| বঙ্গাব্দ

মনোনয়ন ও মন্ত্রিত্ব না পাওয়া নিয়ে মুখ খুললেন হাবিব-উন-নবী খান সোহেল

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 25-05-2026 ইং
  • 16540 বার পঠিত
মনোনয়ন ও মন্ত্রিত্ব না পাওয়া নিয়ে মুখ খুললেন হাবিব-উন-নবী খান সোহেল
ছবির ক্যাপশন: হাবিব-উন-নবী খান সোহেল

দল জিতলেই আমরা জিতলাম, এমপি হতেই হবে এমন কথা নেই’: মনোনয়ন ও মন্ত্রিত্ব না পাওয়া নিয়ে মুখ খুললেন বিএনপি নেতা সোহেল

সোমবার, ২৫ মে ২০২৬: সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) অন্যতম প্রধান ত্যাগী ও রাজপথের লড়াকু নেতা হিসেবে হেভিওয়েট মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন তিনি। তবে সবাইকে চমকে দিয়ে দলের চূড়ান্ত তালিকায় স্থান পাননি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল। এমনকি নির্বাচনের পর নতুন সরকারের টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী কোটাতেও জায়গা হয়নি ছাত্রদলের সাবেক এই ক্যারিশম্যাটিক সভাপতির।

দলের জন্য জীবনের সোনালী সময় বিলিয়ে দেওয়া এই শীর্ষ নেতা কেন কোণঠাসা? কেনই বা এমপি কিংবা মন্ত্রিত্বের রেস থেকে ছিটকে গেলেন? এই সমস্ত সংবেদনশীল ও রাজনৈতিক প্রশ্ন নিয়ে জাতীয় দৈনিক যুগান্তরের সঙ্গে এক একান্ত ও খোলামেলা সাক্ষাৎকারে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন হাবিব-উন-নবী খান সোহেল।

১. বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান ও দল থেকে ‘বঞ্চিত’ হওয়ার গুঞ্জন

সাক্ষাৎকারে শুরুতেই হাবিব-উন-নবী খান সোহেলের কাছে জানতে চাওয়া হয়, এই মুহূর্তে দলের ভেতরে তাঁর প্রকৃত অবস্থান কী? অত্যন্ত সহজ ও সাবলীল ভাষায় এই বিএনপি নেতা উত্তর দেন, "আমি এখন আমাদের প্রিয় দল বিএনপির নির্বাহী কমিটির যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে সার্বক্ষণিক কাজ করছি। দলের হয়ে মাঠপর্যায়ে লড়াই করাই আমার বর্তমান প্রধান রাজনৈতিক পরিচয় ও অবস্থান।"

নির্বাচনে মনোনয়ন না পাওয়া এবং মন্ত্রিপরিষদ থেকে বাদ পড়ায় দল তাঁকে কোনোভাবে বঞ্চিত করেছে কিনা—এমন তীক্ষ্ণ প্রশ্নের জবাবে তিনি বেশ উদারভাবে বলেন:

"আমি মূলত আমাদের দলেরই সৃষ্টি। এই রাজনৈতিক দলই আজ আমাকে তৈরি করেছে, সোহেল বানিয়েছে। তাই দল আমাকে যখন যেভাবে রাখবে, যে সাংগঠনিক দায়িত্ব দেবে, আমি সেটাই করব। উইথ হার্ট অ্যান্ড সোল ($With\ heart\ and\ soul$) আমি নেত্রীর দেওয়া সেই কাজটাই করে যাব। এর বাইরে ব্যক্তিগতভাবে আমি নিজে কী পেলাম বা কী পেলাম না, এটা নিয়ে আসলে আই ডোন্ট কেয়ার ($I\ don't\ care$)। দল যে কাজ দেয়, সেটি করেই আমি সুখী। এর চেয়ে বেশি নিজেকে নিয়ে বা কোনো পদের লোভ নিয়ে আমি কিছু ভাবি না।"

২. খালেদা জিয়ার আমল বনাম বর্তমান নির্বাচন: ‘ত্যাগ তিতীক্ষা এক জিনিস, ভোট অন্য জিনিস’

যুগান্তরের পক্ষ থেকে আরেকটি রাজনৈতিক সমীকরণ সামনে আনা হয় যে—যদি বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া পুরোপুরি সক্রিয় থাকা অবস্থায় এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতো, তবে হাবিব-উন-নবী খান সোহেলসহ বহু ত্যাগী নেতা সহজেই এমপি বা মন্ত্রী হতেন। এই ধারণার সাথে সম্পূর্ণ দ্বিমত পোষণ করে সোহেল বলেন:

  • দলের দূরদর্শী দৃষ্টিকোণ: "আমি বিষয়টি এভাবে সংকীর্ণভাবে দেখি না। দল সবসময় একই প্রাতিষ্ঠানিক দৃষ্টিকোণ থেকে সবকিছু বিচার-বিশ্লেষণ করে। দল নিশ্চয়ই বিভিন্ন গ্রাউন্ড থেকে তথ্য ও সমীক্ষা সংগ্রহ করেছে, যেখানে হয়তো অন্য কেউ আমার চেয়ে বেটার ক্যান্ডিডেট ($Better\ Candidate$) ছিলেন।"

  • নির্বাচনের বাস্তব সমীকরণ: "আমাদের বুঝতে হবে, রাজনীতিতে বছরের পর বছর ত্যাগ তিতীক্ষা স্বীকার করা এক জিনিস আর ভোটের মাঠে আসন জেতা সম্পূর্ণ অন্য জিনিস। বর্তমান প্রেক্ষাপটে যাকে প্রতীক দিলে ওই নির্দিষ্ট আসনটি দলের ঝুলিতে আসার শতভাগ সম্ভাবনা আছে, দল কৌশলগত কারণে তাকেই বেছে নেয়। আমরা যারা মাঠের রাজনীতি করি, তারা এই সমীকরণটি খুব স্বাভাবিক ও ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করি। ইটস অলরাইট অ্যান্ড ওকে ($It's\ alright\ and\ okay$)।"

৩. ‘এমপি না হলে মূল্যায়ন হলো না, এটা আমি মানি না’

পদ-পদবি ও ক্ষমতার মোহ নিয়ে সমসাময়িক নেতাদের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক রাজনৈতিক আদর্শ প্রকাশ করেন হাবিব-উন-নবী খান সোহেল। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, "দল জিতলেই আমরা জিতলাম। এখানে ব্যক্তি হিসেবে আমাকে বা অমুককেই পদ পেতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। আমি এগুলো নিয়ে এত গভীরে গিয়ে মন খারাপ করি না। এমপি বা মন্ত্রী হলেই সব হয়ে গেল, আমার জীবনের সব মূল্যায়ন হয়ে গেল—কিংবা এমপি না হতে পারলে আমার রাজনৈতিক জীবনের কোনো মূল্যায়নই অবশিষ্ট থাকল না, রাজনীতিকে আমি এভাবে স্থূলভাবে নিই না। মানুষের সেবা করার জন্য এমপি হতেই হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।"

নতুন করে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, সামনের ঢাকার বড় সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মেয়র পদপ্রার্থী হিসেবে হাবিব-উন-নবী খান সোহেলের নাম দলের অন্দরে বেশ জোরালোভাবে আলোচিত হচ্ছে। এই বিষয়ে তাঁর মন্তব্য জানতে চাইলে তিনি জানান, "আমার সোজা কথা—দল দলের নিয়ম অনুযায়ী দেখুক। দল যাকে সবচেয়ে যোগ্য মনে করবে তাকেই মনোনয়ন দেবে। জনগণের মধ্যে প্রার্থীর গ্রহণযোগ্যতা কতখানি, জনগণ তাকে কীভাবে চাচ্ছে বা ওই প্রশাসনিক পদে বসে সে কতটুকু সার্ভিস দিতে পারবে, দেশ ও জনগণের জন্য সেগুলোই তো যোগ্যতার প্রধান মাপকাঠি হওয়া উচিত। এই মাপকাঠিতে দল যদি মনে করে আমাকে দিয়ে কোনো কাজ হবে, তবে আমি অবশ্যই মাঠ কাঁপাব।"


হাবিব-উন-নবী খান সোহেল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) অন্যতম শীর্ষস্থানীয়, বিশ্বস্ত ও রাজপথের লড়াকু নেতা ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে আসা এই দূরদর্শী সংগঠক বর্তমানে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দলটির দুঃসময়ে রাজপথে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা এবং শত শত মামলার মুখোমুখি হয়েও আনুগত্য বজায় রাখার কারণে তিনি দল ও কর্মীদের কাছে এক অনন্য রাজনৈতিক আইকন হিসেবে পরিচিত।
নিচে তাঁর রাজনীতিতে পদার্পণ, রাজনৈতিক উত্থান এবং বিএনপিতে তাঁর অবদানের একটি পূর্ণাঙ্গ বিবরণ দেওয়া হলো:
১. রাজনীতিতে আগমন ও ছাত্রজীবন
হাবিব-উন-নবী খান সোহেলের জন্ম ও বেড়ে ওঠা বৃহত্তর রংপুর অঞ্চলে। মূলত আশির দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় থেকেই তাঁর সক্রিয় রাজনৈতিক জীবনের সূচনা ঘটে।
  • স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন: ১৯৯০ সালের এরশাদবিরোধী ঐতিহাসিক স্বৈরাচার পতন আন্দোলনে তিনি ছাত্রদলের একজন অগ্রসারির লড়াকু ছাত্রনেতা হিসেবে যুক্ত ছিলেন।
  • ছাত্রদলের শীর্ষ নেতৃত্ব: রাজপথে সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে তিনি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি নির্বাচিত হন। তাঁর মেধা ও সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে তিনি দ্রুতই বিএনপির মূল ধারার রাজনীতিতে নিজের স্থান পাকাপোক্ত করেন।
২. সাংগঠনিক ক্যারিয়ার ও গুরুত্বপূর্ণ পদসমূহ
ছাত্ররাজনীতি শেষ করার পর হাবিব-উন-নবী খান সোহেলকে বিএনপির মূল দল ও এর অঙ্গসংগঠনগুলোর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি প্রতিটি পদেই সফলতার পরিচয় দিয়েছেন:
  • স্বেচ্ছাসেবক দলের শীর্ষ পদ: তিনি দীর্ঘদিন বিএনপির অন্যতম শক্তিশালী অঙ্গসংগঠন জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এই সময়ে দেশব্যাপী সংগঠনটিকে শক্তিশালী করতে তিনি চষে বেড়ান।
  • ঢাকা মহানগর বিএনপির নেতৃত্ব: ঢাকার রাজনৈতিক মাঠ নিয়ন্ত্রণে রাখতে খালেদা জিয়া তাঁকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি হিসেবে মনোনীত করেছিলেন। ঢাকার রাজপথে আন্দোলন জমানোর পেছনে তাঁর বড় ভূমিকা ছিল।
  • কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব: বর্তমানে তিনি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে দলের কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারণী ও সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
৩. বিএনপিতে তাঁর প্রধান অবদান ও ত্যাগের খতিয়ান
বিএনপির ইতিহাসে হাবিব-উন-নবী খান সোহেলকে "রাজপথের নিঃস্বার্থ বিপ্লবী" বা অন্যতম সর্বোচ্চ ত্যাগী নেতা হিসেবে গণ্য করা হয়।
  • দলের দুঃসময়ে ঢাল: ১/১১-এর সেনাসমর্থিত তত্ত্ববধায়ক সরকারের আমল থেকে শুরু করে পরবর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ শাসনামলে বিএনপির চরম সংকটময় মুহূর্তে তিনি রাজপথ ছাড়েননি। দল যখনই সংকটে পড়েছে, তিনি মিছিল-মিটিংয়ের একদম সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
  • রেকর্ডসংখ্যক রাজনৈতিক মামলা ও জেল-জুলুম: বিএনপির নেতাদের মধ্যে তাঁর নামে সবচেয়ে বেশি মামলা রয়েছে। ভাঙচুর, পুলিশের ওপর হামলা ও নাশকতার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে প্রায় ৫০০টি রাজনৈতিক মামলা দায়ের করা হয়। বিভিন্ন মামলায় কয়েক দফায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে তিনি দীর্ঘদিন কারাবরণ করেছেন এবং এখনো আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।
  • কর্মী-বান্ধব নেতৃত্ব: তৃণমূলের নেতাকর্মীদের কাছে সোহেল অত্যন্ত জনপ্রিয়। শত প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি মাঠের কর্মীদের খোঁজখবর রাখতেন, যার কারণে কর্মীরা তাঁকে নিজেদের বিশ্বস্ত অভিভাবক মনে করেন।
  • আদর্শিক আপসহীনতা: চরম নির্যাতন, বুলেটের আঘাত ও বারবার কারাবরণের পরও তিনি কখনো আদর্শ চ্যুত হননি বা দল ত্যাগ করেননি। দলের প্রতি তাঁর আনুগত্য প্রশ্নাতীত।
৪. বর্তমান অবস্থান ও আলোচনা (২০২৫-২০২৬)
সম্প্রতি ২০২৫ সালের শেষভাগে এবং ২০২৬-এর শুরুতে সংসদীয় আসন ও দলের কিছু অভ্যন্তরীণ কৌশলগত বিষয়ে তাঁর দলের প্রতি সাময়িক কিছু ক্ষোভ বা প্রতিক্রিয়া গণমাধ্যমে ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত হয়েছে। অনেক সাধারণ কর্মী ও বিশ্লেষক মনে করেন, হাবিব-উন-নবী খান সোহেলের মতো ত্যাগী নেতাকে দল থেকে যেভাবে মূল্যায়ন (যেমন মন্ত্রী বা এমপি মনোনয়ন) করা উচিত ছিল, তা হয়তো শতভাগ হয়নি। তবে তিনি সবসময়ই স্পষ্ট করে বলেছেন যে—পদ বা ক্ষমতার চেয়ে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শের প্রতি তাঁর আনুগত্যই তাঁর রাজনীতির মূল চালিকাশক্তি।
সারসংক্ষেপ:
হাবিব-উন-নবী খান সোহেল ক্ষমতার সুবিধা না পেয়েও শুধু আদর্শের টানে রাজনীতি টিকিয়ে রাখার এক জীবন্ত উদাহরণ। বিএনপির বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তিনি রাজপথের লড়াই এবং দলের প্রতি একনিষ্ঠতার এক অনন্য প্রতীক।

প্রতিবেদক: Senior SEO Consultant BDS Bulbul Ahmed

হাবিব-উন-নবী খান সোহেলের সাক্ষাৎকার, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিএনপি, টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী কোটা, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সোহেল, সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন এবং বাংলাদেশের সমসাময়িক জাতীয় রাজনীতির এমন নিখুঁত, বস্তুনিষ্ঠ ও সম্পূর্ণ এসইও ফ্রেন্ডলি কন্টেন্ট নিয়মিত পড়তে চোখ রাখুন বাংলাদেশ প্রতিদিন  ওয়েবসাইটে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency