রাজনৈতিক প্রতিবেদক | বাংলাদেশ প্রতিদিন
প্রকাশিত: ৮ জুলাই, ২০২৬
জাতীয় নির্বাচনে ‘ষড়যন্ত্র’ করে ১১ দলীয় ঐক্যকে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি দাবি করেছেন, তৎকালীন নিরপেক্ষ অন্তর্বর্তী সরকারও এই গভীর ষড়যন্ত্রের শরিক ছিল। একই সঙ্গে রাজপথের দীর্ঘদিনের মিত্র দল বিএনপিকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেছেন, “স্মরণ হতে সময় লাগবে না, সরকারের জন্য একটা ঝাঁকুনিই যথেষ্ট।”
আজ বুধবার (৮ জুলাই) রাজধানীর কাকরাইলের ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি) মিলনায়তনে আয়োজিত এক জাতীয় সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই গণহত্যার মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার এবং আমাদের দায়বদ্ধতা’ শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করে ১১ দলীয় ঐক্য।
নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন,
“নির্বাচনে সুক্ষ্ম ষড়যন্ত্র করে জামায়াতসহ ১১ দলকে জোর করে হারানো হয়েছে। জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দল সেদিন যদি রিভোল্ট (বিদ্রোহ) করত বা নির্বাচনের এই পাতানো ফলাফল সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করত, তবে দেশে যে মারাত্মক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতো, তার শেষ কোথায় গিয়ে দাঁড়াত তা কেউ জানে না। তাই দেশ ও জাতির কল্যাণে ১১ দল চরম দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছে।”
তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন, তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের পরিচয় ছিল সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ, কিন্তু তারাও পর্দার আড়ালের এই ষড়যন্ত্রে শরিক ছিল এবং পরবর্তীতে বিষয়টি তারা স্বীকারও করেছে।
সংসদের ভেতরে ও বাইরে বিএনপি নিজেদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি না রেখে জনগণের সঙ্গে স্পষ্ট প্রতারণা করেছে বলে অভিযোগ করেন জামায়াতের আমির। তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, “জাতীয় সংসদের মতো পবিত্র জায়গায় দাঁড়িয়ে প্রতারণার আত্মস্বীকৃত সাক্ষী পাওয়া যায়, যা অত্যন্ত লজ্জাজনক। ভালো হয়েছে জাতি এখন চিনে ফেলছে। বিএনপি সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছিল ‘জুলাই চার্টার’ একটা অন্তহীন প্রতারণার দলিল। আর এই সংসদে দাঁড়িয়েই তারা আবার প্রমাণ করল, তারাই জাতির সঙ্গে অন্তহীন প্রতারণা করেছে।”
বিএনপি নেতাদের বক্তব্যের সমালোচনা করে শফিকুর রহমান বলেন, “তারা বলে—গণভোটের এই ৪টি প্রশ্ন তারা নিজেই বোঝে না, সাধারণ জনগণ বুঝবে কীভাবে? আমার প্রশ্ন হলো—৪টি প্রশ্ন যদি জনগণ না বোঝে, তাহলে আপনাদের দেওয়া ৩১ দফা জনগণ বুঝল কীভাবে? আপনারা মূলত জনগণকে মূর্খ বলছেন, আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।” তিনি যোগ করেন, রাজনীতিবিদরা যদি নিজেদের সুবিধামতো অবস্থান পরিবর্তন করে, তবে রাজনীতির প্রতি মানুষের আস্থা শূন্যের কোঠায় নেমে যাবে।
গণভোটের রায় দ্রুত বাস্তবায়ন করা না হলে রাজপথে মহাবিপ্লবের হুঁশিয়ারি দিয়ে বিরোধী দলের নেতা বলেন, “আমরা সংসদের ভেতরেও চিৎকার দেব, আবার রাজপথে সমানতালে আন্দোলন আরও বেগবান করব। লোহা গরম হয়ে লাল হতে একটু সময় লাগে। কিন্তু যখন লাল হবে, তখন জনগণ হাতে মুগুর নিয়ে ঠিকমতোই পেটাবে।”
বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন একসাথে মজলুম ছিলাম, আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি, নির্বাচন ও সরকার পরিচালনা করেছি। কিন্তু এখন আমাদের কোনো কোনো বন্ধুর ভাষা ও বক্তব্যে মনে হয়, তারা জীবনে আমাদেরকে কোনো দিন চোখেই দেখেন নাই! ভুলে গেছেন এত তাড়াতাড়ি? স্মরণ হতে সময় লাগবে না, একটা ঝাঁকুনিই যথেষ্ট।” তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, নতুন কিংবা পুরোনো—কোনো ধরনের ফ্যাসিবাদই বাংলার মাটিতে আর মেনে নেওয়া হবে না। জেল-জুলুমের ভয় জামায়াতকে দেখিয়ে লাভ নেই।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। সভাপতির বক্তব্যে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে অত্যন্ত সংবেদনশীল ও দূরদর্শী এক বার্তা দেন। অলি আহমদ বলেন:
“১১ দলীয় ঐক্য আপনার কোনো শত্রু নয়। আমরা আপনার এবং দেশের সর্বোচ্চ কল্যাণ চাই। তবে মনে রাখবেন, আপনার চারদিক বর্তমানে শত্রু দ্বারা বেষ্টিত। আপনি ভুলেও কখনো ঢাকার বাইরে রাত্রিযাপন করবেন না। দেশের মঙ্গল ও আপনার নিজের কল্যাণের জন্য রাজনৈতিক সংস্কারের বিষয়গুলো দ্রুত মেনে নিন।”
সেমিনারটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ এবং মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম। সেমিনারে অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ এবং জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধান প্রমুখ। বক্তারা সবাই জুলাই আন্দোলনের চেতনা ধরে রেখে গণভোটের রায় দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ দেন।
ষড়যন্ত্রের অভিযোগ: নির্বাচনে জামায়াতসহ ১১ দলকে ষড়যন্ত্র করে হারানো হয়েছে বলে দাবি শফিকুর রহমানের।
অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা: নির্বাচনের সময় তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারও সেই ষড়যন্ত্রে শরিক ছিল বলে অভিযোগ।
বিএনপিকে তোপ: ৪টি প্রশ্নের গণভোট না বোঝার বাহানা করে বিএনপি জনগণের সাথে প্রতারণা করছে বলে দাবি জামায়াতের।
ঝাঁকুনির হুঁশিয়ারি: পুরোনো মিত্রদের মনে করিয়ে দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, স্মরণ হতে সময় লাগবে না, একটা ঝাঁকুনিই যথেষ্ট।
অলি আহমদের সতর্কবার্তা: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সতর্ক করে অলি আহমদ বলেন, আপনার চারপাশ শত্রুতে ঘেরা, ঢাকার বাইরে রাত কাটাবেন না।
রাজনৈতিক প্রতিবেদক | বাংলাদেশ রাজনীতি ২০২৬, জামায়াতে ইসলামী, ড. শফিকুর রহমান, তারেক রহমানের সংস্কার ও ১১ দলীয় ঐক্য সেল
জামায়াত আমিরের এই বিস্ফোরক বক্তব্যের পর বিএনপির পক্ষ থেকে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বা রুহুল কবির রিজভী কোনো পাল্টা বিবৃতি দিলেন কিনা, অলি আহমদের দেওয়া সিকিউরিটি অ্যালার্ট নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (PMO) থেকে কোনো বিশেষ সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলো কিনা এবং ১১ দলের পরবর্তী আন্দোলনের কর্মসূচির প্রতি মুহূর্তের খবরের দ্রুত আপডেটের জন্য নিয়মিত ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |