| বাংলাদেশ প্রতিদিন
প্রকাশিত: ১৫ জুন, ২০২৬
সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) আন্তর্জাতিক অপরাধী চক্র দমন সংস্থা ইন্টারপোলের সহায়তায় গ্রেফতার হওয়া সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে নজিরবিহীন তৎপরতা শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। পলাতক এই সাবেক শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দেশে দায়ের হওয়া দুর্নীতি ও মানি লন্ডারিংসহ সকল মামলার অকাট্য তথ্যপ্রমাণ-সংবলিত আইনি নথিপত্র চূড়ান্ত করার কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে। প্রক্রিয়া শেষ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তা কূটনৈতিক চ্যানেলে ইউএই কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে বলে দুদকের উচ্চপর্যায় থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।
দুদকের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের অন্যতম ক্ষমতাধর ও বহুল সমালোচিত এই আইজিপির বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, মানি লন্ডারিং এবং পাসপোর্ট জালিয়াতিসহ দেশে মোট ছয়টি ফৌজদারি মামলা রয়েছে। এসব মামলার নথি ও অপরাধের সুনির্দিষ্ট উপাত্ত একত্র করে একটি সমন্বিত ফাইল প্রস্তুত করা হচ্ছে।
দুদকের দীর্ঘ অনুসন্ধানে বেনজীর আহমেদ ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে রাজধানী ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও বান্দরবানসহ দেশের বিভিন্ন ভিআইপি ও পর্যটন এলাকায় প্রায় ৩৪াস বিঘা (বিপুল পরিমাণ) মূল্যবান জমি এবং শত কোটি টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের তথ্য উঠে আসে—যা ইতোমধ্যে আদালতের নির্দেশে ক্রোক করা হয়েছে। এছাড়া, অবৈধ অর্থ পাচারের মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাণিজ্যিক রাজধানী দুবাইয়ে কেনা বেনজীরের একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাটও আন্তর্জাতিক আইনি সহযোগিতার আওতায় সম্প্রতি জব্দ করা হয়েছে।
দুদকের উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম আজ গণমাধ্যমকে জানান, “বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের মুখোমুখি করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় আইনি নথিপত্র প্রস্তুতের কাজ সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে করা হচ্ছে। এই আইনি স্ক্রুটিনি সম্পন্ন হওয়া মাত্রই তা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কূটনৈতিক চ্যানেলে আবুধাবিতে পাঠানো হবে।”
দুদক ও পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিস্থ ‘ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো’ (NCB) আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের এনসিবিকে (পুলিশের ইন্টারপোল শাখা) চিঠি দিয়ে বেনজীর আহমেদের গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
ওই চিঠিতে এনসিবি আবুধাবি স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, ইউএই-র ‘ফৌজদারি বিষয়ে আন্তর্জাতিক বিচারিক সহযোগিতা সংক্রান্ত’ ফেডারেল আইন নম্বর ৩৯/২০০৬-এর ১১ নম্বর ধারা অনুযায়ী—গ্রেফতারকৃত আসামিকে বাংলাদেশের কাছে প্রত্যর্পণ (Extradition) করার জন্য আগামী ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে একটি আনুষ্ঠানিক লিখিত আবেদন পাঠাতে হবে।
আইন অনুযায়ী, এই প্রত্যর্পণ আবেদনের সঙ্গে সমস্ত নথি বাধ্যতামূলকভাবে আরবি ভাষায় অনূদিত হতে হবে এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষের স্বাক্ষর ও সিলসহ নিম্নোক্ত তথ্যগুলো সংযুক্ত করতে হবে:
প্রত্যর্পণযোগ্য ব্যক্তি বা বেনজীর আহমেদের নাম, নিখুঁত পরিচয়, ছবি, জাতীয়তা, বর্তমান ঠিকানা এবং পরিচয় শনাক্তে সহায়ক অন্যান্য বায়োমেট্রিক তথ্য।
অভিযুক্ত অপরাধের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের দণ্ডবিধি বা দুর্নীতি দমন আইনের প্রযোজ্য ধারা, নির্ধারিত শাস্তি এবং মামলার তামাদি-সংক্রান্ত আইনি বিধানের অনুলিপি।
বাংলাদেশের আদালত বা বিচারিক কর্তৃপক্ষ কর্তৃক জারি করা আন্তর্জাতিক গ্রেফতারি পরোয়ানা (ওয়ারেন্ট)।
মামলার বিস্তারিত বিবরণ—যেখানে অপরাধের প্রকৃত প্রকৃতি, অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনা সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এবং অপরাধ সংঘটনের সঠিক স্থান ও সময় উল্লেখ থাকবে। তদন্তাধীন মামলার ক্ষেত্রে বর্তমান তদন্ত প্রতিবেদনের সত্যায়িত অনুলিপি।
এনসিবি আবুধাবি নির্ধারিত এই ৩০ দিনের ডেডলাইনের মধ্যে প্রয়োজনীয় সমস্ত কাগজপত্র কূটনৈতিক মাধ্যমে পাঠানোর জন্য বাংলাদেশ সরকারকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছে। উল্লেখ্য, ক্ষমতার অপব্যবহার করে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পর গত ২০২৫ সালের ১০ এপ্রিল বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ‘রেড নোটিশ’ (Red Notice) জারি করেছিল ইন্টারপোল। এই রেড নোটিশের সূত্র ধরেই অবশেষে দুবাইয়ে তাঁর বিলাসী জীবনের অবসান ঘটে এবং তিনি খাঁচাবন্দি হন।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |