সংসদ বিষয়ক প্রতিবেদক | বাংলাদেশ প্রতিদিন
প্রকাশিত: ১৫ জুন, ২০২৬
জাতীয় সংসদের চলমান ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশনে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাচন এবং এই নির্বাচনে ক্ষমতাচ্যুত ও নিষিদ্ধ ঘোষিত দল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আদৌ অংশগ্রহণ করতে পারবেন কি না—তা নিয়ে তীব্র শোরগোল ও প্রশ্ন উঠেছে।
আজ সোমবার (১৫ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের কার্যসূচি চলাকালীন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা জানতে চান স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। একই সঙ্গে অন্তর্বর্তী সময় পার করে স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঠিক কবে অনুষ্ঠিত হবে, তা পরিষ্কার করার দাবি জানান তিনি।
সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বর্তমান সরকারের স্থানীয় সরকার কাঠামোর সমালোচনা করে বলেন:
“আমরা গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করেছি, ইতোমধ্যে প্রতিটি জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছে। এই প্রশাসকেরা সকলেই বর্তমান শাসক দল বা জোটের দ্বারা দলীয়ভাবে মনোনীত। অথচ এই দেশে টেকসই গণতন্ত্র ও ভোটের অধিকারের জন্য ২০১৪ সাল থেকে আরম্ভ করে ২০২৪ সাল পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ লড়াই করেছে, রক্ত দিয়েছে, দীর্ঘ সংগ্রাম করেছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার চার মাসের মতো সময় পার হয়ে গেছে, এরপরও স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সংসদের ভেতরে বা বাইরে আমরা সুনির্দিষ্ট কোনো রোডম্যাপ জানতে পারি নাই।”
রুমিন ফারহানা সংবিধানের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে আরও বলেন, “গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী স্থানীয় পর্যায়ের পুরো শাসনব্যবস্থা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড একমাত্র স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মাধ্যমে ‘নির্বাচিত প্রতিনিধিদের’ দ্বারা পরিচালিত হবে। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি, এ মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিয়োগ পাওয়া আমলা ও দলীয় প্রশাসকদের খামখেয়ালিপনায় জেলাগুলো শাসিত হচ্ছে। নির্বাচিত প্রতিনিধি ছাড়া এই ধরণের দলীয় প্রশাসক দিয়ে স্থানীয় প্রশাসন চালানো সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক এবং সংবিধানের মূল স্পিরিটের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক।”
স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর প্রতি সরাসরি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, “আমরা জানতে চাই, স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঠিক কবে হবে? আর সেই নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণের রূপরেখা কী? বাজারে ও রাজনৈতিক মহলে নানা রকম কথা শোনা যাচ্ছে—কেউ বলছেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত দল আওয়ামী লীগ এই নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে; কেউ বলছেন, কোনোভাবেই পারবে না। আবার সরকারের কোনো কোনো মহল থেকে বলা হচ্ছে, নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হবে না, তাই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে যাদের ‘ক্লিন ইমেজ’ বা স্বচ্ছ ভাবমূর্তি আছে, তারা স্বতন্ত্র হিসেবে অংশ নিতে পারবেন। এই অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো যদি মাননীয় স্থানীয় সরকার মন্ত্রী আজ সংসদে পরিষ্কার করতেন, তাহলে দেশের আপামর জনসাধারণের বুঝতে সুবিধা হতো। একই সাথে তৃণমূল পর্যায়ে যারা রাজনীতি করেন, তাদের দীর্ঘদিনের ধোঁয়াশা কাটত।”
রুমিন ফারহানার এই ঝাঁজালো প্রশ্নের জবাবে পরবর্তীতে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংক্ষিপ্ত ও কূটনৈতিক বক্তব্য দেন। তিনি সংসদকে আশ্বস্ত করে বলেন, “স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সংশয়ের কোনো অবকাশ নেই। আমি এই পবিত্র সংসদকে স্পষ্ট করে আশ্বস্ত করতে পারি যে, সম্পূর্ণ নিয়ম মেনে যথাসময়েই স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।”
মন্ত্রী আরও যোগ করেন, “বর্তমান সরকার ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সাথে আমরা যে সুনির্দিষ্ট ও সংস্কারমুখী সিদ্ধান্তে একমত হয়েছি, সেই জাতীয় সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করেই আমরা যথাসময়ে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করতে পারব।” তবে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আইনি সুযোগ বা দলীয় প্রতীকের বিলুপ্তির বিষয়ে মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে সুনির্দিষ্ট কোনো মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকেন, যা নিয়ে সংসদ লবিতে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |