স্পোর্টস ডেস্ক | বাংলাদেশ প্রতিদিন
প্রকাশিত: ১ জুলাই, ২০২৬
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর নকআউট পর্বের প্রথম ধাপেই বিশ্বমঞ্চে শুরু হয়ে গেছে টানটান উত্তেজনা। রাউন্ড অব ৩২-এর প্রথমভাগের ম্যাচগুলোতে নিজেদের মাঠের দাপট দেখিয়ে ইতিমধ্যেই শেষ ১৬ বা ‘ can শেষ ষোলো’ নিশ্চিত করে ফেলেছে কানাডা, ব্রাজিল, প্যারাগুয়ে, মরক্কো, ফ্রান্স, নরওয়ে এবং মেক্সিকো।
অন্যদিকে, নকআউটের প্রথম ধাক্কাতেই স্তব্ধ হয়ে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়ে বাড়ির পথ ধরেছে দক্ষিণ আফ্রিকা, জাপান, নেদারল্যান্ডস এবং চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানির মতো পরাশক্তিরা। তবে বিশ্বযজ্ঞের চূড়ান্ত ১৬টি দল নির্ধারণ করতে রাউন্ড অব ৩২-এর আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ বাকি রয়েছে। টুর্নামেন্ট যতই কোয়ার্টার ফাইনালের দিকে এগোচ্ছে, বিশ্বজুড়ে ফুটবল ভক্তদের হৃদস্পন্দন ততই বাড়ছে।
বর্তমান ফুটবল বিশ্বের দুই অবিসংবাদিত মহাতারকা লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর ভক্তদের জন্য এই বিশ্বকাপ নিয়ে এসেছে ইতিহাসের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর সমীকরণ। টুর্নামেন্টের অফিশিয়াল ড্র ও ব্র্যাকেটের হিসাব অনুযায়ী, আর্জেন্টিনা এবং পর্তুগাল এমন দুটি ভিন্ন হাফে (গ্রুপে) অবস্থান করছে, যেখানে ফাইনালের আগে তাদের মুখোমুখি হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। অর্থাৎ, তারা যদি নিজ নিজ ম্যাচে জিততে পারে, তবে কেবল আগামী ১৯ জুলাই নিউইয়র্কের মেগা ফাইনালেই সম্ভব মেসি-রোনালদোর সেই বহুল আকাঙ্ক্ষিত মহাকাব্যিক লড়াই।
সাধারণ ফুটবলপ্রেমী থেকে শুরু করে দুই কিংবদন্তির কোটি কোটি ভক্তের জন্য এটি এক পরম আরাধ্য এবং ঐতিহাসিক মুহূর্ত। তবে ফুটবল ডেসটিনি যদি অন্য কিছু লেখে, অর্থাৎ দুই দলই যদি নিজ নিজ সেমিফাইনালে হেরে যায়, তবুও তাদের দেখা হওয়ার একটি সুযোগ থাকবে; তবে সেটি হবে কেবলই তৃতীয় স্থান নির্ধারণী সান্ত্বনার ম্যাচে।
‘গাছে কাঁঠাল গোঁফে তেল’ নয়, বাস্তবচিত্র কঠিন: কাগজে-কলমে এই স্বপ্নের ফাইনাল অসম্ভব মনে না হলেও, বাস্তব রণক্ষেত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। এই অতিপ্রাকৃতিক ফাইনালে পা রাখতে হলে পর্তুগাল ও আর্জেন্টিনা—দুই দলকেই তাদের সামনে থাকা পরবর্তী ৪টি ম্যাচে (রাউন্ড অব ৩২, রাউন্ড অব ১৬, কোয়ার্টার ফাইনাল ও সেমিফাইনাল) টানা জয় তুলে নিতে হবে। যেকোনো একটি দল যদি একটি ম্যাচেও পা হড়কায়, তবেই ধূলিসাৎ হয়ে যাবে কোটি ভক্তের স্বপ্নের মেসি-রোনালদো ফাইনাল।
স্বপ্নের এই যাত্রায় রাউন্ড অব ৩২-এর আগামী ম্যাচে পর্তুগাল মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ইউরোপের অন্যতম শক্ত প্রতিপক্ষ লুকা মদ্রিচের ক্রোয়েশিয়ার। অন্যদিকে, আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ অপেক্ষাকৃত দুর্বল ও বৈশ্বিক মঞ্চে নতুন পরাশক্তি হিসেবে উদীয়মান আফ্রিকার দল কেপ ভার্দে।
মেসি-রোনালদোর এই স্বপ্নের ফাইনালের পথে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় বিশ্বস্ত 'কাঁটা' বা বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। বিশ্বকাপে নকআউটের গোলমেশিন খ্যাত এই ফরাসি ফরোয়ার্ড ফুটবল বিশ্বের দুই বুড়ো কিংবদন্তিকে টপকে টানা দ্বিতীয়বারের মতো নিজের মাথায় বিশ্বসেরার মুকুট পরতে উন্মুখ হয়ে আছেন।
পর্তুগাল ও ফ্রান্স যদি রাউন্ড অব ৩২ এবং কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত নিজেদের সব ম্যাচে অপরাজিত থেকে জয়লাভ করতে পারে, তবে সেমিফাইনালেই দেখা হয়ে যাবে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল এবং কিলিয়ান এমবাপ্পের ফ্রান্সের। রাউন্ড অব ১৬-র ম্যাচে ফ্রান্সের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ জার্মানিকে বিদায় করে দেওয়া লড়াকু প্যারাগুয়ে।
যদি এমবাপ্পে সেমিফাইনালে রোনালদোর পর্তুগালকে বিদায় করে দিতে পারেন, তবে ফাইনালে আবারও দেখা যেতে পারে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের সেই শ্বাসরুদ্ধকর আর্জেন্টিনা বনাম ফ্রান্স দ্বৈরথ। আর তেমনটা হলে, এবার নিশ্চিতভাবেই এমবাপ্পে চাইবেন টাইব্রেকারের ফলাফলটা যেন লিওনেল মেসির বিপক্ষে এবং তাঁর নিজের দলের পক্ষে আসে।
বিশ্বকাপের দীর্ঘ ১০০ বছরের ইতিহাসে পরপর দুটি আসরে একই দল ফাইনালে মুখোমুখি হওয়ার বিরল ঘটনা ঘটেছে মাত্র একবার। ১৯৮৬ এবং ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপে টানা দুবার ফাইনালে লড়েছিল ডিয়েগো ম্যারাডোনার আর্জেন্টিনা ও লোথার ম্যাথাউসের জার্মানি। যার মধ্যে প্রথমবার ১৯৮৬ সালে আর্জেন্টিনা এবং দ্বিতীয়বার ১৯৯০ সালে জার্মানি শিরোপা জিতেছিল। ২৬-এর বিশ্বকাপে মেসি ও এমবাপ্পে কি পারবেন সেই ১৯৮৬-৯০ এর আর্জেন্টিনা-জার্মানি ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটাতে?
উত্তর আমেরিকা মহাদেশের মাটিতে শেষ পর্যন্ত কারা খেলবে ফাইনালে আর কার হাতে উঠবে সোনালী ট্রফি, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা অসম্ভব। তাই এর চূড়ান্ত উত্তরের জন্য আপাতত সময়ের ওপরই ভরসা রাখতে হচ্ছে ফুটবল বিশ্বকে।
শেষ ১৬ নিশ্চিত: কানাডা, ব্রাজিল, প্যারাগুয়ে, মরক্কো, ফ্রান্স, নরওয়ে ও মেক্সিকো পরবর্তী রাউন্ডে উত্তীর্ণ।
বড় অঘটন: প্রথম রাউন্ড ও রাউন্ড অব ৩২-এর শুরুতেই জার্মানি ও নেদারল্যান্ডসের বিদায়।
স্বপ্নের ফাইনাল: আর্জেন্টিনা ও পর্তুগাল জিতলে কেবল ফাইনাল ম্যাচেই মুখোমুখি হতে পারবে মেসি-রোনালদো।
কঠিন শর্ত: স্বপ্নের ফাইনাল বাস্তব করতে দুই দলকেই নকআউটে টানা ৪টি ম্যাচে জিততে হবে।
সেমিফাইনাল মহাকর্ষ: কোয়ার্টার ফাইনাল জিতলে সেমিফাইনালে দেখা হতে পারে ফ্রান্স ও পর্তুগালের।
ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি: পর্তুগাল হারলে ফাইনালে আবারও দেখা যেতে পারে ২০২২-এর আর্জেন্টিনা বনাম ফ্রান্স রূপকথা।
স্পোর্টস এডিটর | ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ বিশেষ সেল
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর নকআউট পর্বের আপডেটেড ফুল ব্র্যাকেট বা সূচি, পর্তুগাল বনাম ক্রোয়েশিয়া ম্যাচের লাইভ প্রিভিউ, লিওনেল মেসির ইনজুরি ও ফিটনেস আপডেট এবং কাতার বিশ্বকাপের পর উত্তর আমেরিকার মাটিতে আর্জেন্টিনা-ফ্রান্স দ্বৈরথের সব এক্সক্লুসিভ ইনসাইড খবরের দ্রুত আপডেটের জন্য নিয়মিত ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |