রাজনৈতিক প্রতিবেদক | বাংলাদেশ প্রতিদিন
প্রকাশিত: ৮ জুলাই, ২০২৬
দীর্ঘদিন জাতীয় কাউন্সিল না হওয়ায় তৈরি হওয়া সাংগঠনিক স্থবিরতা কাটিয়ে দলীয় কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বিএনপিতে। মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলো দ্রুত পুনর্গঠন, তৃণমূল পর্যায়কে আরও শক্তিশালী করা এবং কাউন্সিলের মাধ্যমে সম্পূর্ণ নতুন নেতৃত্ব বেছে নেওয়ার বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে দলটি। যদিও জাতীয় কাউন্সিলের সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ এখনো চূড়ান্ত হয়নি, তবে চলতি ২০২৬ সালের শেষ কিংবা আগামী ২০২৭ সালের শুরুর দিকেই এই মেগা কাউন্সিল আয়োজনের জোরালো সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন দলীয় শীর্ষ নেতারা।
দলীয় সূত্র জানায়, গত শনিবার রাতে ঢাকা জেলা বিএনপি, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে পৃথক পৃথক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৈঠকে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমে গতি আনা, শৃঙ্খলা বজায় রাখা, তৃণমূল পর্যায়কে আরও শক্তিশালী ও দলীয় ঐক্য সুসংহত করা এবং সাধারণ জনগণের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ বাড়ানোর জন্য কঠোর নির্দেশনা দেন তিনি। একই সঙ্গে সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতিগুলো দ্রুত ও সঠিকভাবে বাস্তবায়নে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর সক্রিয় সহযোগিতার কথা বলেন।
চলমান জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন শেষ হলে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি এবং অন্যান্য অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাদের সঙ্গেও বিএনপি চেয়ারম্যানের বসার কথা রয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য সব মহানগর ও জেলা বিএনপির নেতাদের সঙ্গেও তিনি ধারাবাহিক বৈঠক করবেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির একজন শীর্ষ নেতা জানান, গত সাড়ে চার মাসে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পালন করে সরকারকে একটি স্থিতিশীল ও সুদৃঢ় অবস্থানে নিয়ে এসেছে বিএনপি। কোথায় কী পদক্ষেপ নিতে হবে এবং প্রশাসন কীভাবে চালাতে হবে, তা এখন নীতিনির্ধারকদের পুরোপুরি নখদর্পণে। ফলে সরকারের ভিত মজবুত করার পর এবার দলের সাংগঠনিক দিকে পূর্ণ মনোযোগ দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রবীণ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, সরকার পরিচালনার পাশাপাশি দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমও সমানতালে চলমান রয়েছে। সংসদীয় কার্যক্রম পুরোপুরি শুরু হয়েছে। এখন কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত নতুন করে গোছানো হবে। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীও জানান, দল গোছানোর কাজ পুরোদমে চলছে এবং সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর সাংগঠনিক অবস্থা সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।
বিএনপির সর্বশেষ জাতীয় কাউন্সিল হয়েছিল দীর্ঘ এক দশক আগে, ২০১৬ সালের মার্চে। দলীয় নিয়ম অনুযায়ী তিন বছর পরপর কাউন্সিল হওয়ার কথা থাকলেও তা যথাসময়ে করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে বিএনপির ৮২টি সাংগঠনিক ইউনিটের মধ্যে বেশির ভাগ কমিটিই সম্পূর্ণ মেয়াদোত্তীর্ণ। এমনকি দলটির ১১টি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের মধ্যে ১০টি কমিটির মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। কোথাও তিন বছর, কোথাও পাঁচ বছর, আবার কোথাও এক যুগ ধরে একই পুরোনো কমিটি বহাল রয়েছে। উপরন্তু, সাংগঠনিক ইউনিটের শীর্ষ অনেক নেতা বর্তমানে সরকারের এমপি ও মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দলীয় নেতাকর্মীদের একাংশের মতে, এর ফলে সংগঠনের কার্যক্রমে কার্যত স্থবিরতা তৈরি হয়েছে এবং নতুন নেতৃত্ব তৈরির পথও সংকুচিত হয়ে পড়েছে।
এই পরিস্থিতি দূর করতে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, তারেক রহমান স্পষ্টভাবে বলেছেন— যেসব কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ অবস্থায় রয়েছে, সেগুলোকে দ্রুত পুনর্গঠিত করতে হবে এবং যেখানে সম্ভব সরাসরি কাউন্সিলের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক উপায়ে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করতে হবে।
সাবেক তিনবারের সফল প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া মারা যাওয়ার পর চলতি বছরের জানুয়ারিতে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন তারেক রহমান। দলের শীর্ষ পদে থেকেই প্রথমবার জাতীয় নির্বাচনে অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়েছেন তিনি। দুই-তৃতীয়াংশ আসনে বিশাল জয় এনে জাতীয় সংসদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন।
বর্তমানে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ স্থায়ী কমিটির অনেক সদস্য ও কেন্দ্রীয় নেতারা সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় সামলাচ্ছেন। একই সাথে সংসদীয় কাজেও তারা চরম ব্যস্ত রয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুততম সময়ে দল পুনর্গঠন করতে চান বিএনপি চেয়ারম্যান। সংসদ-সদস্য ও কেন্দ্রীয় নেতারা জানান, দল পুনর্গঠনে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয়, ত্যাগী এবং অপেক্ষাকৃত তরুণ রাজপথমুখী নেতাদের নেতৃত্বে আনার একটি মাস্টারপ্ল্যান রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। জাতীয় কাউন্সিল ও কমিটি পুনর্গঠনের এমন জোরালো আভাসে দলটির সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের মধ্যে ইতোমধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও চাঙা ভাব তৈরি হয়েছে।
মেগা কাউন্সিল: দীর্ঘ এক দশক পর চলতি বছরের শেষে অথবা আগামী বছরের শুরুতে বিএনপির জাতীয় কাউন্সিল হওয়ার সম্ভাবনা।
তারেক রহমানের নির্দেশ: দলের গতি ফেরাতে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলো ভেঙে কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের নির্দেশ।
পূর্ণ মনোযোগ: সাড়ে চার মাসে সরকারের ভিত সুদৃঢ় করার পর এবার পুরোপুরি দল পুনর্গঠনে মনোযোগ দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
কমিটির বর্তমান হাল: ৮২টি সাংগঠনিক ইউনিটের বেশির ভাগ এবং ১১টি অঙ্গসংগঠনের মধ্যে ১০টি কমিটিই বর্তমানে মেয়াদোত্তীর্ণ।
তরুণদের প্রাধান্য: আসন্ন কমিটিতে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয়, ত্যাগী ও অপেক্ষাকৃত তরুণ রাজপথের নেতাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
রাজনৈতিক প্রতিবেদক | বিএনপি রাজনীতি ২০২৬, তারেক রহমানের মন্ত্রিসভা, জাতীয় কাউন্সিল ও দল পুনর্গঠন সেল
ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপিসহ অন্যান্য সহযোগী সংগঠনগুলোর সাথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরবর্তী বৈঠকের তারিখ, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দেওয়া দল পুনর্গঠনের রোডম্যাপ এবং আগামী ২০২৭ সালের সম্ভাব্য জাতীয় কাউন্সিলের ভেন্যু ও চূড়ান্ত তারিখের প্রতি মুহূর্তের খবরের দ্রুত আপডেটের জন্য নিয়মিত ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |