| বঙ্গাব্দ

জি-৭ সম্মেলনে ভারত কেন অপরিহার্য? বিশ্বরাজনীতিতে নয়া সমীকরণ

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 18-06-2026 ইং
  • 2907704 বার পঠিত
জি-৭ সম্মেলনে ভারত কেন অপরিহার্য? বিশ্বরাজনীতিতে নয়া সমীকরণ
ছবির ক্যাপশন: জি-৭ সম্মেলন

জি-৭ সম্মেলনে ভারত: বিশ্বরাজনীতির প্রভাবশালী টেবিলে কেন অপরিহার্য নয়াদিল্লি?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ফ্রান্সে ১৫ থেকে ১৭ জুন অনুষ্ঠিত হয়ে গেল বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সাতটি শিল্পোন্নত দেশের জোট ‘জি-৭’-এর ৫২তম সম্মেলন। আনুষ্ঠানিকভাবে এই জোটের সদস্য না হওয়া সত্ত্বেও, সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বিশেষ আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে দেখা যাচ্ছে ভারতকে। এই নিয়ে মোট ১৩ বার এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পরপর সাতবার জি-৭ বৈঠকে যোগ দিয়ে বিশ্বমঞ্চে ভারতের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের জানান দিলেন।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি (NDTV)-র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের এই অংশগ্রহণ এখন আর কেবল প্রতীকী নয়। এর আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিংও ২০০৩ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে একাধিকবার জি-৭ ও সম্প্রসারিত জি-৮ সম্মেলনে অংশ নিয়েছিলেন। তবে বর্তমান ভূ-রাজনীতিতে ভারত এখন জি-৭ দেশের কাছে এক অপরিহার্য অংশীদার।

বিশ্বরাজনীতির টেবিলে ভারতের অপরিহার্য হয়ে ওঠার প্রধান কারণসমূহ

পশ্চিমা দেশগুলোর আধিপত্যের বাইরে গিয়ে ভারত যেভাবে বিশ্বমঞ্চে নিজের অবস্থান তৈরি করেছে, তার পেছনে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট কারণ রয়েছে:

  • গ্লোবাল সাউথের কণ্ঠস্বর: এশিয়া, আফ্রিকা এবং লাতিন আমেরিকার উন্নয়নশীল দেশগুলোর অভাব-অভিযোগ ও আকাঙ্ক্ষার কথা বৈশ্বিক আলোচনায় তুলে ধরতে ভারত এখন প্রধান অনুঘটক ও সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছে।

  • বিশাল অর্থনীতির হাতছানি: ১৪০ কোটিরও বেশি মানুষের দেশ ভারত এখন বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ভোক্তা বাজার। ডিজিটাল অর্থনীতি, ম্যানুফ্যাকচারিং এবং প্রযুক্তিতে ভারতের দ্রুত অগ্রগতি বৈশ্বিক সরবরাহ চেইন (Supply Chain) সচল রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

  • চীনের প্রভাব মোকাবিলায় কৌশলগত ভারসাম্য: ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব মোকাবিলায় জি-৭ দেশগুলোর কাছে ভারত এখন এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী কৌশলগত সঙ্গী।

  • জলবায়ু লড়াইয়ে নেতৃত্ব: ‘ইন্টারন্যাশনাল সোলার অ্যালায়েন্স’-এর মতো উদ্যোগ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়িয়ে ভারত এখন জলবায়ু লক্ষ্য অর্জনে বিশ্বকে পথ দেখাচ্ছে।

  • স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি ও গণতন্ত্র: বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে ভারত কোনো নির্দিষ্ট ব্লকে না গিয়ে সংলাপের পক্ষে কথা বলে। রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত বা মধ্যপ্রাচ্য সংকটে ভারতের এই ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান বিশ্ব রাজনীতিতে অত্যন্ত মূল্যবান।

শুধুই অতিথি নয়, এখন নতুন আইডিয়ার অংশীদার

ডিজিটাল অবকাঠামো, খাদ্য নিরাপত্তা, বৈশ্বিক উন্নয়ন এবং প্রযুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ভারত এখন নতুন নতুন সমাধান ও আইডিয়া নিয়ে জি-৭ এর টেবিলে বসছে। বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় একটি বিষয় পরিষ্কার—বৈশ্বিক প্রভাব এখন আর কেবল পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ভারতের মতো উদীয়মান শক্তির হাতেই এখন বিশ্বরাজনীতির ভবিষ্যৎ অনেকটা নির্ভর করছে।

এক নজরে জি-৭ জোটের ইতিহাস

১৯৭৩ সালে প্যারিসে এই প্রভাবশালী জোটের আনুষ্ঠানিক সূচনা হলেও এর প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭৫ সালে।

  • প্রতিষ্ঠাতা সদস্য: প্রথম বৈঠকে জার্মানি, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইতালি, ফ্রান্স এবং জাপান অংশ নেয়।

  • পরবর্তী অন্তর্ভুক্তি: ১৯৭৬ সালে এই জোটে যোগ দেয় কানাডা এবং ১৯৭৭ সাল থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) এই বৈঠকে অংশ নেওয়া শুরু করে। তবে ইইউ আলাদা করে জি-৭ এর পূর্ণাঙ্গ সদস্য হয়নি।

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি (NDTV)

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
খবর রোনাম: মধ্যপ্রাচ্যের তীব্র উত্তেজনা ও ইরান সংকট সত্ত্বেও বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ১০০ ডলারের নিচে: নেপথ্যের বাজার বিশ্লেষণমেটা ডিসক্রিপশন: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থা ও ইরান সংকট সত্ত্বেও বৈশ্বিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলে ১০০ ডলারের নিচে অবস্থান করছে। অর্থনৈতিক মন্দা ও উৎপাদন বৃদ্ধির নানা কারণ বিশ্লেষণ।অনলাইন ডেস্কমধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান সামরিক সংঘাত এবং ইরান কেন্দ্রিক চরম ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম মনস্তাত্ত্বিক ১০০ ডলারের নিচেই স্থিতিশীল রয়েছে। চলতি সপ্তাহে লন্ডনের ব্রেন্ট ক্রুড এবং মার্কিন টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI)—উভয় মানদণ্ডেই তেলের দর প্রত্যাশার চেয়ে কম সূচকে কেনাবেচা হতে দেখা গেছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কা, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বৃদ্ধি এবং প্রধান প্রধান অর্থনৈতিক পরাশক্তিগুলোতে জ্বালানি ব্যবহারের শ্লথগতির কারণে সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটা সত্ত্বেও বাজারে তেলের দাম লাগামহীন হতে পারেনি।তেলের দাম না বাড়ার প্রধান অনুঘটকসমূহমধ্যপ্রাচ্যের স্পর্শকাতর পরিস্থিতির পরও আন্তর্জাতিক কমোডিটি এক্সচেঞ্জে তেলের দর প্রত্যাশার চেয়ে নিয়ন্ত্রণে থাকার পেছনে বিশ্ব অর্থনীতির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক কাজ করছে।চীন ও ইউরোপের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি শ্লথ হওয়ায় জ্বালানি তেলের বিশ্বব্যাপী সার্বিক ব্যবহার আগের চেয়ে কমেছে। পাশাপাশি, ওপেক প্লাস (OPEC+) জোটের বাইরে থাকা দেশগুলোর অব্যাহত অতিরিক্ত উৎপাদন বাজারে চাহিদার ঘাটতি তৈরি হতে দেয়নি।দর নিয়ন্ত্রণে থাকার মূল কারণসমূহজ্বালানি বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, দর ব্যারেলে ১০০ ডলারের নিচে থাকার নেপথ্যে যেসব প্রধান কারণ রয়েছে:যুক্তরাষ্ট্র ও অপেক-বহির্ভূত দেশের উৎপাদন: যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল ও গায়ানার মতো দেশগুলোতে তেলের রেকর্ড পরিমাণ উৎপাদন বাজারের ভারসাম্য রক্ষা করছে।চীনের বাণিজ্যিক মন্দা: বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল আমদানিকারক দেশ চীনে শিল্প উৎপাদন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার চেয়ে ধীরগতির হওয়ায় চাহিদায় ঘাটতি।মার্কিন সুদের হার ও সুদের প্রভাব: উচ্চ সুদের হারের কারণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক মন্দার প্রভাব এবং অর্থনৈতিক স্থবিরতা তেলের দামে অতিরিক্ত চাপ তৈরিতে বাধা সৃষ্টি করেছে।এক নজরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার পরিস্থিতিবিষয়বিবরণবাজার স্থিতিপ্রতি ব্যারেল তেলের দাম ১০০ ডলারের নিচেউত্তেজনার অঞ্চলমধ্যপ্রা

রোনাম: মধ্যপ্রাচ্যের তীব্র উত্তেজনা ও ইরান সংকট সত্ত্বেও বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ১০০ ডলারের নিচে: নেপথ্যের বাজার বিশ্লেষণমেটা ডিসক্রিপশন: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থা ও ইরান সংকট সত্ত্বেও বৈশ্বিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলে ১০০ ডলারের নিচে অবস্থান করছে। অর্থনৈতিক মন্দা ও উৎপাদন বৃদ্ধির নানা কারণ বিশ্লেষণ।অনলাইন ডেস্কমধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান সামরিক সংঘাত এবং ইরান কেন্দ্রিক চরম ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম মনস্তাত্ত্বিক ১০০ ডলারের নিচেই স্থিতিশীল রয়েছে। চলতি সপ্তাহে লন্ডনের ব্রেন্ট ক্রুড এবং মার্কিন টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI)—উভয় মানদণ্ডেই তেলের দর প্রত্যাশার চেয়ে কম সূচকে কেনাবেচা হতে দেখা গেছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কা, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বৃদ্ধি এবং প্রধান প্রধান অর্থনৈতিক পরাশক্তিগুলোতে জ্বালানি ব্যবহারের শ্লথগতির কারণে সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটা সত্ত্বেও বাজারে তেলের দাম লাগামহীন হতে পারেনি।তেলের দাম না বাড়ার প্রধান অনুঘটকসমূহমধ্যপ্রাচ্যের স্পর্শকাতর পরিস্থিতির পরও আন্তর্জাতিক কমোডিটি এক্সচেঞ্জে তেলের দর প্রত্যাশার চেয়ে নিয়ন্ত্রণে থাকার পেছনে বিশ্ব অর্থনীতির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক কাজ করছে।চীন ও ইউরোপের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি শ্লথ হওয়ায় জ্বালানি তেলের বিশ্বব্যাপী সার্বিক ব্যবহার আগের চেয়ে কমেছে। পাশাপাশি, ওপেক প্লাস (OPEC+) জোটের বাইরে থাকা দেশগুলোর অব্যাহত অতিরিক্ত উৎপাদন বাজারে চাহিদার ঘাটতি তৈরি হতে দেয়নি।দর নিয়ন্ত্রণে থাকার মূল কারণসমূহজ্বালানি বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, দর ব্যারেলে ১০০ ডলারের নিচে থাকার নেপথ্যে যেসব প্রধান কারণ রয়েছে:যুক্তরাষ্ট্র ও অপেক-বহির্ভূত দেশের উৎপাদন: যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল ও গায়ানার মতো দেশগুলোতে তেলের রেকর্ড পরিমাণ উৎপাদন বাজারের ভারসাম্য রক্ষা করছে।চীনের বাণিজ্যিক মন্দা: বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল আমদানিকারক দেশ চীনে শিল্প উৎপাদন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার চেয়ে ধীরগতির হওয়ায় চাহিদায় ঘাটতি।মার্কিন সুদের হার ও সুদের প্রভাব: উচ্চ সুদের হারের কারণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক মন্দার প্রভাব এবং অর্থনৈতিক স্থবিরতা তেলের দামে অতিরিক্ত চাপ তৈরিতে বাধা সৃষ্টি করেছে।এক নজরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার পরিস্থিতিবিষয়বিবরণবাজার স্থিতিপ্রতি ব্যারেল তেলের দাম ১০০ ডলারের নিচেউত্তেজনার অঞ্চলমধ্যপ্রা

ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency