ইসলামিক ডেস্ক | বাংলাদেশ প্রতিদিন
প্রকাশিত: ১০ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান বিশ্ব অর্থনীতি ও আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির অন্যতম আলোচিত মাধ্যম ‘ক্রিপ্টোকারেন্সি’ (Cryptocurrency) কেনাবেচাকে ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী সম্পূর্ণ অবৈধ বা ‘হারাম’ ঘোষণা করেছেন মুসলিম বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইসলামি আইনজ্ঞ ও ফকিহ মুফতি মুহাম্মদ তাকি উসমানি। পাকিস্তানের ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষাকেন্দ্র দারুল উলুম করাচির প্রেসিডেন্ট এবং ফেডারেশন অব আরব স্কুলের সভাপতি মুফতি তাকি উসমানি ক্রিপ্টো ট্রেডিংয়ের ধর্মীয় বিধান স্পষ্ট করে এই বিস্তারিত ও যুগান্তকারী ফতোয়া জারি করেছেন।
পাকিস্তানের জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম ‘সামা টিভি’র (Samaa TV) এক বিশেষ প্রতিবেদনে মুফতি তাকি উসমানির এই রুলিং ও ফতোয়ার বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিশ্চিত করা হয়েছে।
জারি করা বিস্তারিত ফতোয়ায় সুনির্দিষ্ট যুক্তি দিয়ে বলা হয়েছে, ক্রিপ্টোকারেন্সি ইসলামি বিধিবিধানে বর্ণিত ‘মাল’ বা বাস্তব সম্পদের মৌলিক শর্তাবলি পূরণ করতে পারে না। যার ফলে এটি সাধারণ মানুষের মধ্যে কেনাবেচা বা ব্যবসার জন্য বৈধ কোনো সম্পদ হিসেবে গণ্য হতে পারে না। এখন পর্যন্ত পাওয়া নির্ভরযোগ্য আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ মতামত, প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ ও গবেষণার ওপর ভিত্তি করে ফতোয়ায় উল্লেখ করা হয়— ক্রিপ্টোকারেন্সি কোনো বাস্তব, দৃশ্যমান বা শরিয়াহ-স্বীকৃত সম্পদ নয়; বরং এটি ডিজিটাল অ্যাকাউন্টে সিকিউরড কোডিংয়ের মাধ্যমে থাকা কিছু কাল্পনিক বা ভার্চুয়াল সংখ্যার সমষ্টি মাত্র।
ইসলামি ব্যাংকিং ও বাণিজ্যিক আইনের অন্যতম রূপকার মুফতি তাকি উসমানি স্পষ্ট করেছেন যে, ইসলামি আইনে কোনো জিনিসের বৈধ মালিকানা (Ownership) সাব্যস্ত হওয়ার জন্য যেসব শর্ত থাকা আবশ্যক, ক্রিপ্টোকারেন্সি সেগুলো পূরণ করতে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছে। এর পেছনে কোনো দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বা সরকারের সার্বভৌম গ্যারান্টি ও আইনি স্বীকৃতি নেই। তাই এর মাধ্যমে যেকোনো ধরনের আর্থিক ক্রয়-বিক্রয় বা ভার্চুয়াল ক্রিপ্টো মাইনিংকে শরিয়াহসম্মত বৈধ লেনদেন হিসেবে দেখার কোনো সুযোগ নেই।
দারুল উলুম করাচির এই ফতোয়া অনুযায়ী, বিটকয়েন (Bitcoin), ইউএসডিটি (USDT), স্টেবলকয়েন কিংবা আন্তর্জাতিক বাজারে থাকা অন্য যেকোনো নামের ক্রিপ্টো টোকেনের মাধ্যমে পণ্য কেনা, ক্রিপ্টো হোল্ড করা বা যেকোনো ধরনের লেনদেন করা শরিয়াহসম্মত নয়। ভার্চুয়াল কারেন্সি, ডিজিটাল সম্পদ, ক্রিপ্টো টোকেন কিংবা স্টেবলকয়েন— যে নামেই এই ডিজিটাল অ্যাসেটগুলো বাজারে বিপণন বা বাজারজাত করা হোক না কেন, সবগুলোর ক্ষেত্রেই একই শরিয়াহ নিয়ম প্রযোজ্য হবে এবং ইসলামি বাণিজ্যিক নীতি অনুযায়ী এগুলো সবই অবৈধ বা নিষিদ্ধ বলে গণ্য হবে।
ফতোয়া প্রদানকারী শীর্ষ আলেমরা আরও যুক্তি দেখিয়েছেন, ইসলামি ফিকহ ও ফিন্যান্স অনুযায়ী বৈধ মালিকানা, জিম্মাদারি এবং সম্পদের যে সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা রয়েছে, এই উথাল-পাথাল হওয়া ডিজিটাল মুদ্রাগুলো তা পূরণে সম্পূর্ণ ব্যর্থ। ফলে শরিয়াহর কঠোর দৃষ্টিকোণ থেকে ক্রিপ্টোকারেন্সি ট্রেডিং বা এর মাধ্যমে জুয়াসুলভ ফিউচার লেনদেন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ইসলামি বাণিজ্যিক নীতিমালার আলোকে বিশ্ববরেণ্য আলেম মুফতি তাকি উসমানির দেওয়া এই রুলিংটি ক্রিপ্টোকারেন্সির ধর্মীয় বৈধতা নিয়ে বিশ্বজুড়ে ইসলামি স্কলার, ব্যাংকার ও সাধারণ মুসলিমদের মধ্যে চলমান দীর্ঘদিনের বিতর্কে এক নতুন ও চূড়ান্ত মাত্রা যোগ করল।
পূর্ণাঙ্গ হারাম ঘোষণা: বিটকয়েন ও ক্রিপ্টোকারেন্সি কেনাবেচাকে ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী ‘হারাম’ ঘোষণা করলেন মুফতি তাকি উসমানি।
কাল্পনিক সংখ্যার সমষ্টি: ফতোয়া অনুযায়ী, ক্রিপ্টোকারেন্সি কোনো বাস্তব সম্পদ নয়, এটি ডিজিটাল অ্যাকাউন্টে থাকা কিছু সংখ্যার সমষ্টি মাত্র।
সব ক্রিপ্টো নিষিদ্ধ: বিটকয়েনের পাশাপাশি ইউএসডিটি (USDT), স্টেবলকয়েন বা যেকোনো ক্রিপ্টো টোকেন লেনদেন অবৈধ।
মালিকানার শর্তে ব্যর্থ: ইসলামি আইন অনুযায়ী বৈধ মালিকানা ও ‘মাল’ বা সম্পদের শর্ত পূরণে ব্যর্থ হয়েছে ক্রিপ্টো।
দারুল উলুম করাচির রুলিং: পাকিস্তানের ঐতিহ্যবাহী দারুল উলুম করাচি থেকে এই আন্তর্জাতিক ফতোয়াটি জারি করা হয়।
ইসলামিক ডেস্ক | ক্রিপ্টোকারেন্সি ইসলামি বিধান, মুফতি তাকি উসমানির ফতোয়া, বিটকয়েন হালাল নাকি হারাম ও দারুল উলুম করাচি সেল
মুফতি তাকি উসমানির এই ফতোয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যের ইসলামি ব্যাংকগুলো ক্রিপ্টোকারেন্সি নিয়ে নতুন কোনো পলিসি দিল কিনা, ডিজিটাল কারেন্সি ও ব্লকচেইন প্রযুক্তির বিষয়ে অন্যান্য আন্তর্জাতিক ফিকহ একাডেমির সবশেষ রুলিং এবং শরিয়াহ ফিন্যান্সের প্রতি মুহূর্তের খবরের দ্রুত আপডেটের জন্য নিয়মিত ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |