বাংলাদেশ প্রতিদিন
প্রকাশিত: ১৪ জুন, ২০২৬
র্যাবের বিতর্কিত ‘টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন’ (TFI) সেলে ভয়াবহ গুম, নির্যাতন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে আজ রবিবার (১৪ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্যগ্রহণ করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে আজ এই চাঞ্চল্যকর মামলার পঞ্চম সাক্ষীর গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্যগ্রহণের (জবানবন্দি) দিন ধার্য রয়েছে।
ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন দল সূত্রে জানা গেছে, আজ আদালতে হাজির করে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর একজন ভুক্তভোগী/প্রত্যক্ষদর্শীর জবানবন্দি ও জেরা রেকর্ড করা হবে। তবে মামলার সংবেদনশীলতা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জীবন ও নিরাপত্তার স্বার্থে ওই সাক্ষীর নাম, পরিচয় বা পেশা গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়নি।
এর আগে গত ৩ জুন এই বিশেষ সাক্ষীর জবানবন্দি দেওয়ার কথা থাকলেও, প্রসিকিউশন পক্ষের এক সময়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত শুনানির জন্য আজকের দিনটি পুনর্নির্ধারণ করেছিলেন। চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়া এই ঐতিহাসিক সাক্ষ্যগ্রহণ পর্বে এখন পর্যন্ত ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাশেম আরমানসহ চারজন অন্যতম ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শী আদালতে হাজির হয়ে বিগত সরকারের আমলের অবর্ণনীয় গুম ও নির্যাতনের রোমহর্ষক জবানবন্দি দিয়েছেন।
প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, এই গুম ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার মোট ১৭ জন আসামির মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৭ জন বর্তমানে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার চোখ ফাঁকি দিয়ে দেশের বাইরে বা অজ্ঞাত স্থানে পলাতক রয়েছেন।
পলাতক অন্য ৬ হাই-প্রোফাইল আসামি হলেন:
শেখ হাসিনার সাবেক প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক।
সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।
সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ (যিনি সম্প্রতি ইন্টারপোলের সহায়তায় দুবাইয়ে গ্রেফতার হয়েছেন)।
র্যাবের সাবেক দুই মহাপরিচালক (ডিজি) এম খুরশীদ হোসেন ও ব্যারিস্টার হারুন অর রশিদ।
র্যাবের সাবেক পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মো. খায়রুল ইসলাম।
অন্যদিকে, এই মামলার বাকি ১০ জন হেভিওয়েট সামরিক ও র্যাব কর্মকর্তা বর্তমানে গ্রেফতার হয়ে ঢাকার সেনানিবাসের বিশেষ সাব-জেলে কড়া নিরাপত্তা বন্দি রয়েছেন। আদালতে তাঁদের উপস্থিতিতেই বিচারিক প্রক্রিয়া চলছে। এই ১০ আসামি হলেন—র্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুল হাসান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহাবুব আলম, কর্নেল কে এম আজাদ, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন, কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান, র্যাবের গোয়েন্দা শাখার সাবেক পরিচালক কর্নেল মো. মশিউর রহমান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সারওয়ার বিন কাশেম। বিগত সরকারের আমলে র্যাবের এই শীর্ষ কর্মকর্তাদের নির্দেশেই টিএফআই সেলসহ বিভিন্ন গোপন ‘আয়নাঘরে’ নাগরিকদের বছরের পর বছর গুম করে রাখা হতো বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |