সংসদীয় প্রতিবেদক | জাতীয় সংসদ
সর্বশেষ আপডেট: ১৫ জুলাই, ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেছেন, বর্তমান নির্বাচিত সরকার কোনো অবস্থাতেই দেশে কোনো ধরনের চরমপন্থা কিংবা উগ্রবাদকে প্রশ্রয় দেবে না। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, উগ্রবাদ ও চরমপন্থাকে কঠোরভাবে দমন করার প্রশ্নে সরকারের পাশাপাশি বিরোধী দলেরও শতভাগ সহযোগিতা ও সমর্থন পাওয়া যাবে।
বুধবার (১৫ জুলাই, ২০২৬) জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের (বাজেট অধিবেশন) অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ সমাপনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
সংসদের চিরায়ত সৌন্দর্য ও গণতান্ত্রিক রীতিনীতির প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন:
“সংসদের নিয়ম অনুযায়ী বিরোধী দলের সঙ্গে আমাদের নীতিগত মতভিন্নতা থাকবে। তবে অবশ্যই মনে রাখতে হবে—এটি শত্রুতা নয়। প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধের রাজনীতির পরিবর্তে আমাদের সরকারে থাকবে কেবল ন্যায়পরায়ণতা। বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যের সঙ্গে পূর্ণ একমত হয়ে বলতে চাই—এই বাংলাদেশ আর যাতে কখনো কোনোভাবেই ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচারের কবলে পড়ে মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, এ দেশ যেন আর কখনো কোনো তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত না হয়, এই প্রশ্নে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে এক ইস্পাতকঠিন জাতীয় ঐক্য রয়েছে। যেকোনো মূল্যে এই জাতীয় ঐক্য বজায় রাখা হবে।”
নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জনকে সরকারের মূল অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন সংসদ নেতা। তিনি জানান:
১ কোটি কর্মসংস্থান: তরুণ ও বেকার জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের জন্য বিভিন্ন সেক্টরে ভাগ করে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে দেশে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি সম্ভব হবে।
ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ড: পিছিয়ে পড়া ও শ্রমজীবী মানুষদের ন্যূনতম রাষ্ট্রীয় সেবা নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ বিভিন্ন কার্ড চালু করা হয়েছে।
ইউনিভার্সেল কার্ড (Universal Card): পর্যায়ক্রমে দেশের সব কার্ডকে একীভূত করে একটি একক সমন্বিত ‘ইউনিভার্সেল কার্ড’ ব্যবস্থার আওতায় নিয়ে আসা হবে।
বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে সুপরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করার তীব্র সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “ফ্যাসিবাদ-স্বৈরাচার কোনো একটি বিশেষ গোষ্ঠী বা কোনো একটি বিশেষ দেশকে খুশি করতে এ দেশের মেরুদণ্ড তথা শিক্ষা খাতকে ধ্বংস করার নীল নকশা গ্রহণ করেছিল। নকলকে উৎসাহিত করা ও অটো প্রমোশন দিয়ে ছাত্রদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার করা হয়েছিল।”
🩺 ও 📚 শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের রোডম্যাপ:
• শিক্ষা খাত: আগামী ৫ বছরের মধ্যে শিক্ষা খাতে বার্ষিক বাজেট বরাদ্দ জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করা হবে।
• স্বাস্থ্য খাত: বর্তমানে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ ১.২ শতাংশ। আগামী ৫ বছরে এটিকেও জিডিপির ৫ শতাংশে নিয়ে যাওয়া হবে।
চিকিৎসা খাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “স্বৈরাচারী সরকার বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থাকে মনে হয় অন্য কারো হাতে তুলে দিয়েছিল। অন্য দেশকে সুবিধা দেওয়ার জন্যই দেশীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়। আমরা চিকিৎসা ব্যবস্থাকে শতভাগ জনগণের উপযোগী করে গড়ে তুলব।”
আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কালের মেগা প্রকল্পের আড়ালে মেগা দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, বিগত সরকারের আমলে কেবল বিদ্যুৎ খাত থেকেই কমপক্ষে ৩ লাখ কোটি টাকা হরিলুট হয়েছে। কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র ছিল তাদের ‘কুইক দুর্নীতির’ অন্যতম প্রধান খাত, যেখানে ক্যাপাসিটি চার্জ বাবদ ১ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা অপচয় করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “ফ্যাসিস্টদের আমলে দেশ থেকে প্রতি বছর গড়ে ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পাচার করা হয়েছে। এই সর্বগ্রাসী দুর্নীতির টুটি চেপে ধরে কঠোর নিয়ন্ত্রণে আমরা বদ্ধপরিকর।” পাশাপাশি পেশাদার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গড়ে তোলা এবং দক্ষিণ প্লাজায় স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক ‘জুলাই সনদ’-এর প্রতিটি দফা বাস্তবায়নে সরকার জনগণের কাছে শতভাগ দায়বদ্ধ ও অঙ্গীকারাবদ্ধ বলে পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |