পারস্য উপসাগরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত এখন সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে রূপ নিয়েছে। তীব্র উত্তেজনার মধ্যে কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে একের পর এক শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান।
এই দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর তেহরান চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, পরবর্তীতে মার্কিন-ইসরাইলি জোটের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের উসকানি বা আগ্রাসন চালানো হলে বিশ্বজুড়ে তেল ও গ্যাস রপ্তানির অন্যতম প্রধান রুট ‘হরমুজ প্রণালি’ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হবে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম মেহের নিউজ এজেন্সি শনিবার (৬ জুন, ২০২৬) এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের খবর নিশ্চিত করেছে।
ইরানের এলিট সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এক জরুরি বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের অ্যারোস্পেস ফোর্স কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন বিমান ঘাঁটি ‘আলি আল-সালেম’ এবং বাহরাইনে মোতায়েন মার্কিন নৌবাহিনীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পঞ্চম নৌবহরের (5th Fleet) সদরদপ্তরের প্রধান স্থাপনাগুলোকে নিখুঁতভাবে লক্ষ্য করে এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা পরিচালনা করেছে।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, বাহরাইনের ৫ম ফ্লিট সদরদপ্তরে আঘাত হানার ঘটনাটি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির ওপর ইরানের এযাবৎকালের সবচেয়ে বড় ও সরাসরি চপেটাঘাত।
হরমুজ প্রণালিতে একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারের অননুমোদিত চলাচল এবং তার জেরে মার্কিন বাহিনীর পাল্টা বিমান হামলাকে কেন্দ্র করে এই সরাসরি সংঘাতের সূত্রপাত হয়। আইআরজিসির পক্ষ থেকে ঘটনার যে বিবরণ দেওয়া হয়েছে তা নিচে ক্রমানুসারে তুলে ধরা হলো:
ভোররাত ১টা ৩০ মিনিট: চারটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার আইআরজিসি নেভির কোনো নির্দেশনা ও সতর্কবার্তা তোয়াক্কা না করে জোরপূর্বক হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার চেষ্টা করছিল। ইরানি নৌবাহিনী চূড়ান্ত অ্যাকশনে গিয়ে একটি ট্যাঙ্কারে আঘাত হেনে সেটির গতি রোধ করে এবং বাকি তিনটি জাহাজকে উল্টো পথে ফিরে যেতে বাধ্য করে।
ভোররাত ২টা ০০ মিনিট: এই ঘটনার ঠিক আধঘণ্টা পর মার্কিন যুদ্ধবিমান ও ড্রোনগুলো হরমুজ প্রণালির কিশমি দ্বীপ এবং সিরিক এলাকায় অবস্থিত ইরানের দুটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ টাওয়ারে আকস্মিক বিমান হামলা চালিয়ে তা ধ্বংস করে দেয়।
তাৎক্ষণিক পাল্টা হামলা: মার্কিন এই বিমান হামলার সরাসরি জবাব হিসেবে এর পরপরই আইআরজিসি কুয়েত ও বাহরাইনের মার্কিন ঘাঁটি অভিমুখে একের পর এক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ করে আকাশসীমা কাঁপিয়ে তোলে।
এক কড়া বিবৃতিতে রেভল্যুশনারি গার্ডস জানিয়েছে, এই ধরনের আগ্রাসী আচরণের পুনরাবৃত্তি হলে ইরানের পক্ষ থেকে এর চেয়েও বড় এবং সীমাহীন জবাব দেওয়া হবে। একই সঙ্গে মার্কিন-ইসরাইলি জোটকে হুঁশিয়ার করে তারা বলেছে:
"ইরানের সার্বভৌমত্বে আঘাত হানলে হরমুজ প্রণালি তেল ও গ্যাস রপ্তানির জন্য পুরোপুরি লকডাউন করে দেওয়া হবে। এর ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে যে মারাত্মক ও অভূতপূর্ব মহাবিপর্যয় নেমে আসবে—তার সম্পূর্ণ দায় আমেরিকা ও ইসরাইলকেই নিতে হবে।"
কুয়েত ও বাহরাইনে এই নজিরবিহীন ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে যেকোনো মুহূর্তে একটি পূর্ণাঙ্গ ও সর্বাত্মক যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ওয়াশিংটন কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লাইভ আপডেট এবং বিশ্বরাজনীতির সব ব্রেকিং নিউজ সবার আগে নির্ভরযোগ্যভাবে পেতে নিয়মিত চোখ রাখুন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |