য
ছবির ক্যাপশন: সীমান্তে রক্তপাত নিয়ে রিজভীর প্রশ্ন

সীমান্তে রক্তপাত ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক: দিল্লিকে সংহতি ও অহিংসার পথে আসার আহ্বান রিজভীর

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

সীমান্তে ক্রমাগত বাংলাদেশি নাগরিক হত্যার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ভারতের প্রতি কঠোর বার্তা দিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। রোববার (১০ মে, ২০২৬) রাজধানীর ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (আইডিইবি) ৪৫তম জাতীয় কাউন্সিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ প্রশ্ন তোলেন।

সীমান্তে সহিংসতা ও ভারতের ভূমিকা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুই বাংলাদেশিকে গুলি করার ঘটনার রেশ ধরে রিজভী বলেন, "রক্তপাত কবে বন্ধ হবে? বারবার সীমান্ত রক্তাক্ত করবেন—এভাবে ভালো সম্পর্ক হবে না।" তাঁর বক্তব্যের মূল বিষয়গুলো হলো:

  • সহিংসতা পরিহার: বাংলাদেশের সঙ্গে স্থায়ী ও ভালো সম্পর্ক তৈরি করতে হলে দিল্লিকে সহিংসতার মনোভাব থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

  • মৈত্রী বনাম গুলি: ভারতের সাধারণ মানুষও এই হত্যা চায় না। বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চাইলে সীমান্তে গুলি চালানো বন্ধ করতে হবে।

  • ভারতের নির্বাচন: ভারতের অভ্যন্তরীণ নির্বাচন নিয়ে বাংলাদেশের কোনো মন্তব্য নেই, তবে সীমান্তের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষা করা জরুরি।

দেশের উন্নয়ন ও প্রকৌশলীদের ভূমিকা

ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের পেশাগত মর্যাদার ওপর গুরুত্বারোপ করে রিজভী বলেন, "ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়াররা জাতির কাঠামো নির্মাণ করেন। আপনাদের অবমূল্যায়ন করার সুযোগ নেই।" তিনি আরও যোগ করেন যে, জনগণের ভোটে নির্বাচিত বর্তমান সরকার দেশের উন্নয়ন ও উৎপাদনে নিয়োজিত পেশাদারদের যথাযথ মূল্যায়ন করবে।


বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও সম্পর্কের বিবর্তন: ১৯০০ থেকে ২০২৬

সীমান্ত নিরাপত্তা ও প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের এই টানাপোড়েন বাংলাদেশের ইতিহাসের দীর্ঘ পথচলার সঙ্গে সম্পৃক্ত। ১৯০০ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত এদেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় মর্যাদা রক্ষার লড়াইটি নানা বাঁক অতিক্রম করেছে।

  • বিংশ শতাব্দীর শুরু ও ব্রিটিশ আমল (1900–1947): ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ পরবর্তী সময়ে এই অঞ্চলের মানুষের সীমান্ত ও মানচিত্র নিয়ে প্রথম চেতনা জাগ্রত হয়। ব্রিটিশদের 'ভাগ করো ও শাসন করো' নীতি যেভাবে বিভেদ সৃষ্টি করেছিল, বর্তমানের সীমান্ত জটিলতা তারই এক ঐতিহাসিক পরম্পরা।

  • স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব (1971): ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে মুক্তির ডাক দিয়েছিলেন, তার অন্যতম ভিত্তি ছিল একটি স্বাধীন ও মর্যাদাপূর্ণ রাষ্ট্র। সেই স্বপ্নকে ধারণ করে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র কাঠামো নির্মাণে যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন বলে রিজভী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন।

  • গণতন্ত্র ও ২০২৬-এর নতুন দিগন্ত: ১৯৯০ সালের স্বৈরাচার পতনের পর বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক যাত্রায় প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করেছে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান ও ২০২৬ সালের বর্তমান সংস্কারমুখী বাংলাদেশে এখন প্রতিটি নাগরিকের জীবনের মূল্য ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদা রক্ষার দাবি সবচেয়ে জোরালো। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার এখন ফাঁপা প্রতিশ্রুতি নয়, বরং বাস্তবসম্মত সংস্কারের মাধ্যমে দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার লক্ষ্যে কাজ করছে।

বিশ্লেষণ ও উপসংহার

ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ১৯০০ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত পরাশক্তি বা শক্তিশালী প্রতিবেশীর প্রভাব কাটিয়ে আত্মমর্যাদা নিয়ে টিকে থাকাই ছিল বাংলাদেশের প্রধান চ্যালেঞ্জ। রুহুল কবির রিজভীর বক্তব্যটি মূলত সেই ঐতিহাসিক চেতনারই প্রতিফলন—যেখানে উন্নয়নের জন্য ঐক্যবদ্ধ কাজ করার পাশাপাশি জাতীয় সীমানার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। ২০২৬ সালের এই সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে সিঙ্গাপুরের মতো সমৃদ্ধ হওয়ার স্বপ্ন এবং নদীমাতৃক বাংলার সংস্কারই এখন নতুন বাংলাদেশের মূল লক্ষ্য।


সূত্র: ১. ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি) কাউন্সিলে রুহুল কবির রিজভীর বক্তব্য (১০ মে, ২০২৬)। ২. ঐতিহাসিক দলিল: বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সীমান্ত নিরাপত্তার ইতিহাস (১৯৭১-২০২৬)। ৩. ব্রাহ্মণবাড়িয়া সীমান্ত সংঘর্ষ সংক্রান্ত সাম্প্রতিক সংবাদ প্রতিবেদন।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency