মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬: ইউরোপের অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য ফ্রান্সে বৈধ অভিবাসন নীতিতে বড় ধরণের কড়াকড়ি ও পরিবর্তনের স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে। দেশটির বিচারমন্ত্রী জেরাল্ড দারমানাঁ ফ্রান্সে বৈধ অভিবাসন সাময়িকভাবে আগামী তিন বছরের জন্য সম্পূর্ণ স্থগিত রাখার একটি বিতর্কিত প্রস্তাব দিয়েছেন। ফরাসি সরকারের উচ্চপর্যায়ের এই প্রস্তাবের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের লাখ লাখ প্রবাসীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
ফরাসি জনপ্রিয় সাপ্তাহিক ‘জার্নাল দু দিমঁশ’কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে বিচারমন্ত্রী দারমানাঁ বলেন, ফ্রান্সের অভ্যন্তরীণ সামাজিক সংহতি এবং বর্তমান সামগ্রিক অভিবাসন ব্যবস্থাপনা প্রচণ্ড চাপের মুখে পড়েছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সামাল দিতেই বৈধ অভিবাসনে সাময়িক বিরতি বা ‘পজ’ ($Pause$) দেওয়া প্রয়োজন হতে পারে। পরবর্তীতে ল্য প্যারিজিয়েন এবং আরটিএল ফ্রান্সসহ একাধিক মূলধারার ফরাসি গণমাধ্যমে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে প্রকাশিত হয়।
বিচারমন্ত্রী তাঁর সাক্ষাৎকারে পরিষ্কার ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, এই নতুন প্রস্তাবটি যদি শেষ পর্যন্ত ফরাসি আইনসভায় পাস হয়ে বাস্তবায়িত হয়, তবে ফ্রান্সে কাজের ভিসা (Work Visa) এবং পারিবারিক পুনর্মিলনের (Family Reunification) মতো নিয়মিত ও আইনি অভিবাসন প্রক্রিয়াও মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হতে পারে।
এতে সবচেয়ে বেশি মানসিক চাপ ও অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তারা, যারা নিজেদের পরিবার ও সন্তানদের ফ্রান্সে নিয়ে আসার জন্য দীর্ঘদিন ধরে আইনি প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছেন।
প্যারিস এবং এর আশেপাশের এলাকায় বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রবাসীরা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ফ্রান্সে নতুন ভিসা ইস্যু এবং রেসিডেন্স পারমিট বা আবাসন (Titre de Séjour) প্রক্রিয়ায় অলিখিত কড়াকড়ি অলরেডি শুরু হয়ে গেছে। সাধারণ আবাসন নবায়ন, জমা দেওয়া কাগজপত্র যাচাই-বাছাই এবং সাক্ষাৎকার (Interview) নেওয়ার প্রশাসনিক প্রক্রিয়াগুলোতে আগের চেয়ে অনেক বেশি সময় লাগছে। একই সঙ্গে অনিয়মিত বা কাগজপত্রহীন অভিবাসীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক তৎপরতা ও দেশ থেকে বহিষ্কারের কার্যক্রমও ব্যাপকভাবে জোরদার করা হয়েছে।
ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে থাকা বাংলাদেশিরা এই রাজনৈতিক প্রস্তাবে গভীর দুশ্চিন্তা প্রকাশ করেছেন:
প্যারিস (লা শাপেল): লা শাপেলে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জানান, তাঁর স্ত্রীর পারিবারিক পুনর্মিলনের (ফ্যামিলি ফাইল) ফাইলটি দীর্ঘদিন ধরে ফরাসি ইমিগ্রেশনে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। নতুন এই স্থগিতাদেশের খবরের পর পরিবারে মানসিক দুশ্চিন্তা ও হতাশা আরও বেড়েছে।
সেন-দেনি: সেন-দেনিতে বসবাসরত আব্দুল কাদের বলেন, ফ্রান্সে আগে থেকেই প্রশাসনিক ফাইলের গতি অত্যন্ত ধীর ছিল। এখন যদি এই নতুন রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়, তবে অপেক্ষার সময়সীমা আরও কয়েক বছর বেড়ে যেতে পারে।
লিওন: লিওন শহরে বসবাসরত নাজমুল ইসলাম জানান, অনেক বাংলাদেশি ভাই ফ্রান্সে স্থায়ীভাবে থিতু হয়ে পরিবার আনার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছিলেন, কিন্তু আকস্মিক এই নতুন পরিস্থিতিতে সবাই এখন দিশেহারা।
আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা: একজন কন্টেন্ট ক্রিয়েটর এবং বৈশ্বিক পলিসি ওয়াচার হিসেবে আমি দেখেছি যে, ইউরোপের রাজনীতিতে এখন অভিবাসন বিরোধী হাওয়া বেশ প্রবল। ফ্রান্সে বিচারমন্ত্রীর এই প্রস্তাবটি মূলত আগামী ২০২৭ সালের ফরাসি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার একটি অংশ। তবে আইন হিসেবে পাস হওয়ার আগে এটি নিয়ে প্যানিক বা আতঙ্কিত না হয়ে প্রবাসীদের ধৈর্য ধরে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা উচিত।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, ফ্রান্সে বসবাসরত প্রবাসীদের জন্য স্বস্তির বিষয় হলো—এটি এ মুহূর্তে কোনো পাস হওয়া আইন নয়, বরং একটি প্রাথমিক রাজনৈতিক প্রস্তাব মাত্র। এটি বাস্তবে রূপ দিতে হলে ফরাসি পার্লামেন্টে দীর্ঘ আলোচনা, প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক সমর্থন এবং বেশ কিছু জটিল সাংবিধানিক ও আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, আগামী কয়েক মাসে দেশটির আইনসভায় এ বিষয়ে আলোচনা ও বিতর্ক অনেক দূর এগোলেও, ২০২৬ সালের শেষভাগের আগে বড় কোনো কঠোর সিদ্ধান্ত সরাসরি কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। তবে ২০২৭ সালের ফ্রান্সের সাধারণ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই অভিবাসন ইস্যুটি যে ফরাসি রাজনীতিতে অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠবে, তা নিশ্চিত। আর এই রাজনৈতিক দড়ি টানাটানির খেসারত দিতে হচ্ছে ফ্রান্সে বসবাসরত সাধারণ অভিবাসী পরিবারগুলোকে।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |