আন্তর্জাতিক ডেস্ক
সর্বশেষ আপডেট: ১৭ জুলাই, ২০২৬
পাকিস্তানের চরম অশান্ত ও ভূরাজনৈতিকভাবে উত্তপ্ত বেলুচিস্তান প্রদেশে একটি সামরিক নিরাপত্তা বহরে অতর্কিত ও ভয়াবহ হামলায় অন্তত ৪৫ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছেন। স্থানীয় প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘বেলুচিস্তান পোস্ট’-এর বরাত দিয়ে জানা গেছে, প্রদেশের মস্তুং এলাকার কাছে এই রক্তক্ষয়ী হামলার ঘটনা ঘটে। সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী বেলুচ লিবারেশন আর্মি (BLA) ইতোমধ্যেই এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। চলতি মাসে বেলুচিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর এটি চতুর্থ এবং গত দুই সপ্তাহের মধ্যে তৃতীয় বড় ধরনের আত্মঘাতী ধাঁচের হামলা।
পাকিস্তান সেনাবাহিনী হামলার খবর নিশ্চিত করলেও কৌশলগত কারণে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের নিহতের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করেনি। অন্যদিকে, বিএলএ-র মুখপাত্র জিয়ান্দ বেলুচ এক বিবৃতিতে দাবি করেছেন, তাদের বিশেষায়িত ‘ফাতেহ স্কোয়াড’ অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে এই অপারেশনটি চালিয়েছে। মূল নিরাপত্তা বহর এবং পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজে আসা অতিরিক্ত সেনা দলকেও লক্ষ্য করে তারা দ্বিতীয় দফায় হামলা চালায়। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই সম্মুখ সমরে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বেলুচিস্তানে একের পর এক সমন্বিত ও প্রাণঘাতী জঙ্গি হামলার পর চলতি সপ্তাহেই পাকিস্তান সেনাবাহিনী ‘অপারেশন শাবান’ নামে একটি বৃহৎ যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করেছে।
কারেন্ট স্ট্যাটাস ও অপারেশন শাবান (Operation Shaban):
• লক্ষ্য: বিএলএ (BLA) ও টিটিপি (TTP) এর গোপন আস্তানা গুঁড়িয়ে দেওয়া।
• যৌথ বাহিনী: পাকিস্তান সেনাবাহিনী, ফ্রন্টিয়ার কোর (FC) এবং বেলুচিস্তান পুলিশ।
• লজিস্টিক সাপোর্ট: গোয়েন্দা সংস্থা (ISI) এবং পাকিস্তান বিমানবাহিনীর (PAF) যুদ্ধবিমান।
এই হামলার জবাবে পাকিস্তানের সামরিক মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “এই ঘটনার পেছনে মাস্টারমাইন্ডদের খুঁজে বের করে কঠোরতম শাস্তি দেওয়া হবে। জঙ্গিরা যেন সেনাবাহিনীর কাছ থেকে কোনো ধরনের নমনীয়তা আশা না করে।”
সাম্প্রতিক সময়ে বেলুচিস্তানে পাকিস্তান নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর একের পর এক বড় আঘাত এসেছে। ভারতের গণমাধ্যম ‘দ্য প্রিন্ট’ (The Print)-এর তথ্য অনুযায়ী জুলাইয়ের ঘটনাপ্রবাহ:
৬-৯ জুলাই: বিএলএ এবং তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) বেশ কয়েকটি বড় হামলা চালায়। এর মধ্যে ৭ জুলাই টিটিপির হামলায় ১৮ জন পুলিশ সদস্যকে জিম্মি করার পর নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
৮ জুলাই: লাসবেলা জেলার এন-২৫ মহাসড়কে আরেকটি সেনা বহরে হামলায় ১১ সেনা নিহত হন (যদিও বিএলএ-র দাবি অনুযায়ী নিহতের সংখ্যা ছিল ১৭)।
মাঙ্গি ড্যাম এলাকা: জিয়ারত জেলার মাঙ্গি ড্যাম এলাকায় এক পৃথক হামলায় ২৭ জন পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হন।
নিরাপত্তা ব্যবস্থার এমন চরম ত্রুটি ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা খতিয়ে দেখতে ইতোমধ্যে একটি চার সদস্যের উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
প্রাকৃতিক গ্যাস ও খনিজ সম্পদে ভরপুর হলেও বেলুচিস্তান পাকিস্তানের অন্যতম অনগ্রসর, দরিদ্র ও স্বল্প জনসংখ্যার প্রদেশ। দীর্ঘদিন ধরেই এই অঞ্চলে রাজনৈতিক স্বায়ত্তশাসন এবং স্থানীয় প্রাকৃতিক সম্পদের ন্যায্য হিস্যার দাবিতে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন চলছে। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রদেশটি ইরান ও আফগানিস্তান সীমান্তের কোল ঘেঁষে অবস্থিত।
চীনের স্বার্থ ও নিরাপত্তা ঝুঁকি: বেইজিংয়ের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (BRI)-এর আওতায় নির্মিত পাকিস্তানের সবচেয়ে মেগা প্রজেক্ট গভীর সমুদ্রবন্দর ‘গাওয়াদর’ এই প্রদেশেই অবস্থিত। এর ফলে এই অঞ্চলটি যেমন ইসলামাবাদের অর্থনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার মূল কেন্দ্রবিন্দু, ঠিক তেমনি চীনের কর্মকর্তাদের ওপর বারবার হামলার কারণে এটি এখন পাকিস্তানের জন্য সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একের পর এক এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ফলে পুরো বেলুচিস্তান জুড়ে এখন যুদ্ধাবস্থা ও চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |