আন্তর্জাতিক ও মধ্যপ্রাচ্য ভূ-রাজনীতি ডেস্ক | বাংলাদেশ প্রতিদিন
প্রকাশিত: ১ জুলাই, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের চরম উত্তেজনা নিরসনে সম্প্রতি এক ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক কার্যকর হওয়া সত্ত্বেও মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা থামছেই না। চিরবৈরী দেশ ইরানে প্রয়োজনে আবারও সরাসরি সামরিক হামলা চালানো হবে বলে নতুন করে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। একই সঙ্গে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, কোনো অবস্থাতেই ইরানকে চূড়ান্তভাবে পরমাণু অস্ত্রের অধিকারী হতে দেবে না ইসরাইল।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) ইসরাইলের প্রভাবশালী গণমাধ্যম ‘চ্যানেল ১৪’-কে দেওয়া এক বিশেষ এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এই যুদ্ধংদেহী মন্তব্য করেন। তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদসংস্থা ‘আনাদোলু এজেন্সি’ (Anadolu Agency) এই খবর নিশ্চিত করেছে।
সাক্ষাৎকারে নিজের সামরিক ও গোয়েন্দা সাফল্য দাবি করে নেতানিয়াহু বলেন, "আমরা শুরু থেকেই ইরানের পরমাণু বোমার ভয়ংকর হুমকি থেকে নিজেদের এবং আমাদের জনগণকে সুরক্ষিত রেখেছি। এই ধারা ভবিষ্যতেও বজায় থাকবে।"
নেতানিয়াহুর এই তীব্র আক্রমণাত্মক মন্তব্যটি এমন এক স্পর্শকাতর সময়ে সামনে এলো, যার মাত্র কয়েক দিন আগে পরাশক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের মধ্যে সংঘাত নিরসনে একটি যুগান্তকারী দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারক (MoU) আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়েছে।
দক্ষিণ এশিয়ার পরমাণু শক্তিধর দেশ পাকিস্তানের অত্যন্ত গোপন ও দীর্ঘ কূটনৈতিক মধ্যস্থতায় হওয়া ওই ঐতিহাসিক সমঝোতাটি গত ১৮ জুন থেকে কার্যকর হয়। আন্তর্জাতিক কূটনীতির ইতিহাসে এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে এই চুক্তিতে সম্পূর্ণ ইলেকট্রনিক বা ডিজিটাল মাধ্যমে (Digitally) যৌথ স্বাক্ষর করেন ইরানের নতুন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানাচ্ছে, এই সমঝোতা স্মারকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে দীর্ঘ কয়েক দশকের অমীমাংসিত ও জটিল বিভিন্ন ভূ-রাজনৈতিক বিষয়ে আলোচনার মাধ্যমে টেকসই সমাধানের একটি আধুনিক আইনি কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। এই মেগা চুক্তির মূল এজেন্ডাগুলোর মধ্যে রয়েছে—আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতি, ইরানের ওপর থেকে মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা, ইরানের পরমাণু কর্মসূচির সীমা নির্ধারণ, কৌশলগত হরমুজ প্রণালি (Strait of Hormuz) আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য পুনরায় সম্পূর্ণ নিরাপদ ও উন্মুক্ত করা এবং বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে একটি টেকসই নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
ইসরাইলের দীর্ঘদিনের অনড় অবস্থান: তবে ওয়াশিংটন ও তেহরানের এই ঐতিহাসিক বরফ গলার ঘটনাকে মোটেও ইতিবাচকভাবে দেখছে না তেল আবিব। ইসরাইল শুরু থেকেই ইরানের সঙ্গে যেকোনো আন্তর্জাতিক পক্ষ বা পরাশক্তির সব ধরনের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমঝোতার তীব্র বিরোধিতা করে আসছে।
ইসরাইলি যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভার মতে, যেকোনো চুক্তি মূলত ইরানের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে এবং তারা গোপনে পরমাণু অস্ত্র তৈরি অব্যাহত রাখবে। আর এ কারণেই ওয়াশিংটনের নীতিকে তোয়াক্কা না করে তেহরানের বিরুদ্ধে প্রয়োজন হলে আবারও একতরফা সামরিক অভিযান বা বিমান হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি অব্যাহত রেখেছে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর উগ্র ডানপন্থী সরকার।
ইসরাইলের হুমকি: ইরানকে পরমাণু অস্ত্র মুক্ত রাখতে আবারও সামরিক হামলার হুঁশিয়ারি নেতানিয়াহুর।
ঐতিহাসিক চুক্তি: পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ১৮ জুন কার্যকর হয়েছে মার্কিন-ইরান সমঝোতা স্মারক।
ডিজিটাল স্বাক্ষর: চুক্তিতে ইলেকট্রনিক স্বাক্ষর করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের মাসুদ পেজেশকিয়ান।
চুক্তির মূল বিষয়: নিষেধাজ্ঞা শিথিল, পরমাণু কর্মসূচির নিয়ন্ত্রণ ও হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করা।
তেল আবিবের ক্ষোভ: হোয়াইট হাউসের এই বিশেষ উদ্যোগের তীব্র বিরোধিতা করছে ইসরাইল সরকার।
স্টাফ রিপোর্টার | আন্তর্জাতিক ও মধ্যপ্রাচ্য বিভাগ
টেল আবিব ও তেহরানের মধ্যকার লাইভ ডিফেন্স ও সামরিক তৎপরতার আপডেট, ট্রাম্প-পেজেশকিয়ান চুক্তির পর হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের সর্বশেষ পরিস্থিতি, মার্কিন পেন্টাগনের নতুন প্রতিরক্ষা বার্তা এবং আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতির সব এক্সক্লুসিভ ব্রেকিং নিউজের দ্রুত আপডেটের জন্য নিয়মিত ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |