আন্তর্জাতিক ডেস্ক
সর্বশেষ আপডেট: ১৯ জুলাই, ২০২৬
আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) বার্ষিক অধিবেশনে যোগ দিতে দখলদার ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে পা রাখলে তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব কিনা, সে বিষয়ে নগর কর্তৃপক্ষের আইন বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা শুরু করেছেন নিউইয়র্ক সিটির নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানি। মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘দ্য নিউইয়র্ক টাইমস’ (The New York Times)-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি নিজেই এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছেন। কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আলজাজিরা (Al Jazeera) এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
শনিবার (১৮ জুলাই, ২০২৬) প্রকাশিত ওই সাক্ষাৎকারে জোহরান মামদানি সাফ জানান, গাজায় ভয়াবহ মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানার মুখোমুখি হওয়া নেতানিয়াহুকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া উচিত নয় এবং তাকে দ্রুত বিচারের আওতায় আনা উচিত।
ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকারের পক্ষে বিশ্বজুড়ে সরব ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্ট নেতা জোহরান মামদানি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে বলেন:
“আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর প্রকৃত স্থান এখন নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে (আন্তর্জাতিক আদালতের কাঠগড়ায়)। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (ICC) তাকে যুদ্ধাপরাধের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে অভিযুক্ত করেছে। গত কয়েক বছরে গাজায় তার চালানো নৃশংস কর্মকাণ্ডের কারণে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ আজ একই মত পোষণ করেন।”
মেয়র নির্বাচনি প্রচারণার সময়ও মামদানি নিউইয়র্কের ভোটারদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে এলে তাকে গ্রেফতারের আইনি উদ্যোগ নেবেন। তবে মার্কিন মাটিতে একজন বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানকে গ্রেফতারের স্থানীয় আইনি সক্ষমতা ও কূটনৈতিক দায়মুক্তি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছিল।
সেই প্রশ্নের জবাবে সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “নিউইয়র্ক সিটির আইন বিভাগের সঙ্গে আমাদের সক্রিয় ও আনুষ্ঠানিক আলোচনা চলছে। আইন আমাকে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র হিসেবে যতটুকু করার অনুমতি দেয়, আমরা ঠিক ততটুকুই করব। তবে এই সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে আমরা নতুন কোনো আইন তৈরি করতে যাচ্ছি না।”
মেয়র মামদানির এমন বিস্ফোরক বক্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন খোদ ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এক মার্কিন রেডিও উপস্থাপক সিড রোজেনবার্গকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু দাবি করেন, “মেয়র মামদানি মূলত গোপনে আমেরিকাকে মনেপ্রাণে ঘৃণা করেন।”
অন্যদিকে জাতিসংঘে নিযুক্ত ইসরাইলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, গ্রেফতারের এই ধরণের হুমকি সত্ত্বেও আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নেতানিয়াহু পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী নিউইয়র্কে যাবেন।
🚨 নির্বাচন ও বর্ণবাদের শিকার মামদানি:
• বর্ণবাদী আক্রমণ: মেয়র নির্বাচনি প্রচারণার সময় মামদানি তীব্র ইসলামবিদ্বেষমূলক মন্তব্য ও ব্যক্তিগত আক্রমণের শিকার হন। কট্টরপন্থী রেডিও উপস্থাপক সিড রোজেনবার্গ তাকে প্রকাশ্যে ‘তেলাপোকা’ বলে সম্বোধন করেন, যদিও পরে তীব্র নিন্দার মুখে তিনি ক্ষমা চান।
• জনমতের প্রতিফলন: মে মাসে প্রকাশিত এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৭৫% ডেমোক্র্যাট ভোটার ইসরাইলকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তার তীব্র বিরোধিতা করছেন, যা তিন বছর আগে ছিল মাত্র ৪৫%।
• নীতিতে পরিবর্তন: মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে (House of Representatives) ডেমোক্র্যাট সদস্যদের প্রায় অর্ধেকই এখন ইসরাইলকে মার্কিন সামরিক ও আর্থিক সহায়তা বন্ধের পক্ষে ভোট দিচ্ছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও জনমতে ইসরাইলবিরোধী এই অভূতপূর্ব পরিবর্তন ডেমোক্র্যাট দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নীতিতে এখনও বড় প্রভাব না ফেললেও, জোহরান মামদানির মতো প্রগতিশীল নেতাদের এমন কঠোর অবস্থান বাইডেন-ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর আগামী দিনে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের রায় বাস্তবায়নে বড় ধরণের মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |