আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বাংলাদেশ প্রতিদিন
প্রকাশিত: ১৭ জুন, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া সাম্প্রতিক ঐতিহাসিক যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে কঠোরভাবে মেনে চলার জন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের প্রতি জোর আহ্বান জানিয়েছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনার চলমান প্রক্রিয়াকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, এই যুদ্ধবিরতির ওপর ভিত্তি করেই ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যে একটি ‘টেকসই ও যৌথ নিরাপত্তা কাঠামো’ গড়ে তুলতে হবে।
চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ‘সিনহুয়া’ (Xinhua) জানিয়েছে, বেইজিংয়ে বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা নিয়ে চীনের নতুন রাষ্ট্রীয় শ্বেতপত্র (White Paper) ‘মোর জাস্ট অ্যান্ড ইকুইটেবল গ্লোবাল গভর্নেন্স: চায়নাস প্রিন্সিপালস, প্রপোজালস অ্যান্ড অ্যাকশনস’ প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত এক হাই-প্রোফাইল সংবাদ সম্মেলনে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।
সংবাদ সম্মেলনে ওয়াং ই বর্তমান আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থার চরম অস্থিরতা এবং পতনমুখী প্রবণতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। একটির পর একটি নতুন চ্যালেঞ্জ ও যুদ্ধ কীভাবে বৈশ্বিক সংকটগুলোকে আরও জটিল ও পরস্পর-সংযুক্ত (Intertwined) করে তুলছে, তা উল্লেখ করে তিনি রূপক অর্থে বলেন:
"সভ্যতার জাহাজ এখন এমন এক বিপজ্জনক জলসীমায় প্রবেশ করেছে, যেখানে পানির নিচে লুকিয়ে আছে শত শত ধারালো পাথুরে বাধা এবং ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে প্রবল ঝড়।"
চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে চলমান বিরোধ ও সামরিক সংঘাতগুলো কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং এগুলো আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার গভীরে লুকিয়ে থাকা দীর্ঘদিনের কাঠামোগত সমস্যার বহিঃপ্রকাশ।
বিশ্বের বর্তমান ঝুঁকিগুলোকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ওয়াং ই আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও রাজনীতির দুটি বহুল ব্যবহৃত টার্ম ‘ব্ল্যাক সোয়ান’ (Black Swan - সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত কিন্তু মারাত্মক ধ্বংসাত্মক সংকট) এবং ‘গ্রে রাইনো’ (Grey Rhino - আগে থেকেই দৃশ্যমান কিন্তু অবহেলিত বড় ঝুঁকি)-র উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বিশ্বে একের পর এক অপ্রত্যাশিত সংকট আছড়ে পড়ছে এবং একই সাথে এমন কিছু বড় ঝুঁকি সামনে চলে আসছে যা দীর্ঘদিন ধরে স্পষ্ট চেনা গেলেও বৈশ্বিক পরাশক্তিগুলো তা অবহেলা করে গেছে। ফেব্রুয়ারি মাসে ইরান ও ইসরাইলের ওপর যৌথ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে যে যুদ্ধ পরিস্থিতির তৈরি হয়েছিল, তা এই অবহেলারই ফল। পাকিস্তান ও চীনের মধ্যস্থতায় গত ৮ এপ্রিল একটি প্রাথমিক যুদ্ধবিরতি অর্জিত হওয়ার পর আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে দুই দেশের মধ্যে মূল চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে। চীন চায় না এই প্রক্রিয়া কোনোভাবে ব্যাহত হোক।
জাতিসংঘ (UN)-সহ আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় মার্কিন ও পশ্চিমা আধিপত্যের সমালোচনা করে ওয়াং ই ‘গ্লোবাল সাউথ’ (Global South) বা উন্নয়নশীল ও উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর প্রতিনিধিত্ব এবং ভোটাধিকার বাড়ানোর জোর আহ্বান জানান। তিনি বেইজিংয়ের দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন:
সার্বভৌম সমতা: "দেশ আকারে বড় হোক বা ছোট, সামরিকভাবে শক্তিশালী হোক বা দুর্বল, উন্নত হোক বা উন্নয়নশীল—সব দেশই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমান সদস্য।"
বহুপাক্ষিকতাবাদ: কোনো একক শক্তির জোরজুলুম বা ‘বুলিং’ নীতি আন্তর্জাতিক নিয়ম হতে পারে না। প্রকৃত বহুপাক্ষিকতাবাদ ও জাতিসংঘের সনদের বাধ্যবাধকতা মেনে চলাই এখন বিশ্বকে রক্ষা করার একমাত্র উপায়।
তিনি আরও ঘোষণা করেন, ২০২৬ সালটি চীনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এ বছর থেকেই তাদের ১৫তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (২০২৬-২০৩০) শুরু হচ্ছে। এছাড়া চলতি বছর এপেকের (APEC) আয়োজক দেশ হিসেবে চীন এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলসহ পুরো বিশ্বে শান্তি ও টেকসই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাবে।
| প্রধান দিক | বেইজিংয়ের অবস্থান ও বার্তা |
| যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি | কোনোভাবেই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন বা পিছু হটা চলবে না। শক্তি প্রয়োগ চিরতরে বন্ধ করতে হবে। |
| মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ | dialogue বা আলোচনার মাধ্যমে সব দেশের অংশগ্রহণে একটি ‘স্থায়ী নিরাপত্তা কাঠামো’ গঠন। |
| ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা | ‘ব্ল্যাক সোয়ান’ ও ‘গ্রে রাইনো’র মতো দৃশ্যমান ও অদৃশ্য ঝুঁকি মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধ হওয়া। |
| জাতিসংঘের সংস্কার | উন্নয়নশীল বিশ্ব বা গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোর কণ্ঠস্বরকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া। |
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |