| বঙ্গাব্দ

প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়া ও চীন যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 18-06-2026 ইং
  • 17406 বার পঠিত
প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়া ও চীন যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
ছবির ক্যাপশন: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়া ও চীন যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: ঢাকা-বেইজিংয়ে জোর প্রস্তুতি

কূটনৈতিক ডেস্ক: গত ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা গ্রহণের পর নিজের প্রথম বিদেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী ২১ জুন তিনি ঢাকা ত্যাগ করবেন। চার দিনের এই দ্বিপাক্ষিক সফরে তিনি প্রথমে মালয়েশিয়া এবং পরবর্তীতে সেখান থেকেই চীন সফর করবেন।

প্রধানমন্ত্রীর এই হাই-প্রোফাইল সফরকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জোর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রথম বিদেশ সফরের জন্য ঐতিহ্যগত পরাশক্তি ভারত ও চীনকে সরাসরি বেছে না নিয়ে তৃতীয় দেশ হিসেবে মালয়েশিয়াকে প্রাধান্য দেওয়া অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং এটি একটি সুদূরপ্রসারী কৌশলগত সিদ্ধান্ত।

সফরের বিস্তারিত সময়সূচি ও কূটনৈতিক প্রস্তুতি

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ২১ ও ২২ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়া সফর করবেন। এরপর ২৩ জুন তিনি কুয়ালালামপুর থেকেই সরাসরি চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন এবং ২৬ জুন সফর শেষে ঢাকায় ফিরবেন।

এই সফরের খুঁটিনাটি ও দ্বিপাক্ষিক চুক্তিগুলো চূড়ান্ত করতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম ইতিমধ্যে বেইজিং সফর করেছেন। সেখানে তিনি চীনের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক সম্পন্ন করেছেন।

মালয়েশিয়া সফরে মূল ফোকাস: বন্ধ শ্রমবাজার উন্মুক্ত করা

বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি রপ্তানির তালিকায় চতুর্থ দেশ হলেও সিন্ডিকেটসহ নানা জটিলতায় বর্তমানে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বাংলাদেশের জন্য বন্ধ রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে দেশের রেমিট্যান্সের অন্যতম প্রধান এই উৎসটি পুনরায় সচল করা।

শ্রমবাজার ও শিক্ষাখাতে সম্ভাব্য অর্জনগুলো হলো:

  • অবৈধ শ্রমিকদের বৈধতা: মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত যেসব বাংলাদেশি শ্রমিকের বৈধ কাগজপত্র নেই, তাদের বৈধতা দেওয়ার বিষয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সাথে বিশেষ আলোচনা হবে।

  • শ্রমবাজারের বাধা দূরীকরণ: গত ১৫ জুন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নুর জানিয়েছেন, এই সফরের মাধ্যমে বন্ধ শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে একটি বড় রেখাপাত তৈরি হবে।

  • উচ্চশিক্ষায় সমঝোতা: বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি শিক্ষার্থী যেন দেশটিতে উচ্চশিক্ষা অর্জনের জন্য যেতে পারে, সেজন্য দুই দেশের মধ্যে শিক্ষাখাতে সমঝোতা স্মারক সইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।

কৌতূহলের কেন্দ্রে চীন সফর: ১৫টি চুক্তি ও দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর আভাস

কুয়ালালামপুর সফর শেষে ২৩ থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত বেইজিংয়ে অবস্থান করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই সফরে বাণিজ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও প্রতিরক্ষাসহ বিভিন্ন খাতে প্রায় ১৫টির মতো সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হওয়ার আভাস পাওয়া গেছে।

চীনের সাথে আলোচনায় যেসব মেগা প্রকল্প বিশেষ গুরুত্ব পাবে:

  • অবকাঠামো উন্নয়ন: বাংলাদেশে প্রস্তাবিত দ্বিতীয় পদ্মা সেতু, তিস্তা মহাপরিকল্পনা এবং যমুনা নদীতে আরেকটি সেতু নির্মাণের মতো বড় প্রকল্পগুলোতে চীনের আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা।

  • চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল: একনেকে ইতিমধ্যে চীনের ঋণে ৪ হাজার কোটি টাকার একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যা এই সফরে গতি পাবে।

  • বিনিয়োগ সম্মেলন ও বন্ড: প্রধানমন্ত্রীর সফর চলাকালীন বেইজিংয়ে একটি বড় বিনিয়োগ সম্মেলন আয়োজনের চেষ্টা করছে বাংলাদেশ। পাশাপাশি চীনা মুদ্রায় (আরএমবি) একটি বিশেষ বন্ড চালুর প্রস্তাবও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়া বৈদ্যুতিক গাড়ি (EV) নির্মাণে বিনিয়োগ ও কৃষি প্রযুক্তি হস্তান্তরের বিষয়গুলো টেবিলে থাকবে।

ভারত-চীন বিতর্ক এড়ানো ও সম্পর্কের ভারসাম্য

দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভারত ও চীন সমীকরণটি অত্যন্ত সংবেদনশীল। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর চীন দ্রুতই নতুন নির্বাচিত সরকার এবং বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ তৈরি করে। অন্যদিকে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শোকবার্তা প্রেরণ এবং তারেক রহমানের শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের স্পিকার ওম বিড়লার অংশগ্রহণ দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ইঙ্গিত দিলেও দিল্লির সাথে নতুন সরকারের সম্পর্ক এখনো কাঙ্ক্ষিত স্তরে পৌঁছায়নি।

“দুই শক্তিধর দেশ ভারত ও চীনের চিরাচরিত কূটনৈতিক বিতর্ক এড়াতে এবং আঞ্চলিক রাজনীতিতে একটি নিরপেক্ষ ও ভারসাম্যপূর্ণ বার্তা দিতেই প্রধানমন্ত্রী প্রথম গন্তব্য হিসেবে কুয়ালালামপুরকে বেছে নিয়েছেন।” - অধ্যাপক মো. ফরিদ হোসেন, আঞ্চলিক রাজনীতি বিশ্লেষক।

সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সি ফয়েজ আহমেদের মতে, চীন সফরের আগে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী অন্য কোনো দেশে গেলেন কিনা, তা নিয়ে বেইজিংয়ের কোনো উষ্মা থাকে না। তবে প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে ভারতের সঙ্গেও সুসম্পর্ক বজায় রাখতে দুই পক্ষকেই নিজ স্বার্থে সমান্তরালভাবে উদ্যোগী হতে হবে।

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

তথ্যসূত্র: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency