| বঙ্গাব্দ

ধর্ষণের শিরকার শিশু মরদেহ হেলিকপ্টারে মাগুরা নিয়ে যাওয়া হবে

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 13-03-2025 ইং
  • 4786041 বার পঠিত
ধর্ষণের শিরকার শিশু মরদেহ হেলিকপ্টারে মাগুরা নিয়ে যাওয়া হবে
ছবির ক্যাপশন: ধর্ষণের শিরকার শিশু মরদেহ হেলিকপ্টারে মাগুরা নিয়ে যাওয়া হবে

ধর্ষণের শিকার শিশুর মরদেহ হেলিকপ্টারে মাগুরা নিয়ে যাওয়া হবে

মাগুরার নিজনান্দুয়ালী গ্রামে ধর্ষণের শিকার ৮ বছর বয়সী শিশুটির মরদেহ বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ) থেকে সামরিক হেলিকপ্টারে তার গ্রামের বাড়ি মাগুরা নিয়ে যাওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কিছুক্ষণের মধ্যেই সিএমএইচ হাসপাতাল থেকে শিশুটির মরদেহ তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দরে পাঠানো হবে, যেখানে সেখান থেকে সামরিক হেলিকপ্টারে মরদেহটি মাগুরার উদ্দেশে রওনা করবে।

মাগুরায় শিশুটির মরদেহ পৌঁছানোর পর তার জানাজা মাগুরার নোমানী মাঠে আজ সন্ধ্যা ৭টায় অনুষ্ঠিত হবে। জানাজার জন্য গ্রামের মানুষসহ স্থানীয় নেতারা শোক জানিয়ে উপস্থিত থাকবেন বলে আশা করা যাচ্ছে।

শিশুটির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পুরো মাগুরা জেলা শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েছে। স্থানীয় জনগণ এবং প্রতিবেশীরা এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং ধর্ষণের মতো ভয়াবহ অপরাধের বিরুদ্ধে শক্তিশালী পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছে।

শিশুটির মৃত্যুর পেছনের ঘটনা
শিশুটির পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ মার্চ মাগুরার নিজনান্দুয়ালী গ্রামে তার বোনের বাড়ি বেড়াতে গিয়েছিল শিশুটি। সেখানে শিশুটি ধর্ষণের শিকার হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনার পর শিশুটির শারীরিক অবস্থা গুরুতর হয়ে পড়লে তাকে মাগুরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু তার অবস্থা আরও খারাপ হলে ৮ মার্চ তাকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ঢাকা পাঠানো হয়।

শিশুটির চিকিৎসার সময় গত কয়েকদিন ধরে তার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত খারাপ ছিল। ১২ মার্চ শিশুটি ৪ বার কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট (হঠাৎ হৃৎস্পন্দন বন্ধ হয়ে যাওয়া) হয়েছিল। প্রথম দুটি কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের পর তার হৃৎস্পন্দন ফিরিয়ে আনা সম্ভব হলেও তার অবস্থার কোনো উন্নতি ঘটেনি। পরে, ১৩ মার্চ তৃতীয় দফায় শিশুটির কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয় এবং চিকিৎসকদের দীর্ঘ প্রচেষ্টার পরও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত শিশুটির মৃত্যু হয়।

ধর্ষণের অভিযোগ এবং মামলা
শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে ৮ মার্চ মাগুরা সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার বাদী শিশুটির মা, যার অভিযোগের ভিত্তিতে শিশুটির বোনের স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়ি এবং ভাশুরকে আসামি করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, নির্যাতনসহ আরও নানা অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ তাদের আটক করে এবং আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে।

মাগুরা সদর থানার পুলিশ জানায়, তারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে বদ্ধপরিকর এবং দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।

প্রতিক্রিয়া ও প্রতিবাদ
শিশুটির মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয় জনগণ এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলো তীব্র ক্ষোভ ও শোক প্রকাশ করেছে। স্থানীয় জনগণ অভিযোগ করেছেন, সরকার এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নারীদের এবং শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যথেষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছে না। প্রতিবাদী নেতারা দাবি করেছেন, ধর্ষকদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য আইন আরও শক্তিশালী করতে হবে এবং আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয়ভাবে বিক্ষোভ এবং প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। সুশীল সমাজ এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলো ধর্ষণের বিরুদ্ধে একযোগে লড়াইয়ের ডাক দিয়েছে। তারা দাবি করছে, শিশুদের প্রতি সহিংসতা বন্ধে রাষ্ট্রীয়ভাবে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে এবং নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

সরকারের কাছে দাবি
শিশুদের নিরাপত্তা এবং ধর্ষণের শাস্তির বিষয়ে সরকারের কাছে আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে। বক্তারা বলেন, সমাজে শিশুদের প্রতি সহিংসতা বন্ধ করতে হলে আইন প্রণয়ন ও তার যথাযথ বাস্তবায়ন অত্যন্ত জরুরি। শিশুদের প্রতি এমন নৃশংসতা, অপহরণ এবং ধর্ষণ বন্ধ করতে আরও শক্তিশালী আইন এবং কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিত।

অপরদিকে, দেশব্যাপী এ ধরনের ঘটনার প্রতি সরকারের নজর দেওয়া এবং দ্রুত বিচার ব্যবস্থা চালু করার দাবি জানিয়ে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনগুলো তাদের প্রতিবাদ জানাচ্ছে।


আরও পড়ুন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency