| বঙ্গাব্দ

মেসির প্রশংসায় পঞ্চমুখ ব্রাজিল কিংবদন্তি রবার্তো কার্লোস | বাংলাদেশ প্রতিদিন

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 12-06-2026 ইং
  • 10391 বার পঠিত
মেসির প্রশংসায় পঞ্চমুখ ব্রাজিল কিংবদন্তি রবার্তো কার্লোস | বাংলাদেশ প্রতিদিন
ছবির ক্যাপশন: মেসি

ব্রাজিলের দরকার নেইমারকে, ফেভারিট তকমায় বিচলিত নন কার্লোস; ফ্রিকিকে সেরা বাছলেন মেসিকে

ক্রীড়া প্রতিবেদক | বাংলাদেশ প্রতিদিন

প্রকাশিত: ১২ জুন, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার যৌথ আয়োজনে বিশ্ব ফুটবলের মেগা মহাযজ্ঞ গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ ‘ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬’ আনুষ্ঠানিকভাবে মাঠে গড়িয়েছে। আর এই ফুটবল বিশ্বকাপ শুরুর ডামাডোলের মাঝেই আর্জেন্টিনার একটি নামী সংবাদমাধ্যমকে এক এক্সক্লুসিভ ও জমকালো সাক্ষাৎকার দিয়েছেন ব্রাজিলের বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি লেফটব্যাক রবার্তো কার্লোস। সাক্ষাৎকারে লিওনেল মেসি, নেইমার, সেলেসাওদের শিরোপা জেতার সম্ভাবনা থেকে শুরু করে বর্তমান ফুটবলের আধুনিকায়ন নিয়ে মনখুলে কথা বলেছেন বিশ্ব ফুটবলের এই ফ্রি-কিক জাদুকর।

বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার পর নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে কার্লোস রোমাঞ্চিত কণ্ঠে বলেন, “আমি দারুণ উত্তেজিত। প্রতিবার যখনই বিশ্বকাপ ফিরে আসে, আমার মনে হয় যেন আমি নিজেই বুট পায়ে মাঠে নামব! মনে হয় এখনো আমি অনুশীলনের মধ্যেই রয়েছি। আসলে যাদের মনে এই অনুভূতি জাগে না, তারা ফুটবলকে সত্যিকারের ভালোবাসে না।”

মেসি লাতিন ফুটবলের শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞাপন: কার্লোস

খেলোয়াড়ি জীবনে নিজের বাঁ পায়ের ট্রেডমার্ক গতি আর অবিশ্বাস্য বাঁকানো সব ফ্রি-কিকের জন্য ফুটবল ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন রবার্তো কার্লোস। সাক্ষাৎকারে তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, বর্তমান ফুটবল বিশ্বে ফ্রি-কিক বা সেটপিসের ক্ষেত্রে তাঁর যোগ্য উত্তরসূরি কে? চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশের প্রতি কোনো বিদ্বেষ না রেখে কার্লোস সরাসরি লিওনেল মেসির নাম নেন। তিনি বলেন, “সেটপিসে মেসি আগের চেয়ে অনেক বেশি উন্নতি করেছে। আর্জেন্টিনার হয়ে হোক কিংবা ইন্টার মিয়ামির জার্সিতে—সে এখন ফ্রি-কিক থেকে প্রচুর চোখধাঁধানো গোল করছে।”

লিওনেল মেসিকে নিয়ে নিজের মুগ্ধতা লুকাতে পারেননি কার্লোস। আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, “মাঠে মেসির খেলা দেখলে চোখ জুড়িয়ে যায়। মেসিই এখন লাতিন আমেরিকান ফুটবলের সবচেয়ে বড় ও শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞাপন।” তিনি আরও যোগ করেন, ফুটবলের আধুনিকায়নের কারণে ব্রাজিলেও এখন মেসির প্রচুর সমর্থক তৈরি হয়েছে। কার্লোসের ভাষায়, “আমাদের খেলার সময়ে প্রচুর আর্জেন্টাইন সমর্থক গ্যালারিতে ব্রাজিলের জার্সি পরে আসতেন। এখন যুগ বদলেছে, ব্রাজিলেও অনেকে আর্জেন্টিনার বা মেসির ১০ নম্বর জার্সি পরে ঘোরে। ফুটবল এখন অনেক আধুনিক ও গ্লোবাল হয়ে গেছে এবং প্রতিটি দেশেরই একজন করে বিশ্বজনীন আইকন রয়েছে।”

মেসির ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ২০০২ বিশ্বকাপজয়ী এই তারকা বলেন, “আমার মনে হয়, এবারের ২০২৬ বিশ্বকাপটি মেসির পুরোপুরি উপভোগ করা উচিত। কারণ, এটাই সম্ভবত তাঁর ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ। আবারও বলছি, আমি ‘সম্ভবত’ শব্দটি ব্যবহার করছি।” তবে এটাই মেসির শেষ কি না, সেই প্রশ্নের জবাবে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়ে কার্লোস মেসির আরও একটা বিশ্বকাপ (২০৩০) খেলার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি। তিনি হাসিমুখে বলেন, “সে চাইলে খেলতেই পারে। যদি সে নিজের শরীরের সঠিক যত্ন নেয়, তবে মেসির পক্ষে সেটাও অসম্ভব নয়।”

ব্রাজিলে নেইমারের গুরুত্ব ও ‘ফেভারিট’ বিতর্ক

২০০২ সালে কার্লোসদের হাত ধরে শেষবার বিশ্বকাপ জিতেছিল সেলেসাওরা। এরপর দীর্ঘ ২৪ বছর কেটে গেলেও ব্রাজিল আর সোনালী ট্রফিটি ছুঁয়ে দেখতে পারেনি। এবার ব্রাজিল খরা কাটাতে পারবে কি না, এমন প্রশ্নে কার্লোস স্পষ্ট করে বলেন, “শিরোপা জিততে হলে মাঠে নেমে শতভাগ প্যাশন দেখাতে হবে। দেশের ঐতিহ্যবাহী হলুদ জার্সির গুরুত্বটা খেলোয়াড়দের অন্তরে বুঝতে হবে। লাতিন আমেরিকার ফুটবল সব সময়ই বিশ্বসেরা। আমাদের এবারের নতুন কোচও দারুণ। প্লেয়াররা যদি নিজেদের সেরাটা মাঠে ঢেলে দিতে পারে, তবে আমরা অনায়াসে ফাইনাল খেলতে পারি।”

দলে ইনজুরি আক্রান্ত নেইমারের অন্তর্ভুক্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমাদের প্রথমে দেখতে হবে নেইমার মানসিকভাবে ও শারীরিকভাবে কতটা ফিট। লাগাতার চোট-আঘাতের কারণে ক্লাব ফুটবলে অদ্ভুত আর কঠিন একটা মৌসুম পার করেছে সে। তবে ব্রাজিলের ড্রেসিংরুমে নেইমারের উপস্থিতি অত্যন্ত জরুরি। সে মূল একাদশে খেলুক কিংবা বেঞ্চে বসে থাকুক—দলে তার থাকাটা অন্য ফুটবলারদের আত্মবিশ্বাস জোগাবে। আর যদি নেইমার পুরোপুরি ফিট হয়ে মাঠে নামতে পারে, তবে তা দেখার মতো দৃশ্য হবে।”

এবারের বিশ্বকাপে বড় বড় বোদ্ধারা ব্রাজিলকে ফেভারিট বা শিরোপার দাবিদার হিসেবে ধরছেন না—আর্জেন্টাইন সাংবাদিকের এই উসকানিমূলক মন্তব্যে মোটেও বিচলিত হননি রবার্তো কার্লোস। নিজের চিরচেনা চওড়া হাসিতে কার্লোসের সহজ ও সোজাসাপ্টা উত্তর, “ব্রাজিলকে ফেভারিট ধরার কোনো দরকারই নেই। টুর্নামেন্টের কাগজে-কলমে কে ফেভারিট তা দিয়ে কিছু যায় আসে না। বিশ্বকাপে এই এক মাসের দীর্ঘ সফরে যারা মাঠের ভেতর সবচেয়ে কম ভুল করবে, দিনশেষে তারাই চ্যাম্পিয়ন হয়ে ট্রফি উঁচিয়ে ধরবে।”

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency